শক্তিগড়ের ল্যাংচা হাবে সবচেয়ে বেশি বিক্রি দুই মিষ্টান্ন। —নিজস্ব চিত্র।
শক্তিগড়ে ল্যাংচা-মিহিদানা-সীতাভোগ সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় কোন দিন? এত দিন ব্যসসায়ীরা সমস্বরে বলেছেন, ‘২১ জুলাই’! তৃণমূলের ‘শহিদ দিবস’-এ বেশ কিছু জেলা থেকে ধর্মতলা বা হাওড়ামুখী বাস দাঁড়াত পশ্চিম বর্ধমানের ল্যাংচা হাবের সামনে। ওই দিনে বিপুল বিক্রিবাটা হত। যানজট এড়াতে প্রশাসন ‘ল্যাংচা মেলা’ও করত। কিন্তু সেই ‘রেকর্ড’ ভাঙল শনিবার— ব্রিগেডে বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ কর্মসূচিতে।
শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে বিভিন্ন রাজ্যের মন্ত্রী এবং বিজেপি নেতা। রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণ চাক্ষুষ করবেন বলে বিভিন্ন জেলা থেকে প্রচুর বিজেপি কর্মী-সমর্থক বাসে করে কলকাতা গিয়েছেন। তা ছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ি এবং ভাড়ার গাড়ি তো ছিলই।
দুই বর্ধমান, বাঁকুড়া, বীরভূম, পুরুলিয়া, মুর্শিদাবাদ থেকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা যানবাহনের বড় অংশই ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক ব্যবহার করে কলকাতা গিয়েছিল। যাত্রাপথে যাত্রীদের ক্ষণিকের বিশ্রামস্থল শক্তিগড়। সেখানকার মিষ্টির দোকানদার থেকে ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, ব্রিগেড থেকে ফেরা প্রায় সমস্ত গাড়ি দাঁড়িয়েছিল শক্তিগড়ে। রাতে একেবারে উৎসবের চেহারা নিয়েছিল ল্যাংচা হাব এলাকা।
শুধু দোকানে বসে খাওয়াই নয়, বাড়ির জন্য প্যাকেট ভরে ল্যাংচা, মিহিদানা এবং সীতাভোগ কিনে নিয়ে গিয়েছেন প্রচুর মানুষ। ব্যবসায়ীদের দাবি, শনিবার মিষ্টি বিক্রির পরিমাণ ‘নজিরবিহীন’। বহু দোকানে দুপুর থেকেই ভিড় উপচে পড়েছিল। ক্রেতাদের সামলাতে প্রায় হিমশিম দশা হয়েছে দোকানগুলির কর্মীদের। ল্যাংচা ব্যবসায়ী বিদ্যুৎ সাহা এবং সৌমেন দাস জানিয়েছেন, এত ভাল বিক্রিবাটা হবে তাঁরা ভাবতেই পারেননি। দুই ব্যবসায়ীর কথায়, ‘‘আগে ২১ জুলাইয়ের দিকে আমরা তাকিয়ে থাকতাম। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণের দিন যে এত মানুষের ভিড় হবে, তা কল্পনার বাইরে ছিল। মনে হচ্ছে, বিক্রিবাটার ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল।’’
বর্ধমান জাতীয় সড়কের পাশে সার বেঁধে মিষ্টি দোকান ছিল অনেক আগে থেকে। তবে ২০১৭ সালে আসানসোল থেকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্বোধন করেছিলেন মিষ্টি হাবের। তার পর চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছে এই ব্যবসা। রবিবার শক্তিগড়ের মিষ্টি ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, বিগত বছরগুলিতে ২১ জুলাই মানেই তাঁদের কাছে বিক্রিবাটার অন্যতম দিন ছিল। গত ২১ জুলাই-ও প্রচুর মিষ্টি বিক্রি হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই রেকর্ড ভেঙে গেল। ঠিক কত টাকার বিক্রিবাটা হয়েছে, স্পষ্ট না-করলেও ব্যবসায়ীদের ইঙ্গিত, যা মিষ্টি বিক্রি হয়েছে, তা তাঁদের কল্পনার অতীত।