ইস্টবেঙ্গলের কোচ অস্কার ব্রুজ়ো। ছবি: সমাজমাধ্যম।
মুম্বই ম্যাচের আগেই তিনি ঘোষণা করে দিয়েছিলেন, মরসুম শেষের পর আর ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের কোচ থাকছেন না। যাওয়ার আগে আগ্রাসী মেজাজে রয়েছেন ইস্টবেঙ্গলের কোচ অস্কার ব্রুজ়ো। পঞ্জাব ম্যাচের আগে রবিবার নাম করে ক্লাবের কিছু প্রাক্তন ফুটবলারদের ‘দালাল’ বলেছেন অস্কার। এ-ও বলে দিয়েছেন, এই ব্যক্তিরা ক্লাবের পক্ষে ক্ষতিকর।
গত ১৪ মার্চ কেরল ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে ড্র করার পর অস্কারকে শুনতে হয়েছিল ‘গো ব্যাক’ স্লোগান। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ক্লাব এখন আইএসএলের শীর্ষে। অস্কারের ক্ষোভ, সেই সময় ক্লাবের প্রাক্তন ফুটবলারেরা কোচকে সরানোর জন্য উঠেপড়ে লাগলেও এখন কেন তাঁরা ক্লাবের সুদিনে ইতিবাচক কথা বলছেন না।
অস্কার বলেছেন, “কেরল ম্যাচের পর একটা বিপ্লব হয়ে গিয়েছিল। আমাকে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান শুনতে হয়েছিল। তাই একটা বার্তা স্পষ্ট করে দিতে চাই আজ। অনেকেই ইদানীং ক্লাবকে নিয়ে কথা বলছে। কিন্তু তারা ক্লাবের সাফল্য চায় না। এই প্রাক্তন খেলোয়াড়দের নাম উল্লেখ করতে চাই। রহিম আলি (নবি), সন্দীপ নন্দী, আলভিটো ডি’কুনহা। এই ক’দিনে ওদের এক বারও ট্রফি নিয়ে কথা বলতে দেখিনি। আসলে ওরা ক্লাবের প্রাক্তন ব্রোকার (দালাল)। ওরা সব কিছুতেই খারাপ খোঁজে। সব সাফল্যকে ছোট করে দেখতে চায়। তাই এই বার্তা সমর্থক এবং ক্লাব পরিচালন সমিতির জন্য। এই ধরনের লোকজন ক্লাবের পক্ষে ক্ষতিকর।”
উল্লেখ্য, অস্কারের আমলে গোলকিপিং কোচ ছিলেন সন্দীপ। গত বছর আইএফএ শিল্ড ফাইনালে মোহনবাগানের কাছে টাইব্রেকারে হেরেছিল ইস্টবেঙ্গল। সেই ম্যাচে শেষ মুহূর্তে গোলকিপার বদল হয়েছিল সন্দীপের নির্দেশে। এর পর সুপার কাপ খেলতে গোয়ায় পৌঁছেই সন্দীপের সঙ্গে তুমুল ঝামেলা হয় অস্কারের। ক্ষিপ্ত সন্দীপ তখনই পদত্যাগ করে কলকাতায় ফিরে আসেন।
এ দিন অস্কার আরও বলেছেন, “কেরল ম্যাচের পর যাদের প্রচুর কথা বলতে দেখেছিলাম তারা আজ কোথায়? কাউকে কোনও কথা বলতে দেখছি না। এটা শুধু কোচ নয়, আমার দলের ফুটবলার এবং একটা সিস্টেমের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা। আমি অত্যন্ত আবেগের সঙ্গে বলছি এই কথাগুলো। এই প্রাক্তন ফুটবলারদের জন্য ক্লাব অনেক ক্ষতি সহ্য করেছে। আবারও বলছি, ওরা ক্লাবের দালাল। হয়তো এই কারণেই ইস্টবেঙ্গল এত দিন সাফল্য পায়নি।”
এর পরেই ইস্টবেঙ্গল ফুটবলারদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি। ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে বলেছেন, “এই মরসুমে সাজঘরের পরিবেশ দুর্দান্ত। শক্তিশালী মানসিকতা নিয়ে নামছে ফুটবলারেরা। বাইরের কোনও আওয়াজে ওরা কান দিচ্ছে না। ওরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই চ্যাম্পিয়ন ফুটবলারদের দলে পেয়ে আমি সৌভাগ্যবান। একটাই জিনিস আমাদের নেই। সেটা হল ট্রফি। তাই সেটা জিততে ফুটবলারেরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।”
পয়েন্ট তালিকায় সাতে থাকলেও পঞ্জাবের সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের তফাত মাত্র তিন পয়েন্টের। অর্থাৎ ইস্টবেঙ্গলকে হারালেই তারা ট্রফির লড়াইয়ে চলে আসবে। সেটা মাথায় রেখেই অস্কার বলেছেন, “অন্য ম্যাচের সঙ্গে এই ম্যাচকে আলাদা করে দেখছি না। মরসুমের শুরুতে যে লক্ষ্য ছিল, কাল সেটা পূরণ করতে পারি। অর্থাৎ প্রথম ছয়ে থাকা। আমরা ম্যাচটাকে আর একটা হোম ম্যাচ হিসাবে দেখছি। তবে পঞ্জাব শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। সুপার কাপের সেমিফাইনালে ওদের বিরুদ্ধে খেলেছি। মরসুমের শুরুর দিকেই বলেছিলাম পঞ্জাব এই মরসুমে চমকে দিতে পারে। ওদের দলে ভারসাম্য রয়েছে। মিডফিল্ডে ভাল ফুটবলার রয়েছে। তাই আমাদের কাছে কঠিন ম্যাচ।”