কোন ৭ পানীয়ে চুমুক দিয়ে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য ফিরিয়ে আনবেন? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
কখনও ফেসওয়াশ, কখনও ময়েশ্চারাইজ়ার, কখনও আবার সিরাম— গ্রীষ্মে ত্বক পরিষ্কার রাখতে ও সতেজ করে তুলতে প্রসাধনী সামগ্রীর ভিড় জমেছে ঘরে। কিন্তু, কেবল বাহ্যিক যত্নে ত্বকের জেল্লা ফিরে আসবে না। ত্বকের প্রয়োজন যথেষ্ট পুষ্টি ও জল। গরমের সময়ে ঘাম, ময়লা, তেলে জর্জরিত ত্বক দিনভর ক্লান্ত দেখায়। স্বাভাবিক দীপ্তিও হারিয়ে ফেলে চোখ-মুখ। তাই ত্বকের প্রয়োজন প্রাণজুড়োনো পানীয়ের। এমন কিছু পানীয় রয়েছে, যা শরীরকে ‘হাইড্রেটেড’ রাখে, হজমে সাহায্য করে এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের জোগান দেয়। ফলে ত্বকও তুলনায় বেশি সতেজ দেখায়। রইল তেমনই ৭ পানীয়ের সন্ধান।
লেবুর জল
ছবি: সংগৃহীত
ভিটামিন সি-তে ভরপুর পানীয় ত্বকের জন্য উপকারী। সকাল সকাল ঈষদুষ্ণ জলে লেবুর রস চিপে খেলে দেহ থেকে দূষিত পদার্থ বেরোতে পারে এবং হজমক্ষমতাও উন্নত হয়। গরমের সময়ে শরীরে জলশূন্যতার ঝুঁকি কমাতে পারে লেবুর জল। ফলে ত্বকের শুষ্কতার সঙ্গে যুঝে ওঠার ক্ষমতাও রয়েছে এই পানীয়ের।
গ্রিন টি
ছবি: সংগৃহীত
ক্যাটেকিন নামক অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ভরপুর গ্রিন টি। এই অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট শরীরের যাবতীয় ফ্রি র্যাডিকালের সঙ্গে লড়াই করতে পারে। শরীরের বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়া কিছু ক্ষতিকারক অর্থাৎ ফ্রি র্যাডিকাল কোষের ক্ষতি করে। আর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট সেই ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে শরীরকে রক্ষা করে। ফলে প্রদাহ থেকে মুক্তি পায় শরীর। তাই ব্রণের সমস্যাও চাগাড় দিতে পারে না আর। এমনকি ত্বকের বার্ধক্যরোধের জন্যও গ্রিন টি-র জুড়ি মেলা ভার।
শসার জল
ছবি: সংগৃহীত
খসখসে ত্বকের জ্বালায় নাজেহাল হয়ে পড়েছেন? প্রায় ৯৬ শতাংশ জলে ভরা শসা আপনার সহায় হয়ে উঠতে পারে। হাইড্রেশন এবং গরমে তেষ্টা মেটানোর জন্য শসায় ভরা জল পান করতে পারেন। প্রথমত, শরীর ঠান্ডা করার ক্ষেত্রে শসার জলের তুলনা হয় না। দ্বিতীয়ত, মুখের ফোলা ভাব, লালচে ভাব, প্রদাহ ও রুক্ষতা দূর করতে পারে এই পানীয়।
ডাবের জল
ছবি: সংগৃহীত
গরম পড়লে ডাবের জলের চাহিদা বাড়ে। এতে প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইট (পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম) থাকে, যা শরীরকে জলশূন্যতার ঝুঁকি থেকে দূর করে। পর্যাপ্ত হাইড্রেশন ত্বকের জন্যও খুব গুরুত্বপূর্ণ। নয়তো শুষ্কতা ও রুক্ষতার ছাপ পড়ে চোখে-মুখে। ত্বককে ময়েশ্চারাইজ় করার জন্য ক্রিম ও লোশনের পাশাপাশি ডাবের জলেও চুমুক দেওয়া যায়।
বেদানার রস
ছবি: সংগৃহীত
ভিটামিন সি, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং প্রদাহনাশী উপাদানে ভরপুর বেদানার রস। আর এই সমস্ত উপাদানই ত্বককে উজ্জ্বল ও কোমল রাখতে কাজ করে। নিয়মিত বেদানার রস পান করলে গালের দাগ-ছোপ কমে যেতে পারে। পাশাপাশি কোলাজেন উৎপাদন বৃদ্ধি করে এই পানীয়, যা বার্ধক্যের ছাপ পড়ার গতি শ্লথ করতেও সাহায্য করে।
অ্যাপল সাইডার ভিনিগারের জল
ছবি: সংগৃহীত
ব্রণ উপশমের জন্য উপযুক্ত পানীয় হতে পারে অ্যাপল সাইডার ভিনিগার মেশানো জল। এতে রয়েছে অ্যাসিটিক অ্যাসিড এবং আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড। ত্বকের অতিরিক্ত তেল ও ময়লা দূর করা এবং পিএইচ-এর ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতা রয়েছে এই পানীয়ের।
ক্যামোমাইল টি
ছবি: সংগৃহীত
রাতে ঘুমোনোর আগে এই চায়ে চুমুক দেওয়ার অভ্যাস রয়েছে অনেকের। স্নায়ুর উত্তেজনা প্রশমিত করে ঘুম আনার জন্য সুখ্যাতি রয়েছে ক্যামোমাইল টি-র। আর পর্যাপ্ত এবং ভাল ঘুম যে ত্বকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তা সকলেরই জানা। ক্যামোমাইলের চা তাই আপনার রাতের ত্বকচর্চার অংশ হয়ে উঠতে পারে।