(বাঁ দিকে) ক্যাপ্টেন সুমিত কপূর এবং ফার্স্ট অফিসার শম্ভবী পাঠক। ছবি: সংগৃহীত।
বারামতীতে আছড়ে পড়া ‘বম্বার্ডিয়ার লিয়ারজেট ৪৫’ বিমানের ককপিটে ছিলেন দু’জন। ক্যাপ্টেন (পাইলট-ইন-কমান্ড) সুমিত কপূর এবং ফার্স্ট অফিসার (সহ-পাইলট) শম্ভবী পাঠক। মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারকে মুম্বই থেকে বারামতীতে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব ছিলেন তাঁদের উপরেই। দুর্ঘটনায় অজিত এবং বাকিদের সঙ্গে মৃত্যু হয়েছে দুই পাইলটেরও।
বুধবার সকাল ৮টা নাগাদ মুম্বই থেকে চার্টার্ড বিমানে বারামতীর উদ্দেশে রওনা দেন অজিত। মাঝারি মাপের চার্টার্ড বিমান ‘লিয়ারজেট ৪৫’-এ যাত্রা শুরু করেন তিনি। বিমানে অজিতের সঙ্গে আরও দু’জন ছিলেন। প্রত্যেকেরই মৃত্যু হয়েছে দুর্ঘটনায়। বিমানের সহ-পাইলট শম্ভবীর ‘লিঙ্কডইন’ হ্যান্ডল থেকে জানা যায়, তিনি বায়ুসেনার স্কুলের পড়াশোনা করেছেন। মুম্বই বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিজ্ঞানের স্নাতক পরে ‘নিউ জ়িল্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল কমার্শিয়াল পাইলট অ্যাকাডেমি’তে নাম লেখান।
মুম্বই থেকে বারামতী যাওয়ার পথে ভেঙে পড়া এই লিয়ারজেট ৪৫ বিমানটি পরিচালনা করছিল ‘ভিএসআর ভেঞ্চার্স’ নামে এক সংস্থা। শম্ভবীর ‘লিঙ্কডইন’ হ্যান্ডল থেকে জানা যায়, সাড়ে তিন বছর ধরে এই সংস্থায় সহ-পাইলট হিসাবে কর্মরত তিনি। ২০২২ সালের অগস্ট মাসে ভিএসআর ভেঞ্চার্স প্রাইভেট লিমিটেডে ফার্স্ট অফিসার হিসাবে যোগ দেন তিনি।
বিমানের ক্যাপ্টেন সুমিতও এক জন অভিজ্ঞ পাইলট। বিজ়নেস জেট চালানোর দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ‘লিয়ারজেট ৪৫’ বিমানের উড়ান থেকে অবতরণ পর্যন্ত সকল গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন তিনিই।
কী কারণে এই বিমান দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সকাল ৮টায় মুম্বই থেকে ওই চার্টার্ড বিমানে বারামতীর উদ্দেশে রওনা দেন অজিত। অবিভক্ত এনসিপির অন্যতম ঘাঁটি বারামতী। সামনেই সেখানে জেলা পরিষদের নির্বাচন রয়েছে। সেই ভোটের প্রচারের উদ্দেশ্যেই বারামতীতে যাচ্ছিলেন তিনি। বুধবার বারামতীতে চারটি সভা করার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু তার আগেই ঘটে যায় দুর্ঘটনা। সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট নাগাদ বারামতী বিমানবন্দরে অবতরণের সময়ে আছড়ে পড়ে লিয়ারজেট ৪৫ বিমান। দুর্ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত, দুই পাইলট-সহ বিমানে সওয়ার সকলের।