BMC Election 2026

মুম্বইয়ে দুর্গরক্ষায় তৎপর উদ্ধব, হোটেলবন্দি শিন্দেসেনার জয়ী প্রার্থীরা! মেয়র বাছাইয়ের সময় নাটকীয় পরিস্থিতি হবে?

সদ্যসমাপ্ত বিএমসি নির্বাচনে বিজেপি সর্বকালের সেরা ফল করেছে। ধাক্কা খেয়েছে ঠাকরে পরিবার। তবে ফলপ্রকাশের পর এখন সকলের নজর শিবসেনাপ্রধান উদ্ধব এবং মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দের দিকে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৪১
উদ্ধব ঠাকরে।

উদ্ধব ঠাকরে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বৃহন্মুম্বইয়ে কি ঠাকরে দুর্গের সত্যিই পতন হল? আপাতত পুরভোটের (বিএমসি) ফলাফল সে কথাই বলছে। কিন্তু উদ্ধব ঠাকরে মনে করেন, ‘‘খেলা এখনও বাকি!’’ তাঁর মতে, ‘‘পুরভোট শেষ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আসল রাজনীতি এখনও উন্মোচিত হয়নি।’’

Advertisement

সদ্যপ্রকাশিত বিএমসি নির্বাচনে বিজেপি সর্বকালের সেরা ফল পেয়েছে, যা বৃহন্মুম্বইয়ে ঠাকরে পরিবারকে ধাক্কা দিয়েছে। তবে ভোটের ফলপ্রকাশের পর এখন সকলের নজর শিবসেনা প্রধান উদ্ধব এবং মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দের দিকে! গত পুরভোটেও এই উদ্ধব এবং একনাথ এক শিবিরে ছিলেন! বৃহন্মুম্বই পেয়েছিল সেনার মেয়র। কিন্তু একনাথ উদ্ধবের হাত ছাড়তেই সব হিসাব ওলটপালট হয়ে যায়। উদ্ধব নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটে। একনাথকে মুখ্যমন্ত্রী করে সরকার গড়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন ‘মহাজুটি’। গত বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধী জোট ‘মহাবিকাশ আঘাড়ী’-কে হারিয়ে ক্ষমতা ধরে রেখেছে তারা। তবে মুখ্যমন্ত্রী পদে বদল হয়েছে। একনাথের বদলে বিজেপির দেবেন্দ্র ফডণবীস মুখ্যমন্ত্রী হন আর একনাথ পান উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ।

মুখ্যমন্ত্রীর পদ নিয়ে বিজেপি এবং একনাথের শিন্দেসেনার মধ্যে চাপা মতানৈক্য দেখা গিয়েছিল। অনেকের মতে, সেই আগুন এখনও চাপা রয়েছে। বৃহন্মুম্বই পুরসভা ভোটে জয়ের পর মেয়র বাছাই নিয়ে আবার ‘দ্বন্দ্ব’ দেখা দিতে পারে। বিজেপির থেকে মেয়র হলে তা কি মেনে নেবেন একনাথ? পর্যবেক্ষকদের একাংশের মত, সেই বিরোধকেই কাজে লাগাতে চাইছে উদ্ধব শিবির।

বিজেপি ও শিন্দের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা যথাক্রমে ৮৯ ও ২৯। উদ্ধবের শিবসেনা (ইউবিটি), রাজ ঠাকরের মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার (এমএনএস) ও শরদ পওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি(এসপি) জোট মোট ৭২টি আসন পেয়েছে। এর মধ্যে নবনির্মাণ সেনা ৬ ও শরদ পাওয়ারের দল ১টি আসনে জয়ী। ৬৫ আসন গিয়েছে উদ্ধবের দলের দখলে। কংগ্রেস, এআইএমআইএম, অজিত পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি ও সমাজবাদী পার্টি যথাক্রমে ২৪, ৮, ৩ ও ২টি আসনে জিতেছে।

২২৭ ওয়ার্ডের বিএমসি-তে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে জিততে হয় ১১৪টি আসন। নির্বাচনের ফল থেকে স্পষ্ট কোনও দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। বিজেপি ও শিন্দের মিলিত প্রাপ্ত ওয়ার্ড ১১৮। সরকারে থাকা অজিত পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি একক ভাবে লড়ে তিনটি ওয়ার্ড জিতেছে। তারা যদি শাসক জোটকে সমর্থন করে তবে ‘মহাজুটি’র প্রাপ্ত ওয়ার্ডের সংখ্যা দাঁড়াবে ১২১-এ। জাদুসংখ্যার থেকে সাতটি বেশি।

তবে এই সাত আসন কি সত্যিই সুরক্ষিত? বিরোধীরা যদি আবার জোটবদ্ধ হয় তবে হিসাব বলছে, মিলিত ওয়ার্ডের সংখ্যা দাঁড়াবে ১০৬। জাদুসংখ্যার থেকে আটটি কম। বিএমসি নির্বাচনে বিজেপি-শিন্দেসেনার জোট অঙ্কের হিসেবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও কোনও দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। আর তাতেই তৈরি হয়েছে জল্পনা। একনাথ যে ছকে শিবসেনা ভেঙে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকার গড়েছিলেন, সেই ছকেই তাঁর দলের জয়ী প্রার্থীদের ভাঙিয়ে বৃহন্মুম্বইয়ে ঠাকরে গড় অক্ষুণ্ণ রাখার চেষ্টা করতে পারেন উদ্ধব! সেই জল্পনা উড়িয়ে দিচ্ছে না রাজনৈতিক মহল।

একনাথও বুঝে গিয়েছেন সেই অঙ্কের হিসাব। বিরোধীদের জোটের সম্ভাবনা তৈরি হতেই শিন্দেশিবিরের জয়ী প্রার্থীদের ইতিমধ্যেই হোটেলবন্দি করা হয়েছে। শিন্দের দলের নির্বাচিতেরা বিরোধীদের সঙ্গে হাত মেলালে বিএমসি ফের বাল ঠাকরের অনুগামীদের হাতেই যাবে। উদ্ধবও সেই ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন। শনিবার তিনি জানান, মুম্বইয়ে শিবসেনা (ইউবিটি)-র মেয়রকে বসানো তাঁর স্বপ্ন। ঈশ্বরের ইচ্ছা থাকলে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। এখন সকলেরই নজর কোন পথে গড়ায় বৃহন্মুম্বইয়ের পুর-রাজনীতি! উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সাল থেকে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে মসনদ ছিল অবিভক্ত শিবসেনার দখলে। এর আগে গত ২০১৭ সালে বৃহন্মুম্বইয়ে নির্বাচন হয়েছিল, যার মেয়াদ ছিল ২০২২ সাল পর্যন্ত। তার পর থেকে কমিশনারদের দ্বারাই পুরনিগম পরিচালনা হত।

Advertisement
আরও পড়ুন