(বাঁ দিক থেকে) ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভলোদিমির জ়েলেনস্কি এবং ভ্লাদিমির পুতিন। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
হোয়াইট হাউসে ১৪ মাস আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কির সঙ্গে তাঁর উত্তপ্ত বৈঠকের পর থেকেই কিভকে দেওয়া সামরিক সাহায্যে কাটছাঁট করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু পশ্চিম ইউরোপে সক্রিয় আমেরিকার সামরিক জোট নেটো এখনও অটল ভাবে কিভের পাশে রয়েছে। নেটোর আসন্ন শীর্ষবৈঠকের প্রস্তাবিত যৌথ ঘোষণাপত্রর খসড়ায় রাশিয়ায় বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে ইউক্রেনকে ৭০০০ কোটি ইউরো (প্রায় ৭ লক্ষ ৬২ হাজার কোটি টাকা) সামরিক সহায়তায় প্রস্তাব রয়েছে।
আগামী ৭ এবং ৮ জুলাই তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত হবে নোটো শীর্ষবৈঠক। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও হাজির থাকার কথা। ওই বৈঠকেই নেটো সনদের পাঁচ নম্বর অনুচ্ছেদের ‘সমষ্টিগত প্রতিরক্ষা’র প্রতিশ্রুতি মেনে ইউক্রেনকে বিপুল সহায়তার প্রস্তাব অনুমোদিত হবে বলে জানিয়েছে সংবাদসংস্থা রয়টার্স। মূলত নেটোর পশ্চিম ইউরোপীয় সদস্যরাষ্ট্রগুলির উদ্যোগেই এই পদক্ষেপ বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ওই দেশগুলি গত সাড়ে চার বছর ধরে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ভাবে ইউক্রেনকে সামরিক সাহায্য করে এসেছে। ট্রাম্প হাত গুটিয়ে নেওয়ার কথা ঘোষণার পর সেই সহায়তায় আরও গতি আনতে চাইছে তারা।
যৌথ ঘোষণাপত্রের খসড়া অনুযায়ী, নেটোর সদস্য দেশগুলি ২০২৬ সালে ইউক্রেনকে ৭০০০ কোটি ইউরো সামরিক সহায়তা দেবে। এ ছাড়া ২০২৭ সালেও ‘অন্তত একই পরিমাণ’ সামরিক সহায়তা দেওয়া হবে বলেও প্রতিশ্রুতি রয়েছে যৌথ ঘোষণাপত্রের খসড়ায়। তাতে বলা হয়েছে, নেটো সনদের পাঁচ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, একটি সদস্য দেশের উপর হামলা হলে তা সব সদস্য দেশের উপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। ইউক্রেন ৩২ দেশের সামরিক জোটটির সদস্য না হলেও তাদের উপর রুশ ফৌজের হামলার ফলে পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়ার মতো নেটো সদস্যদের নিরাপত্তা গুরুতর ভাবে বিঘ্নিত হয়েছে বলে প্রস্তাবে দাবি। প্রসঙ্গত, এর আগে গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-ও ঋণনীতি শিথিল করে প্রতিরক্ষা খাতে আরও অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে ইউক্রেনকে বাড়তি সামরিক সহায়তার প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল।