নিমপাতা দিয়ে কী ভাবে ত্বকচর্চা করবেন? ছবি: সংগৃহীত।
গরমের সময়ে ঘাম, ধুলোময়লা, আর্দ্রতা জমে বেহাল দশা হয়েছে ত্বকের। ফেসওয়াশ, ক্রিম মেখেও সমস্যা নির্মূল করা যাচ্ছে না। প্রাচীন কাল থেকে ত্বকচর্চায় নিমের ব্যবহার প্রচলিত। ত্বকের প্রদাহ, লালচে ভাব, ঘামাচি, র্যাশ— যাবতীয় সমস্যার ওষুধ হিসাবে নিমকে গুরুত্ব দেয় বহু পরিবার। কিন্তু নিম কী ভাবে ব্যবহার করা উচিত, সে বিষয়ে নানা ধন্দ চারদিকে। নিমপাতা গালে ঘষে নিলেই হবে, না কি প্যাক বানাতে হবে?
কী কী ভাবে ব্যবহার করবেন নিমপাতা? ছবি: সংগৃহীত
তবে তার আগে জেনে নেওয়া দরকার নিমপাতা কেন ত্বকের জন্য এত কার্যকরী। নিমের মধ্যে থাকা জীবাণুনাশক ও প্রদাহরোধী উপাদান গরমের সময়ে ত্বকের নানা সমস্যায় উপকারী হতে পারে। এটি ব্রণ সৃষ্টিকারী ব্যাক্টেরিয়াকে ধ্বংস করে দিতে পারে। পাশাপাশি ত্বকের অতিরিক্ত তেল শুষে নেয় বলে ব্রণের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
৫ উপায়ে ত্বকচর্চায় ব্যবহার করুন নিম—
১. নিম মেশানো জলে স্নান: এক মুঠো টাটকা নিমপাতা জলে ফুটিয়ে নিন। জল ঠান্ডা হলে ছেঁকে স্নানের জলের সঙ্গে মিশিয়ে নিন। গরমে ঘামাচি, গায়ে চুলকানি বা পিঠে ব্রণের সমস্যা বেড়ে গেলে এই পদ্ধতি উপকারী হতে পারে। নিমপাতা সেদ্ধ জল ত্বককে ঠান্ডা করে এবং ত্বকের উপর জমে থাকা জীবাণুর পরিমাণ কমাতেও সাহায্য করে।
২. নিম-হলুদের প্যাক: নিম ও হলুদ দু’টিই জীবাণু নাশ করার জন্য সুখ্যাত। পাশাপাশি দু’টি ভেষজই অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল। ফলে সেই দুটিকে একসঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে উপকার হবে ত্বকের। তবে তার সঙ্গে অল্প গোলাপজল মিশিয়ে নিতে পারেন। নিমগুঁড়ো, গোলাপজল এবং এক চিমটে হলুদ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। ১৫ মিনিট মুখে রেখে ধুয়ে ফেলুন। গরমে ত্বক অতিরিক্ত তেলচিটে হয়ে গেলে এবং ব্রণ বাড়লে এই প্যাক উপকারী হতে পারে।
৩. নিম-অ্যালো ভেরা প্যাক: রোদে বেরোলেই চোখ-মুখ লাল হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে প্রথমে জ্বালাভাব এবং তার পরে প্রদাহের সমস্যা শুরু হয়। টাটকা নিমপাতা বেটে নিন। তার সঙ্গে ঠান্ডা অ্যালো ভেরার রস মিশিয়ে দিন। গায়ের যেখানে যেখানে ব্রণ বা জ্বালা ধরছে, সেখানে মেখে নিন। অ্যালো ভেরা ত্বককে শীতল করে, আর নিম ত্বকের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে।
এ ছাড়াও নিম-চা খাওয়া এবং খাবারের মধ্যে নিমপাতা ভাজা বা নিম-বেগুন বানিয়ে খেতে পারেন। নিমের গুণ শরীরে পৌঁছোবে খাবারের মাধ্যমেও।