Operation Sindoor

‘সিঁদুর’ হুঙ্কার দিল্লির, তবু বিশ্বে সুসময় পাকিস্তানের

সংসদে পাক-মদতপ্রাপ্ত জঙ্গিদের হামলা এবং মুম্বইয়ের হামলা— এই দু’টি ক্ষেত্রেই ভারত আন্তর্জাতিক সহানুভূতি ও সমর্থন পাশে পেয়েছিল। গোটা বিষয়টিকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক লড়াইয়ে শামিল করে নিতে পেরেছিল।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৯ মে ২০২৬ ০৮:০৪
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

‘অপারেশন সিঁদুর’-এর বর্ষপূর্তিতে নয়াদিল্লি গত কাল আসর গরম করেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক পাকিস্তানের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছে, ‘ভারত ভোলে না, ভারত ক্ষমাও করে না।’ কূটনৈতিক শিবির অবশ্য মনে করছে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরে বছর ঘুরলেও ভূ-কৌশলগত দিক থেকে ইসলামাবাদের সম্মান তো কমেইনি, বরং তাদের কদর অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। পাকিস্তানে মূল্যবৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন, রাজনৈতিক উষ্মা, সবই রয়েছে, কিন্তু তা সত্ত্বেও গত এক বছরে আন্তর্জাতিক ময়দানে নিজেদের গুরুত্ব বাড়িয়ে নিতে পেরেছেন শাহবাজ় শরিফ, আসিম মুনিররা।

সংসদে পাক-মদতপ্রাপ্ত জঙ্গিদের হামলা এবং মুম্বইয়ের হামলা— এই দু’টি ক্ষেত্রেই ভারত আন্তর্জাতিক সহানুভূতি ও সমর্থন পাশে পেয়েছিল। গোটা বিষয়টিকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক লড়াইয়ে শামিল করে নিতে পেরেছিল। কিন্তু গত বছর পহেলগামে হামলার পরেও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক যুদ্ধের মতো বিষয়টি আপাত গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে বলে মত পর্যবেক্ষকদের। ভারত গোটা বিশ্বে দূত পাঠিয়েও সে ভাবে পাক-বিরোধী হাওয়া তৈরি করতে পারেনি। বিভিন্ন দেশ অবস্থান নিয়েছে নিজেদের স্বার্থ এবং নিজস্ব বিবেচনার উপরে ভিত্তি করে, কোনও বৃহৎ ভাষ্যকে (বিশ্ব বনাম সন্ত্রাসবাদের লড়াই) অনুসরণের মাধ্যমে নয়।

নয়াদিল্লির কাছে আরও যেটা অস্বস্তির কারণ তা হল, ইসলামাবাদ সফল ভাবে এই ভাষ্য নিজের দেশে এবং বাইরে ছড়িয়ে দিতে পেরেছে যে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর যোগ্য জবাব দিতে পেরেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। এর ফলে তাদের দেশের মানুষের মনোবল বেড়েছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বারবার মধ্যস্থতার দাবি নয়াদিল্লির কাছে অসম্মানজনক হলেও পাকিস্তান সেই দাবিকে নিজের পক্ষে কাজে লাগিয়েছে।

আমেরিকা-ইরান যুদ্ধে হঠাৎ করেই মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে ইসলামাবাদ গত কয়েক মাসে নিজেদের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বাড়িয়েছে। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরে পাক সেনাপ্রধান (এখন সর্বাধিনায়ক) আসিম মুনিরকে হোয়াইট হাউসে ডেকে মধ্যাহ্নভোজ খাইয়েছেন ট্রাম্প! জানিয়েছেন, শাহবাজ় এবং মুনিরের সঙ্গে কৌশলগত কথাবার্তা হয়েছে তাঁর। আবার সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব পাকিস্তানকেই দিয়েছে ইরান। সব মিলিয়ে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে এই যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের নামেই সিলমোহর পড়েছে। এই ঘটনাগুলি ইসলামাবাদের স্বপ্নের অতীত ছিল। ফলে গত এক বছরে পাক প্রশাসন নিজেদের দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চাপে থাকলেও দেশের বাইরে এমন ‘সুসময়’ তাদের আর আসেনি, এমনটাই মনে করছে কূটনৈতিক শিবির। ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে ভারতের বর্ষপূর্তির হুঙ্কারে তার ইতরবিশেষ ঘটছে না।

আরও পড়ুন