ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার পর সে দেশের অপরিশোধিত তেলের ভান্ডারে নিয়ন্ত্রণ দৃঢ় করেছে আমেরিকা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন জানিয়েছে, তারাই ওই তেল বাজারে বিক্রির বন্দোবস্ত করবে। এ বার মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস্টোফার রাইট দাবি করলেন, ভারতেও ভেনেজ়ুয়েলার তেল বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের।
মাদুরোকে অপহরণের পর ভেনেজ়ুয়েলার অন্তর্বর্তিকালীন সরকারের সঙ্গে আমেরিকা তেল নিয়ে একটি চুক্তি করেছে। তাতে বলা হয়েছে, আমেরিকাকে ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল ‘উচ্চমানের’ তেল দেবে, যা বিক্রি হবে বাজারমূল্যে! ট্রাম্প ঘোষণা করেন, এই তেল বিক্রি করে যে টাকা আসবে, তার নিয়ন্ত্রণ থাকবে তাঁর হাতেই। এই পরিমাণ তেলের বাজারমূল্য প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলার। মার্কিন জ্বালানি সচিব সম্প্রতি এক সংবাদসংস্থাকে জানিয়েছেন, ভেনেজ়ুয়েলার তেল ভারতের কাছে বিক্রি করতে আমেরিকা প্রস্তুত এবং আগ্রহী। ভারত নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাবি করেন, ভারত তো বটেই, ভেনেজ়ুয়েলার তেল প্রায় সব দেশেই বিক্রি করতে চায় ওয়াশিংটন।
পৃথক একটি সাক্ষাৎকারে জ্বালানি সচিব জানিয়েছিলেন, ভেনেজ়ুয়েলার তেল বিক্রির অনুমতি দেবে মার্কিন প্রশাসন। তবে তাদের তৈরি করা পদ্ধতি মেনে তেল বিক্রি হবে। গোটা প্রক্রিয়ায় আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ থাকবে। তেল বিক্রির টাকা ভেনেজ়ুয়েলায় পাঠানো হবে বটে, তবে ভেনেজ়ুয়েলার জনগণের হিতার্থে যাতে সেই অর্থ ব্যয় হয়, তা নিশ্চিত করা হবে। দুর্নীতির কোনও জায়গা দেওয়া হবে না, দাবি ট্রাম্প প্রশাসনের।
ভেনেজ়ুয়েলা বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেলের ভান্ডার। আমেরিকার নিয়ন্ত্রণের আগে এই দেশের তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা ছিল ভারত। ধীরে ধীরে সেই বাণিজ্যিক লেনদেন কমেছে। এখন ভারত সবচেয়ে বেশি তেল কেনে রাশিয়ার কাছ থেকে। আমেরিকা তাতে আপত্তি তুলে ভারতের পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। ভবিষ্যতে শুল্কের হার আরও বৃদ্ধির হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। আমেরিকার কাছ থেকে ভেনেজ়ুয়েলার তেল কিনতে ফের নয়াদিল্লি রাজি হলে কি শুল্ক কমিয়ে দেবেন ট্রাম্প? তা নিয়ে জল্পনা রয়েছে।