TMC on Gyanesh Kumar

জ্ঞানেশ: রাজ্যসভায় কক্ষত্যাগ তৃণমূলের

নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপের নিন্দা করেছেন এসপি নেতা অখিলেশ যাদবও।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৭ মার্চ ২০২৬ ০৯:১৩
ডেরেক ও’ব্রায়েন।

ডেরেক ও’ব্রায়েন। ফাইল চিত্র।

বিধানসভার নির্ঘণ্ট প্রকাশের পরই রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টিকে সংসদে তুলল তৃণমূল।

আজ রাজ্যসভার জ়িরো আওয়ার শুরু হওয়ার মুখে দলের নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, “মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে উঠছেন। মধ্যরাতে তাঁরা পশ্চিমবঙ্গে সরকারের সচিবদের সরিয়ে দিয়েছেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করছে নির্বাচন কমিশন। যা মনে হচ্ছে সেটাই করছেন। আমি এখন সাদা শার্ট পরে রয়েছি, ওঁরা হয়তো বললেন আমি নীল রং পরে আছি! পরিস্থিতি যা তাতে আমায় সেটাই মেনে নিতে হবে।” এর পর একাই গোটা দিনের জন্য কক্ষত্যাগ করে তৃণমূল। স্লোগান দেওয়া হয়, ‘মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরানোর প্রস্তাব সংসদে নিয়ে এসো।’ পরে ডেরেক জানান, “আমরা সমস্ত বিরোধী দলের সঙ্গে সংযোগে রয়েছি। বিষয়টি নিয়ে সবাই অসন্তুষ্ট।’’ তৃণমূলের বক্তব্য, দিল্লির ইশারাতেই কমিশন এই কাজ করেছে।

নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপের নিন্দা করেছেন এসপি নেতা অখিলেশ যাদবও। রাজ্যের সচিবদের সরিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এটা এখন আর গোপন নেই। এটা প্রকাশ্যেই চলে এসেছে যে, নির্বাচন কমিশন বিজেপির হয়ে কাজ করছে।” কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা বলেন, “রাজ্যগুলির নির্বাচনের তারিখ যে ভাবে ঘোষণা করা হল এবং দফা স্থির করা হল— তাতে স্পষ্ট, বিজেপির যাতে সুবিধা হয়, সে ভাবেই সবটা সাজানো হয়েছে।”

তৃণমূল জানিয়েছিল, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরানোর প্রস্তাব আনার যে নোটিস লোকসভা এবং রাজ্যসভায় জমা দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে নিজেদের অবস্থানে অটল থাকা হবে। আজ বিরোধী শিবির সূত্রে জানা গিয়েছে, নোটিসের সঙ্গে যে চিঠিটি জমা দেওয়া হয়েছে, তাতে জ্ঞানেশের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের বিষয়টি রয়েছে। গত বছর জ্ঞানেশের নামে আপত্তি জানিয়ে রাহুল গান্ধী যে ‘নোট’ দিয়েছিলেন, তারও উল্লেখ রয়েছে নোটিসে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল বিদায়ী সিইসি রাজীব কুমারের উত্তরসূরি মনোনয়নের জন্য বৈঠকে বসেছিলেন। সেখানে জ্ঞানেশের নামে আপত্তি জানিয়ে ওই ‘ডিসেন্ট নোটে’ রাহুল লিখেছিলেন, “কমিটির গঠন এবং প্রক্রিয়া সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে শুনানির থাকা সত্ত্বেও নতুন সিইসি নির্বাচনের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যরাতে সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত অসম্মানজনক ও অশোভন।”

২০২৫ সালের অগস্টে সাংবাদিক বৈঠক থেকে রাহুলের উদ্দেশে সিইসি-র প্রকাশ্য হুমকির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে বিরোধী সাংসদদের নোটিসে। বিরোধীদের ‘ভোট চুরি’র অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জ্ঞানেশ বলেছিলেন, ‘‘বিরোধী দলনেতাকে হয় ক্ষমা চাইতে হবে, নয় নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী স্বাক্ষরিত হলফনামা দিয়ে তিনি তাঁর দাবিপ্রমাণ করুন।’’

আরও পড়ুন