Brain Tumours

খুলি কাটাছেঁড়া না করেই ধরা পড়বে ব্রেন টিউমার, লিকুইড বায়োপসিতে সম্ভব, নতুন পদ্ধতিটি কী?

মস্তিষ্কে টিউমার কোষ গজিয়ে উঠছে কি না, তা জানতে হলে মগজের কোষ কাটাছেঁড়া করার প্রয়োজন হয়। সেই পদ্ধতি যন্ত্রণাদায়ক ও জটিল। এর চেয়ে সহজ ও কার্যকরী পদ্ধতি হল লিকুইড বায়োপসি যা বর্তমানে চিকিৎসকের ভরসা হয়ে উঠেছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২০ মার্চ ২০২৬ ১২:৩১
Scientists say a simple blood test could detect brain tumours very quickly

লিকুইড বায়োপসি কী, সাধারণ বায়োপসির চেয়ে কতটা আলাদা? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

মস্তিষ্কের অন্দরে কী ঘটছে, তা জানতে খুলি এ ফোঁড়-ও ফোঁড় করার প্রয়োজন নেই। টিউমার কোষ গজাচ্ছে না ক্যানসার ডালপালা মেলছে, তা জানতে জটিল কোনও পরীক্ষা পদ্ধতির মধ্যে দিয়েও যেতে হবে না। মগজের ভিতরে কী ঘটছে, কোনও রোগ ঘাপটি মেরে রয়েছে কি না, তা ধরা যাবে কাটাছেঁড়া ছাড়াই। মুশকিল আসান করবে লিকুইড বায়োপসি। সাধারণ বায়োপসির চেয়ে কম জটিল এবং রোগীর যন্ত্রণাও কম হবে।

Advertisement

ক্যানসার ধরতে লিকুইড বায়োপসির প্রয়োগ আগেই করেছিল অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি। এখন ব্রেন টিউমার শনাক্তকরণেও এই পদ্ধতিটিকে কাজে লাগাচ্ছেন সেখানকার বিজ্ঞানীরা। তাঁদের দাবি, বিনাইন (ক্যানসার নয়) টিউমার হোক বা ক্যানসার— লিকুইড বায়োপসিতে প্রায় ৯০ শতাংশ সঠিক ভাবে ধরা পড়ে। মস্তিষ্কের কোনও কোষের অস্বাভাবিক বিভাজন ঘটে তা পরবর্তীতে ক্যানসারের রূপ নেবে কি না, তা-ও ধরা পড়বে এই পরীক্ষায়।

সাধারণ বায়োপসির চেয়ে কতটা আলাদা?

টিস্যু বায়োপসি মানে হল আক্রান্ত জায়গা থেকে কোষের কিছুটা নমুনা নিয়ে সেটা পরীক্ষা করা। ব্রেন টিউমারের ক্ষেত্রে খুলি কেটে মগজের কোষ নিয়ে পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয়। সে পদ্ধতি যন্ত্রণাদায়ক ও জটিল। কিন্তু লিকুইড বায়োপসিতে তা করার প্রয়োজন নেই। সেখানে রক্ত, লালা বা প্রস্রাবের নমুনা নিয়ে তা পরীক্ষা করা হয়। রক্তের মধ্যে ক্যানসার কোষ রয়েছে কি না বা থাকলেও সেগুলির গতিবিধি কেমন, তা জানতে বিশেষ এক ধরনের মার্কারও ব্যবহার করা হয়। সাধারণত, টিউমার বা ক্যানসারের কোষ তৈরি হলে সেখান থেকে বিশেষ রকম প্রোটিন নিঃসৃত হয়। সে প্রোটিন মিশে যায় রক্ত ও প্লাজমায়। সেটিই চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয় লিকুইড বায়োপসিতে।

তা ছাড়া রক্তে ভাসমান ক্যানসারের ডিএনএ বা মাইক্রোআরএনএ খোঁজার চেষ্টাও করা হয় লিকুইড বায়োপসিতে। রক্তের নমুনা নিয়ে সেখানে ডিএনএ-র তথ্য বিশ্লেষণ করে চিকিৎসকেরা দেখেন, এমন কোনও জিন রয়েছে কি না, যার রাসায়নিক বদল (মিউটেশন) ঘটলে ক্যানসার কোষের জন্ম হতে পারে। এই ডিএনএ-র টুকরোগুলিকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয় ‘সার্কুলেটেড সেল-ফ্রি ডিএনএ’ (সিসিএফডিএনএ)। এগুলি সাধারণ বায়োপসি দিয়ে ধরা সম্ভব নয়।

লিকুইড বায়োপসি দিন দিন নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠছে বলে দাবি গবেষকদের। তবে এখনও টিস্যু বায়োপসির পুরোপুরি বিকল্প হয়ে ওঠেনি। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, সব ধরনের ক্যানসার এতে ধরা পড়ে না। তাই লিকুইড বায়োপসিকে আরও উন্নত করার চেষ্টা চলছে।

Advertisement
আরও পড়ুন