Hair Treatments

স্পা বা কেরাটিন নয়, তারকাদের মতো চুল পেতে আরও অনেক থেরাপি হয় কলকাতায়, সেগুলি কী? খরচ কত?

কেশসজ্জা যতই সুন্দর হোক না কেন, রুক্ষ চুলে তা মানাবে না। চুল উঠে পাতলা হয়ে গেলেও দেখতে ভাল লাগবে না। চুলের সাজসজ্জার জন্যও নানা রকম ‘বিউটি ট্রিটমেন্ট’ হয় এখন। দাবি করা হয় যে, সে সব থেরাপিতে তারকাদের মতোই সুন্দর ও ঝকঝকে চুল হবে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১১ মে ২০২৬ ১০:০৪
Hair Botox, Olaplex and More, a guide to advanced Hair Treatments in Kolkata

চুলের কী কী থেরাপি আছে হাতের নাগালেই, খরচ কত? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

চুল ভাল রাখতে স্পা করিয়ে নিলেই হবে। এই ধারণাই ছিল এক সময়ে। নিদেনপক্ষে আরও একটু খরচ করতে পারলে কেরাটিন থেরাপি করাতেন কেউ কেউ। ইদানীং তারকাদের মতো মসৃণ, ঝকঝকে চুল পেতে হেয়ার স্মুদনিং করানোর চলও হয়েছে। একমাথা কোঁকড়া চুল নিয়ে যিনি হিমশিম খাচ্ছেন, তিনিও পাড়ার পার্লারে গিয়ে স্মুদনিং করিয়ে চুল সোজা ও মসৃণ করে আসছেন। তবে হালফিলের হেয়ার ট্রিটমেন্টের কথা যদি বলা হয়, তা হলে স্পা, কেরাটিন বা স্মুদনিংও এখন সেকেলে। আরও অনেক রকম থেরাপি হয়, যা চুলের চেহারাই বদলে দেবে। কোনওটিতে চুল পড়া বন্ধ হয়ে ঘনত্ব বাড়বে, কোনওটি আবার কেরাটিনেরই নতুন সংস্করণ যা রুক্ষ চুলের হাল ফেরাবে, কোনওটিতে আবার টাকে নতুন চুল গজাবে। এ সব থেরাপি কলকাতাতেও হয়।

Advertisement

হেয়ার বোটক্স

ত্বকের বয়স ধরে রাখতে অনেকেই সাহায্য নেন স্কিন বোটক্সের। তেমনই চুলের জন্যও বোটক্স হয়। তবে তার পদ্ধতি আলাদা। ত্বকের বোটক্স আর চুলের বোটক্স কিন্তু একেবারেই এক নয়। ত্বকের বোটক্সের মতো এতে ‘বোটুলিনাম টক্সিন’ ব্যবহার করা হয় না। পুরোটাই সালোঁতে বিশেষ উপায়ে কেশ পরিচর্যার মাধ্যমে করা হয়। হেয়ার বোটক্স মূলত প্রোটিন, কোলাজেন, ভিটামিন, অ্যামিনো অ্যাসিড, কেরাটিন ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টের মিশ্রণ। এই উপাদানগুলি চুলে পুষ্টির জোগান দেয়। কেরাটিন ট্রিটমেন্ট করলে সেই চুল স্ট্রেট হয়ে যায়। চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যায়। কিন্তু হেয়ার বোটক্সে তা হয় না, চুলের গঠন আগের মতোই থাকে।

চুলের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী বোটক্সের খরচ নির্ভর করবে। সাধারণত খরচ ২৫০০ থেকে ৮০০০ টাকার মধ্যেই থাকে। তবে নামী সালোঁয় গেলে খরচ বাড়তে পারে।

নানা রকম হেয়ার থেরাপি হয় কলকাতাতেও।

নানা রকম হেয়ার থেরাপি হয় কলকাতাতেও। ছবি: ফ্রিপিক।

ন্যানোপ্লাস্টিয়া

ন্যানো প্রযুক্তির সাহায্যে এই চিকিৎসা করা হয়। সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম কণা বা ‘ন্যানো-পার্টিকল’ চুলের গোড়ায় পাঠানো হয়। এই কণাগুলি তৈরি হয় অ্যামিনো অ্যাসিড, ভিটামিন, প্রোটিন দিয়ে, যা চুলের গোড়ায় গিয়ে পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে। এতে চুলের গোড়া মজবুত হয় ও চুল পড়ার সমস্যা দূর হয়। ন্যানোপ্লাস্টিয়া ট্রিটমেন্টে ফর্মালডিহাইডের ব্যবহার নেই, তাই এটি চুলের জন্য ভাল। চুল অতিরিক্ত রুক্ষ ও শুষ্ক হলে এই থেরাপি কাজে আসবে। যাঁদের চুল পড়ার সমস্যা বেশি, তাঁরা করাতে পারেন। অতিরিক্ত ডাই বা রাসায়নিক দেওয়া ক্রিম বা জেল ব্যবহার করে যাঁদের চুলের বেহাল দশা, স্পা করিয়েও লাভ হচ্ছে না, তাঁরা এই থেরাপির সাহায্য নিতে পারেন।

ন্যানোপ্লাস্টিয়া থেরাপির স্থায়িত্ব ৬-৮ মাস। তবে চুলের যত্ন কী ভাবে নিচ্ছেন, তার উপর নির্ভর করবে। এই থেরাপির খরচ ৪ থেকে ১৫ হাজারের মধ্যে। তবে কোন সালোঁতে করাচ্ছেন, কোন ব্র্যান্ডের পণ্য দিয়ে থেরাপি হচ্ছে, তার উপর খরচ নির্ভর করবে।

প্লেটলেট-রিচ প্লাজ়মা থেরাপি

প্লেটলেট-রিচ প্লাজ়মা থেরাপি (পিআরপি) ক্ষত নিরাময়ের চিকিৎসায় প্রয়োগ করা হয়। চুলেও এই থেরাপি করা হচ্ছে এখন। এ ক্ষেত্রে রোগীর নিজের শরীরের প্লাজ়মা নিয়ে তা মাথার ত্বকে ইনজেক্ট করা হয়। ছোট সিরিঞ্জ বা ডার্মারোলারের মাধ্যমে থেরাপিটি করা হয়। চুল পড়ার সমস্যা খুব বেশি হলে বা অ্যালোপেশিয়ার কারণে টাক পড়ার সমস্যা দেখা দিলে এই থেরাপি করা যেতে পারে। প্লাজ়মা মাথার ত্বকে ইনজেক্ট করলে চুলের গোড়ায় ফের অক্সিজেন ও পুষ্টি উপাদান পৌঁছয়। এতে নতুন করে চুল গজানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। হেয়ার ট্রান্সপ্লা্টের বদলে এখন এই থেরাপির জনপ্রিয়তা বাড়ছে। তবে অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেশিয়ার কারণে টাক পড়ে গেলে তখন কত সময় ধরে ও ক’টি সেশনে এই থেরাপি করাতে হবে, তা জেনে নেওয়া জরুরি।

তারকাদের মতো চুল পেতে কেউ করান ন্যানোপ্লাস্টিয়া, আবার কেউ পিআরপি থেরাপি।

তারকাদের মতো চুল পেতে কেউ করান ন্যানোপ্লাস্টিয়া, আবার কেউ পিআরপি থেরাপি। ছবি: ফ্রিপিক।

পিআরপি থেরাপির খরচ ৩০০০ থেকে ৭০০০ টাকা। সাধারণত ৫ থেকে ৬টি সেশন লাগে।

ওলাপ্লেক্স হেয়ার ট্রিটমেন্ট

হুজুগে গা ভাসিয়ে বহু বার চুলে রং করিয়েছেন। প্রত্যেক বার চুলে নতুন নতুন রং করাতে গেলে ব্লিচ তো করতেই হয়। এই রাসায়নিক ব্যবহারে চুলের ক্ষতি হয়। আর ক্ষতিগ্রস্ত চুলের হাল ফেরাতেই ওলাপ্লেক্স থেরাপি কার্যকরী হতে পারে। এই থেরাপির কাজ হল চুলের নষ্ট হয়ে যাওয়া ডাইসালফাইড ও প্রোটিনের বন্ধনগুলিকে জোড়া লাগানো। এতে চুল ফের আগের মতো জেল্লাদার হয়ে উঠবে। চুলের গোড়া মজবুত হবে ও চুল পড়াও বন্ধ হবে। মূলত ব্লিচ, ডাই, হিট স্টাইলিং বা কেমিক্যাল ট্রিটমেন্টের পরে ক্ষতিগ্রস্ত চুলের মেরামতির জন্যই থেরাপিটি করা হয়। সব ধরনের চুলেই এটি কার্যকর। নিয়মিত চুলে হাইলাইট করান যাঁরা, তাঁরা থেরাপিটি করালে চুল ভাল থাকবে, অকালে পেকে যাবে না।

ওলাপ্লেক্স থেরাপির খরচ প্রতি সেশনে ২৫০০ টাকা থেকে ৬০০০ টাকার মধ্যে। তবে কোন সালোঁয় করাচ্ছেন, তা গুরুত্বপূর্ণ। সেই অনুযায়ী খরচের হেরফের হতে পারে।

সিস্টিন হেয়ার থেরাপি

এটি কেরাটিনের একটি উন্নত ও নিরাপদ সংস্করণ। এতে ফর্মালডিহাইড বা ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে না। এই থেরাপিতে আগে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধোয়া হয়। এর পর ভিজে চুলে সিস্টিন কমপ্লেক্স নামক প্রোটিন দিয়ে পরিচর্যা করা হয়। ৩০-৪৫ মিনিট রাখা হয়। তার পর চুল ড্রায়ার দিয়ে শুকিয়ে হালকা আয়রন করা হয়, যাতে প্রোটিন চুলের গোড়ায় ঢুকে যায়। সবশেষে ধুয়ে কন্ডিশনিং করা হয়। সিস্টিন হল এক প্রকার অ্যামিনো অ্যাসিড, যা চুল, নখ ও ত্বকে থাকে। এর মাত্রা কমে গেলেই চুল রুক্ষ, নিস্তেজ হয়ে যায়। ডগা ফাটার সমস্যা দেখা দেয়। অত্যধিক প্রসাধনী ব্যবহারে চুলে এর মাত্রা কমতে থাকে। তাই থেরাপিটি করালে কয়েক মাসের জন্য চুলে সিস্টিনের মাত্রা বাড়বে এবং চুলও স্বাস্থ্যকর ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।

হেয়ার ট্রিটমেন্ট।

হেয়ার ট্রিটমেন্ট। ছবি: ফ্রিপিক।

কোঁকড়ানো চুলে স্ট্রেটনিং করাতে আপত্তি থাকলে এই থেরাপিটি করানো যেতে পারে। এতে কেরাটিনের মতো চুল সোজা হয়ে যাবে না, মসৃণ ও উজ্জ্বল হবে। খরচ ৫০০০ থেকে ১২০০০ টাকার মধ্যে।

ওজ়োন থেরাপি

মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে চুল পড়া কমায় ও খুশকি নাশ করে। এই থেরাপি করালে মাথার ত্বকের অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাব দূর হবে, চুলকানি বা র‌্যাশের সমস্যা কমবে। চুলের ঘনত্বও বাড়বে। ওজ়োন গ্যাস ব্যবহার করে চুলের গোড়ায় অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়। এতে চুলের গোড়া মজবুত হয় ও ঘনত্ব বাড়ে। যাঁদের চুল খুব পাতলা, খুশকির সমস্যা বেশি, তাঁরা এই থেরাপি করালে উপকার পেতে পারেন।

ওজ়োন থেরাপির খরচ প্রতি সেশনে ১৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা। চুল পড়ার সমস্যা বেশি হলে ৩ থেকে ৪টি সেশনের প্রয়োজন হতে পারে।

Advertisement
আরও পড়ুন