Chemically Ripened Mangoes

মরসুমের আগেই বাজার ভরে গিয়েছে লালচে-হলদেটে আমে, আদৌ সেগুলি খাঁটি কি না, চিনবেন কোন উপায়ে?

পাকা আমের মরসুম এখনও আসেনি। এর মধ্যেই চকচকে হলদেটে বা লালচে-হলুদ আমে বাজার ভরে গিয়েছে। অনেকেরই অভিযোগ, এমন আমের বাইরেটা নরম ও দেখে পাকা মনে হলেও ভিতরটা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শক্ত ও আধকাঁচা। স্বাদেও টক। এমন আম কি আদৌ খাঁটি?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১০ মে ২০২৬ ১৭:২৮
A practical guide to spotting chemically ripened mangoes

মরসুমের আগেই ভেজাল আমের বাড়বাড়ন্ত, চিনবেন কী উপায়ে? ছবি: ফ্রিপিক।

চকচকে হলদেটে রং। কোনওটিতে আবার লালচে ভাব রয়েছে। খুবই আকর্ষণীয় দেখতে। আম খেতে ভালবাসেন যাঁরা, এমন আম দেখলে কিনতেই ইচ্ছে হবে তাঁদের। হাতে ধরে দেখে তেমন ভাবে বোঝর উপায় নেই। বেশ কিছুর বাইরেটা নরম ও হলদেটে। দেখে পরিপক্ব বলেই মনে হবে। কিন্তু কাটলে দেখা যেতে পারে, ভিতরটা শক্ত ও কাঁচা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এমন আম কার্বাইডে পাকানো বা রাসায়নিক মিশিয়ে দেখতে আকর্ষণীয় করা হয়েছে। মরসুমের আগে বাজার ভরে গিয়েছে এমন হলদেটে আমে। সেগুলির মধ্যে ভেজাল আমও রয়েছে। কোনটি খাঁটি ও কোনটি ভেজাল, তা চেনার উপায় কী?

Advertisement

গাছপাকা আম ও ভেজাল আমের মধ্যে পার্থক্য কোথায়?

আমের রং-রূপ

গাছপাকা আমের রং সব জায়গায় হলুদ নয়। তাতে সবজেটে ছোঁয়াও থাকে। বৃন্তের কাছটা আবার লালচে হতে পারে। আমের গায়ে ছোট ছোট কালচে দাগ থাকাও স্বাভাবিক। তাই খুব চকচকে প্রায় পুরোটাই উজ্জ্বল হলুদ বা লালচে হলুদ আম দেখলে তা না কেনাই ভাল।

গাছপাকা আমের গন্ধ

গাছপাকা আমের মিষ্টি সুগন্ধ আছে। আমের বৃন্তের কাছে ঘ্রাণ নিলে তা পাওয়া যাবে। কিন্তু রাসায়নিকে পাকানো আমে মিষ্টি সুগন্ধ থাকবে না, বরং ঝঁঝাঁলো গন্ধ পাওয়া যেতে পারে।

জলের পরীক্ষা

একটি পাত্রে জল নিয়ে আমগুলি ডুবিয়ে দিন। যে আমগুলি জলে ডুবে যাবে সেগুলি খাঁটি। যে আম জলের উপরে ভেসে উঠবে, বুঝতে হবে, সেগুলি কার্বাইড বা অন্য কোনও রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হয়েছে।

স্বাদের ভিন্নতা

রাসায়নিকযুক্ত আম মুখে দিলে মিষ্টির বদলে টক বা বিস্বাদ লাগে। অনেক সময় এটি খাওয়ার পর জিভে বা গলায় হালকা জ্বালা অনুভূত হতে পারে।

অকালে আম পাকাতে কী কী রাসায়নিক মেশানো হয়?

অসাধু ব্যবসায়ীরা আম দ্রুত পাকাতে এবং আকর্ষণীয় রং আনতে ক্যালসিয়াম কার্বাইড ও ইথিলিন স্প্রে করা হয়। সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় ক্যালশিয়াম কার্বাইড, যা বাতাসের সংস্পর্শে এলে অ্যাসিটিলিন গ্যাস তৈরি করে এবং তাপ উৎপন্ন করে আমকে দ্রুত পাকিয়ে দেয়। এটি শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

অনেক সময় আমের গায়ে ইথিলিন স্প্রে করা হয়, যাতে আমের রং উজ্জ্বল হলুদ হয়। এই রাসায়নিক পেটে গেলে লিভার ও কিডনির ক্ষতি হতে পারে।

Advertisement
আরও পড়ুন