(বাঁ দিকে) ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
পাকিস্তানের প্রতিনিধির সঙ্গে দেখা করেছেন। কথা বলেছেন। কিন্তু ঢাকায় ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সাক্ষাৎই হয়নি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের। তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। এর মাঝেই এ বার মুখ খুললেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তাঁর অভিমত, ভারতের বিদেশমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত ঢাকা সফরকে আন্তঃরাষ্ট্র সম্পর্ক বা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা উচিত হবে না। কারণ এই সফর ছিল নিতান্তই সৌজন্যমূলক। রাজনৈতিক বা দ্বিপাক্ষিক কোনও আলোচনাই হয়নি।
তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ এস জয়শঙ্করের। বুধবার ঢাকায়। ছবি: রয়টার্স।
বুধবার বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা বিএনপি-র চেয়ারপার্সন খালেদা জ়িয়ার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে ঢাকায়। সেই উপলক্ষে ভারতের প্রতিনিধি হিসাবে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলেন জয়শঙ্কর। পাকিস্তান থেকে গিয়েছিলেন সে দেশের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের স্পিকার সর্দার আইয়াজ সাদিক। এ ছাড়াও নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা এবং মলদ্বীপের প্রতিনিধিরা খালেদার শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ঢাকায় খোদ জয়শঙ্করকে পাঠিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দৃঢ়তার বার্তাই দিয়েছে ভারত সরকার। কিন্তু কেন ইউনূসের সঙ্গে জয়শঙ্করের দেখা হল না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তৌহিদ বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘দলমত নির্বিশেষে দেশে খালেদা জ়িয়ার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। সেটা সকলে স্বীকার করেন। তাই সকলে এসেছেন। এটা একটা ইতিবাচক বিষয়। ভারতের বিদেশমন্ত্রীও এসেছিলেন। তাঁর সফর সংক্ষিপ্ত ছিল। কিন্তু তিনি পুরো অনুষ্ঠানে ছিলেন। তার পর ফিরে গিয়েছেন।’’ জয়শঙ্করের উপস্থিতিকে ‘ভাল জেস্চার’ (ভাল ইঙ্গিত) বলে মন্তব্য করেছেন তৌহিদ। তবে এর মধ্যে এর চেয়ে বেশি কিছু খুঁজতে তিনি নারাজ। ঢাকার পররাষ্ট্র উপদেষ্টার কথায়, ‘‘আমি মনে করি, এর চেয়ে বেশি কিছু অর্থ খুঁজতে না-যাওয়াই ভাল। জয়শঙ্করের সঙ্গে সে ভাবে কথাবার্তা বলিনি, তেমন সুযোগ আসেনি। অন্য বিদেশি অতিথিরাও এসেছিলেন। পাকিস্তানের স্পিকারের সঙ্গেও জয়শঙ্কর হাত মিলিয়েছেন। এটা সৌজন্যবোধ, সকলে তা মেনে চলে।’’
জয়শঙ্করের সঙ্গে তাঁর আলোচনায় কোথাও রাজনীতির উল্লেখ ছিল না বলেও জানিয়েছেন তৌহিদ। দ্বিপাক্ষিক বিষয়েও কোনও কথা হয়নি। উল্লেখ্য, ঢাকায় জয়শঙ্করের সঙ্গে কথা হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার। এ ছাড়া, খালেদাপুত্র তথা বিএনপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান জয়শঙ্কর।
অন্য দিকে, পাকিস্তান ছাড়াও নেপালের প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন ইউনূস। তবে আর কোনও প্রতিবেশী দেশের প্রতিনিধির সঙ্গে তাঁর কথা হয়নি।