—প্রতীকী চিত্র।
চিনের সঙ্গে বেড়েই চলেছে বাণিজ্যিক ঘাটতি। শত চেষ্টা করেও সেই ব্যবধান কমাতে পারছে না কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার। এ-হেন পরিস্থিতিতে ভারতের জন্য ‘রুপোলি রেখা’ তৈরি করল আইফোন। মার্কিন টেক জায়ান্ট অ্যাপ্লের তৈরি ডিভাইসের ড্রাগনভূমিতে দুর্দান্ত চাহিদা রয়েছে। যার একটা বড় অংশই এখন রফতানি করছে ভারত।
বর্তমানে বৈদ্যুতিন সামগ্রীর ক্ষেত্রে চিনের উপর বড় রকমের নির্ভরশীলতা রয়েছে নয়াদিল্লির। এ দেশের অধিকাংশ স্মার্টফোন তৈরি হয় বেজিঙের কোনও না কোনও কারখানায়। নিত্যদিনের ব্যবহার্য অন্যান্য বৈদ্যুতিন সরঞ্জামগুলির অবস্থাও তথৈবচ। বাণিজ্যিক ঘাটতি বৃদ্ধির নেপথ্যে যাকে অন্যতম বড় কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রকে স্বস্তি দিচ্ছে আইফোনের রফতানি। সূত্রের খবর, চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত ২৫০ কোটি ডলার মূল্যের স্মার্টফোন চিনে পাঠিয়েছে ভারত। যার বেশির ভাগটাই আইফোন। গত কয়েক বছর ধরেই এ দেশের বিভিন্ন কারখানায় চলছে মার্কিন টেক জায়ান্ট অ্যাপ্লের তৈরি এই ডিভাইসটির ‘অ্যাসেমব্লিং’-এর কাজ। সেখান থেকেই বাজারজাত হচ্ছে সকলের সাধের আইফোন।
চলতি বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তামিলনাড়ু এবং কর্নাটক মিলিয়ে ভারতের মোট পাঁচটি কারখানায় তৈরি হচ্ছে অ্যাপ্লের ডিভাইস। আইফোনের অধিকাংশ যন্ত্রাংশ অবশ্য এখনও আসছে বিদেশ থেকে। সেগুলি জুড়ে পণ্যটিকে বাজারে বিক্রির উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি, আইফোনের বিভিন্ন অংশ নির্মাণের কাজে হাত গিয়েছে এ দেশের একাধিক সংস্থার।
‘অ্যাসেমব্লিং’-এর পর অ্যাপ্লের ডিভাইস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি করছে ভারত। সেই তালিকার একেবারে শীর্ষে রয়েছে চিন। সেখানে এতটুকু কমেনি আইফোনের চাহিদা। কিন্তু, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সংঘাতের জেরে ড্রাগনভূমিতে কমেছে সংশ্লিষ্ট পণ্যটির উৎপাদন। যার সুবিধা পাচ্ছে নয়াদিল্লি, বলছে বিশেষজ্ঞ মহল।
আইফোন রফতানির পাশাপাশি ভারতে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে কর্মসংস্থানের সূচক। সংশ্লিষ্ট পণ্যটির জন্য চাকরি হয়েছে সাড়ে তিন লাখ জনের। এদের মধ্যে আইফোন উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে আছে ১.২০ লক্ষ কর্মী। মার্কিন টেক জায়ান্টের ডিভাইসটি এতটাই প্রভাবিত করেছে এদেশের অর্থনীতিকে।