পুড়ে যাওয়া ক্ষতের জ্বালা কমবে কী উপায়ে, সহজ ঘরোয়া টোটকা। ছবি: ফ্রিপিক।
রান্নার সময়ে ছেঁকা লাগা বা মাছ ভাজার তেল ছিটকে এসে হাতে, গলায় বা মুখে ফোস্কা পড়া খুব অস্বাভাবিক নয়। তার পর ধরুন, গরম তেল বা গরম জল হাতে পড়ে পুড়ে গেল অনেকটা, তখন দাঁত মাজার মাজন বা অ্যান্টিসেপটিক মলম লাগিয়েই নিশ্চিন্ত হলেন। পোড়ার জায়গাটা ঠান্ডা হল বটে, কিন্তু আদৌ কি সেটা স্বাস্থ্যকর হল? ছেঁকা লেগে ফোস্কা বা জ্বালাপোড়ার ক্ষতে সবচেয়ে আগে বরফ ঘষা হয়। তার পর কেউ মাজন লেপে দেন ক্ষতে, আবার কেউ বিভিন্ন রকম অ্যান্টিসেপটিক মলম লাগিয়ে নেন। কিন্তু জানেন কি, পোড়া জায়গায় বরফ ঘষা বা মাজন লাগানো একেবারেই উচিত নয়।
চিকিৎসকদের মতে, শরীরের কোনও জায়গা পুড়ে গেলে সবচেয়ে আগে ক্ষতস্থানে ঠান্ডা জল দিতে হবে। বরফ জল হলে খুবই ভাল। তাই বাড়ির ফ্রিজে আগে থেকেই জল ভরে রাখুন। ক্ষত স্থানে ভুলেও বরফ দেবেন না। এতে শরীরের তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করা যায় না।
হাতের কাছে সিলভার সালফার ডায়োজিন বা ন্যানো সালফার জাতীয় মলম মজুত রাখুন। অল্প পুড়লে ঠান্ডা জল কিছু ক্ষণ ক্ষতস্থানে দেওয়ার পর এই মলম লাগিয়ে নিন। তার উপর গজ বেঁধে দিন ক্ষত স্থানটিতে।
আরও কিছু উপায় আছে, যেমন পোড়া ত্বকের উপর অ্যাল ভেরা জেল লাগান। জ্বালা কমে যেমন ঠান্ডা অনুভূতি হবে, তেমনই ক্ষতও সারবে তাড়াতাড়ি। কাঁচা মধু অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে অসাধারণ কাজ করে। পুড়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতে মধু লাগান। জ্বালা কমে যাবে। পোড়ার দাগও হবে না। ল্যাভেন্ডার অয়েলও এ ক্ষেত্রে ভাল। তবে ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। খেয়াল রাখবেন, পোড়া জায়গায় নারকেল তেল বা অন্য কোনও তেল, ক্রিম লাগাবেন না। এতে সংক্রমণ বাড়বে। ঘা না শুকোনো পর্যন্ত ময়লা, তেল যেন না লাগে।
আগে বুঝতে হবে, ক্ষত কতটা গভীর, সেই মতো চিকিৎসা শুরু হবে। চিকিৎসকেদের মতে, পোড়া ক্ষত তিন রকমের হতে পারে। ‘মাইল্ড’ বা অল্প, ‘মডারেট’ বা মাঝামাঝি এবং ‘সিভিয়ার বা অনেকটা জায়গা জুড়ে জ্বালাপোড়া ক্ষত। গরম পাত্র বা কড়াই ধরতে গিয়ে ছেঁকা লাগা, গরম তেল ছিটকে আসা, বা গরম জল বা তেল গায়ের কোথাও পড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও ফোস্কা পড়ে যায়। এগুলো সবই অল্প বা মাঝারি। কিন্তু ধরুন, স্টোভ বা গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে গিয়ে কেউ পুড়ে গেলে তা সাঙ্ঘাতিক। তখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।