(বাঁ দিকে) কেতনবিশাল অগ্রবাল। সিয়া গয়াল (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
মহারাষ্ট্রের পুণের ব্যবসায়ীপুত্র কেতন অগ্রবালের মৃত্যুর ঘটনায় নয়া তথ্য। হবু স্বামী কেতনকে ১৮ জুনের আগেও লোহাগড় দুর্গে ট্রেকিংয়ের জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন সিয়া গয়াল। তদন্তকারী সূত্রের খবর, সেই সময়েও কেতনকে খুনের পরিকল্পনা ছিল তাঁর কিন্তু ব্যর্থ হন। তার পর ১৮ জুন কেতনের জন্মদিন উপলক্ষে বন্ধুরা মিলে আবার লোহাগড় দুর্গে ট্রেকিংয়ের পরিকল্পনা করেন। আর সেই পরিকল্পনা করেছিলেন সিয়া।
তদন্তকারীদের সূত্রের খবর, জুনের প্রথম সপ্তাহেই প্রি ওয়েডিং ফোটোশুটে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে যাওয়ার কথা ছিল কেতন-সিয়ার। তাঁরা দু’জনে মুম্বইয়ে যান। কিন্তু বিমানবন্দরে গিয়ে ই-ভিসা খুঁজে পাচ্ছিলেন না কেতন। ফলে বালি যাওয়া ভেস্তে গিয়েছিল। তদন্তকারীদের সূত্রের দাবি, কেতন তাঁর ই-ভিসা হারিয়ে ফেলেননি। বালি যাওয়া যাতে ভেস্তে যায়, সে কারণেই কেতনের ই-ভিসা লুকিয়ে ফেলেছিলেন সিয়া।
তদন্তকারীদের একাংশ জানিয়েছেন, সহকর্মী চেতন চৌধরীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল সিয়ার। তার মধ্যেই কেতনের সঙ্গে তাঁর বাগ্দান হয়ে গিয়েছিল। সিয়া চাইছিলেন না কেতনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হোক। অভিযোগ, কেতনকে সরাতে চেতনকে নিয়ে খুনের পরিকল্পনা করে সিয়া। ১৮ জুন যখন কেতনকে নিয়ে লোহাগড় দুর্গে হাজির হয়েছিলেন সিয়া, সেখানে আগে থেকেই ছিলেন চেতন। কেতন এবং সিয়া ট্রেক করে উঠছিলেন। তাঁদের অনুসরণ করছিলেন চেতন। তাঁর উপস্থিতির কথা টের পাননি তিনি। কিন্তু সিয়া জানতেন, চেতন তাঁদের অনুসরণ করছেন। হাঁটতে হাঁটতে তাঁরা দু’জনে পাহাড়ের ধারে যান। ঠিক সেই সময়ে সেখানে চেতন হাজির হন। অভিযোগ, তার পর কেতনকে ধাক্কা মেরে পাহাড় থেকে ফেলে দেন। পুণের পুলিশ সুপার সন্দীপ গিল জানিয়েছেন, চেতনের সঙ্গে প্রেম ছিল সিয়ার। তাঁর একসঙ্গে চাকরি করতেন। তাঁদের দু’জনের সম্পর্কের কথা কেতন এবং তাঁর বাড়ির লোকেরা জানতেন না। এমনকি, সিয়ার বাড়ির লোকেরাও এই সম্পর্কের কথা কিছু জানত না বলে দাবি। আগামী নভেম্বরে বিয়ে ঠিক হয়েছিল কেতন-সিয়ার। রাজস্থানের উদয়পুরে ১৭ কোটি টাকা খরচ করে একটি মহল ভাড়া করেছিল কেতনের পরিবার।
প্রসঙ্গত, গত ১৮ জুন বাগদত্তা সিয়া প্রবীণ বাসেশ্বর গয়াল এবং তাঁর বন্ধুর সঙ্গে পুণের লোহাগড় দুর্গে বেড়াতে গিয়েছিলেন ব্যবসায়ীপুত্র কেতন। পাহাড়ের উপরে সেই দুর্গে নিজস্বী তুলতে গিয়ে পা পিছলে ৪৫০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যান। পরে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিক ভাবে এটিকে দুর্ঘটনা হিসাবে মনে করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। কিন্তু তদন্ত যত এগিয়েছে, এমন বেশ কিছু তথ্য হাতে এসেছে, যা এই ঘটনাকে স্রেফ দুর্ঘটনা বলে মেনে নিতে পারেননি তদন্তকারীরা। তাঁদের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যা।