Terrorists list of MHA

‘কাশ্মীরে নাশকতার ষড়যন্ত্রে জড়িত’, লশকর, জইশের ২৩ পাক কমান্ডারকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ ঘোষণা ইউএপিএ-তে

এর আগে ২০১৯ সালে প্রথম বার ইউএপিএ-তে দাউদ ইব্রাহিম, হাফিজ সইদ, জাকিউর রহমান লকভি এবং মৌলানা মাসুদ আজহারদের ‘সন্ত্রাসবাদী’ ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ ১৩:৩৪

প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

জম্মু ও কাশ্মীরের নাশকতামূলক কার্যকলাপের ষড়যন্ত্রে জড়িত ২৩ জনকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ ঘোষণা করল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার। বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (ইউএপিএ) অনুযায়ী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে শনিবার এ বিষয়ে গেজেট নোটিফিকেশন জারি করা হয়েছে।

Advertisement

ঘটনাচক্রে, ওই ২৩ জন সন্ত্রাসবাদীই পাকিস্তানি নাগরিক বা পাকিস্তানে অবস্থানরত। লশকর-এ-ত্যায়বা, জইশ-ই-মহম্মদ বা গত বছর পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় পর্যটক হত্যাকাণ্ডে জড়িত ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (টিআরএফ)-এর মতো ‘হাইব্রিড টেররিজ়ম’-এ জড়িত ‘নিষিদ্ধ’ সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর কমান্ডারেরা রয়েছেন এই তালিকায়। রয়েছে লশকরের প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদের নেতৃত্বাধীন কট্টরপন্থী গোষ্ঠী জামাত-উদ-দাওয়ার কয়েক জন নেতার নামও। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘‘নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এই সন্ত্রাসবাদীরা জম্মু ও কাশ্মীরে অস্ত্র সরবরাহ, অনুপ্রবেশ, এবং হামলা পরিচালনার মূল ষড়যন্ত্রকারী।’’

‘সন্ত্রাসবাদী’ তালিকায় নাম ওঠার ফলে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) সংশ্লিষ্ট ২৩ জনের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে এবং আর্থিক লেনদেন ব্লক করতে পদক্ষেপ করতে পারবে। আন্তর্জাতিক পুলিশ সংগঠনের (ইন্টারপোল) কাছেও এদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ পেশ করে পদক্ষেপের আবেদন জানানো যাবে। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে প্রথম বার ইউএপিএ-তে দাউদ ইব্রাহিম, হাফিজ় সইদ, জ়াকিউর রহমান লকভি এবং মৌলানা মাসুদ আজ়হারকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এ বার ঘোষিত হল ২৩ জনের নাম। এই তালিকাভুক্তদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নাম—

মাসুদ ইলিয়াস কাশ্মীরি (জইশ-ই-মহম্মদ): কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিবৃতি জানাচ্ছে, এই পাকিস্তানি নাগরিক ২০২২ সালে সুঞ্জওয়ান সেনা শিবিরে হামলায় জড়িত ছিলেন। এনআইএ-র চার্জশিটে ‘চক্রান্তকারী’ হিসাবে তাঁর নাম রয়েছে। গত ৭ মে ‘সিঁদুর’ অভিযানে পাকিস্তানের আটটি জায়গায় জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। বাহাওয়ালপুরে জইশ-এর সদর দফতরে হামলার জেরে জইশ প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ আজ়হারের ভাই ইউসুফ-সহ পরিবারের অন্তত ১০ জন নিহত হন। ইলিয়াসই বর্তমানে সংগঠনে ‘নম্বর টু’।

মহম্মদ মুসাদ্দিক (জইশ-ই-মহম্মদ): ২০২২ সালে সুঞ্জওয়ান সেনা শিবিরে হামলায় জড়িত। এনআইএ তদন্তে বলা হয়েছে, পাকিস্তান থেকে অনুপ্রবেশকারী জঙ্গিদের ভারতের যে হ্যান্ডলারেরা নিয়ন্ত্রণরেখা টপকাতে সাহায্য করেছিলেন, তাঁদের সঙ্গে পাকিস্তান থেকে সমন্বয়ের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করেছিলেন মুসাদ্দিক।

মুফতি মুহাম্মদ আসগর খান (জইশ-ই-মহম্মদ): ২০১৬ সালের নাগ্রোটা সেনা শিবিরে হামলার মূল অভিযুক্ত। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জইশের ‘লঞ্চিং প্যাড’গুলির প্রধান পরিচালক। সিঁদুর অভিযানের পরে জইশের নাম বদলে অল-মুরাবিতুন (যার অর্থ, ‘ইসলামের রক্ষাকারী’) রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আপাতত আসগর নতুন পরিচয়ে সক্রিয়।

হাফিজ় আবদুল শুকুর (জইশ-ই-মহম্মদ): এনআইএ রিপোর্টে ‘ক্বারি জ়ারার’ নামেও চিহ্নিত এই পাক নাগরিক একাধিক বার নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে কাশ্মীরে অনুপ্রবেশ করে সরাসরি সন্ত্রাসবাদী হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০১৬ সালের নাগ্রোটা হামলার আগে স্থানীয় সহায়তাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

আবদুল্লাহ জেহাদি (জইশ-ই-মহম্মদ): ২০১৬ সালের নাগ্রোটা হামলার আর এক চক্রী। বর্তমানে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে এবং পাকিস্তানে জইশের সন্ত্রাসবাদী প্রশিক্ষণ শিবিরগুলির দায়িত্বে।

ফিরদৌস আহমদ ভাট (লশকর-এ-ত্যায়বা): হাফিজ় সইদের ঘনিষ্ঠ এই নেতা পাক অধিকৃত কাশ্মীর থেকে জঙ্গি অনুপ্রবেশের কাজে ব্যবহৃত ‘লঞ্চিং প্যাড’গুলির প্রধান পরিচালক। কাশ্মীর উপত্যকার লশকরের সন্ত্রাসবাদীদের অনুপ্রবেশ ও লজিস্টিক সহায়তা সংক্রান্ত বিষয়গুলির বন্দোবস্তও তাঁর দায়িত্বে।

বিলাল আহমদ মির (দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট): লশকরের এই প্রাক্তন কমান্ডার বর্তমানে তাদেরই ছায়া সংগঠন টিআরএফ-এর মূল নেতা। বিলাল মূলত সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ পরিচালনা এবং ভারতে অস্ত্র সরবরাহের সমন্বয় করার ষড়যন্ত্রে জড়িত। পহেলগাঁও সন্ত্রাসেও তাঁর নাম উঠে এসেছিল।

অন্যান্য সন্ত্রাসবাদী: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গেজেট নোটিফিকেশনে ‘হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ’ হিসাবে লশকরের আবদুল রউফ, হাফিজ খালিদ ওয়ালিদ এবং রানা ইফতেখারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির মধ্যে সমন্বয়ের জন্য কট্টরপন্থী পাক গোষ্ঠী জামাত-উদ-দাওয়ার তরফে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইফতেখার। রউফও জামাত-উদ-দাওয়ার নেতা। সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের পরিকল্পনা ও সমন্বয়, অর্থ সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত। ওয়ালিদ বর্তমানে হাফিজের নিরাপত্তা্র দায়িত্বপ্রাপ্ত। তিনিও কাশ্মীরে একাধিক সন্ত্রাসবাদী হামলার মূল পরিকল্পনাকারী।

Advertisement
আরও পড়ুন