কেন মুখে ঢেঁড়স মাখার চল বেড়েছে চারদিকে? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
প্রাকৃতিক উপাদান মানেই কার্যকর— আপনি কি এই ধারণায় বিশ্বাসী? তা হলে সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া যে কোনও টোটকাই প্রয়োগ করার কথা ভাবেন নিশ্চয়ই? মুখে ঢেঁড়স মাখার নয়া এই পদ্ধতির সঙ্গেও পরিচিত হয়েছেন কি?
নানা দিকে শোনা যাচ্ছে, কুচোনো ঢেঁড়সের সঙ্গে দই মিশিয়ে মুখে মাখছেন অনেকে। ২০ মিনিট রেখে তার পর ধুয়ে ফেলছেন। দু’সপ্তাহ অন্তর এক বার করে ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন নেটপ্রভাবীরা। তাতে নাকি বয়স কমে যাচ্ছে ১০ বছর! পাশাপাশি, ব্রণের প্রবণতা কমে গিয়ে ত্বকের অসমান রঙের সমস্যাও মিটে যাচ্ছে। চামড়া ঝুলে যাওয়ার সমস্যা থেকেও মুক্তি দিচ্ছে সুস্বাদু এই সব্জি। কিন্তু আদপে ঠিক কতখানি কার্যকরী এই টোটকা?
মুখে ঢেঁড়স মাখার নয়া পদ্ধতি। ছবি: সংগৃহীত
ত্বকের পরিচর্যায় দইয়ের জুড়ি মেলা ভার। ল্যাক্টিক অ্যাসিড, ক্যালশিয়াম এবং জ়িঙ্কের গুণে টক দই ত্বকের গভীরে গিয়ে ময়েশ্চারাইজ় করে। পাশাপাশি, ঔজ্জ্বল্য বাড়ায় এবং দাগছোপ দূর করে। রোদে পোড়া, জ্বালা ভাব, লালচে ভাব দূর করে, ব্রণ কমায় এবং প্রাকৃতিক ক্লিনজ়ার হিসেবে কাজ করে বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক টানটান ও কোমল হয়।
ও দিকে ঢেঁড়সও একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর সব্জি। ফাইবার, ভিটামিন সি, কে এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে সমৃদ্ধ। ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে, হজমশক্তি বাড়াতে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে অত্যন্ত কার্যকর এটি। নিয়মিত ঢেঁড়স খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, রক্তাল্পতা দূর হয় এবং ত্বক উজ্জ্বল থাকে। কিন্তু ত্বকের জন্য ঢেঁড়সের উপকারিতা নিয়ে এখনও তেমন কোনও প্রামাণ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং কাঁচা সব্জির শক্ত ফাইবারের সংস্পর্শে ক্ষতি হতে পারে ত্বকের। অনেকের অ্যালার্জির সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
ঢেঁড়স তাই খাওয়ার টেবিলেই শোভা পায়, ত্বকের উপরে নয়। তবে ঢেঁড়স উপকারী সব্জি, তাই সুষম আহারে এই সব্জি যোগ করলে সামগ্রিক ভাবে শরীর সুস্থ থাকে, ফলে ত্বকও ভাল থাকে।