Tipraland

ভোট-প্রচারে তিপ্রাল্যান্ড, মানিক দুষছেন মথা ও প্রদ্যোতকে

রাজ্যের গোমতী জেলার নতুনবাজার-মালবাসা বিধানসভা এলাকার পাহাড়পুরের কুঞ্জরাম পাড়ার জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ তোলেন, মথা জনজাতিদের আবেগ নিয়ে খেলছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ১০:১৭

—প্রতীকী চিত্র।

‘ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদ’-এর নির্বাচনে ফের চর্চায় ফিরে এল ‘তিপ্রাল্যান্ড’। এই নির্বাচনে রাজ্য সরকারের দুই শরিক বিজেপি এবং তিপ্রা মথা পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়ছে। এই আবহে প্রচারে বেরিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা অভিযোগ করলেন, তিপ্রা মথা ‘গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড’-এর জিগির তুলে জনজাতি ভোটারদের প্রচারের হাতিয়ার করে বিভ্রান্ত করছে। মথার শীর্ষ নেতা প্রদ্যোত কিশোর মাণিক্য দেববর্মার উদ্দেশে তাঁর কটাক্ষ, ‘‘রাজ্যে রাজতন্ত্র নেই। কিন্তু আচরণ রাজার মতো!’’

রাজ্যের গোমতী জেলার নতুনবাজার-মালবাসা বিধানসভা এলাকার পাহাড়পুরের কুঞ্জরাম পাড়ার জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ তোলেন, মথা জনজাতিদের আবেগ নিয়ে খেলছে। তাঁর কথায়, ‘‘এই দলটি মাঝে মাঝে ‘থানসা’ (ঐক্য), ‘গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড’, পুইলা জাতি’ (জাতি প্রথম)-র মতো কথা বলে জনজাতিদের বিভ্রান্ত করছে। মানিকের দাবি, “ওরা শুধু মিথ্যা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করে। বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকারই জনজাতিদের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারবে।”

মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ তোলেন, এই নির্বাচনে মথার সাথে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তাদের অসহযোগিতার জন্যই তা ব্যর্থ হয়েছে। বিজেপি সব সময়ে আঞ্চলিক দলকে সঙ্গে নিয়ে চলতে চায়। শরিক দলকে দুষে তিনি বলেন, রাজ্যের জনগণ শান্তি চাইলেও মথা অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করে। গন্ডগোল করলে কাউকে ছাড়া হবে না। মথা প্রধান প্রদ্যোত কিশোর ত্রিপুরার মাণিক্য রাজবংশের উত্তরাধিকারী। তাঁকে কটাক্ষ করে মানিক বলেন, ‘‘এখন রাজতন্ত্র নেই, গণতন্ত্রের যুগ। এই সত্য মানতে হবে।’’

দুই শরিকের এই যুযুধান অবস্থা নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশিস কুমার সাহা বলেন, ‘‘যখন তাঁরা মন্ত্রিসভায় থাকেন, একই সঙ্গে সরকার চালান, তখন কি প্রদ্যোতের রাজতন্ত্রের কথা মানিক সাহাদের মনে পড়ে না?’’ তাঁর মতে, বিজেপি ও মথাই আসলে নিজেদের মধ্যে ঝামেলা চালিয়ে জনতাকে বিভ্রান্ত করছে।

আরও পড়ুন