ল্যাকমে ফ্যাশন উইকে কলকাতার গল্প। ছবি: দেবর্ষি সরকার
আলো-আঁধারি র্যাম্প। নেপথ্যে কখনও সরোদের সুর, কখনও বা ‘সুন্দরী কমলা’র তাল। মঞ্চের শেষ প্রান্তে পর্দায় ফুটে উঠছে কলকাতার ঝলক। ভিক্টোরিয়া হোক বা হাওড়া ব্রিজ, বইপাড়া হোক বা ট্রাম— তারই সামনে দিয়ে নারীদের আগমন। পরনে বাংলার হাতে বোনা বয়নশিল্পের ছোঁয়া, কপালে ঘাঁটা সিঁদুর। মার্জার সরণিতে এ বার মুখ্যচরিত্রে কলকাতা শহরের অলিগলি ও বাংলার বয়নশিল্প।
শহরের চরিত্র মেলে ধরার জন্য নানা রঙের ব্যবহার মঞ্চে। ছবি: দেবর্ষি সরকার
মডেলদের পরনে বাংলার হাতে বোনা বয়নশিল্পের ছোঁয়া, কপালে ঘাঁটা সিঁদুর। ছবি: দেবর্ষি সরকার
বাংলার ঢাকাই জামদানি, হাতের সূক্ষ্ম কাজ, প্যাচওয়ার্কের পাশাপাশি, শহরের সংস্কৃতি, সাহিত্য, শিল্পের ইতিহাসকে তুলে আনলেন দুই পোশাকশিল্পী নীলাঞ্জন ঘোষ এবং কণিকা সচদেব। ফ্যাশন ডিজ়াইন কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (এফডিসিআই) এবং ল্যাকমে ফ্যাশন উইকের যৌথ উদ্যোগে দেশের অন্যতম বৃহৎ র্যাম্পে জায়গা করে নিল কলকাতা।
ল্যাকমে ফ্যাশন শো-এ বাংলার বুননশিল্প। ছবি: দেবর্ষি সরকার
বলিউড তারকা নিমরত কৌরের সঙ্গে পোশাকশিল্পী কণিকা সচদেব এবং নীলাঞ্জন ঘোষ। ছবি: দেবর্ষি সরকার
এই ফ্যাশন-মঞ্চে বলা হল সেই শহরের কথা, যা অন্যান্য দ্রুতগতির শহরের তুলনায় ভিন্ন ছন্দে চলে। এখানে এখনও অল্প হলেও আড্ডার সময় রয়েছে, কথা বলার সময় রয়েছে, সাহিত্য-শিল্প চর্চার অবকাশ রয়েছে। পাড়ার আড্ডা আগের মতো রাস্তায় না হলেও, ক্যাফেতে বসে সেই আড্ডাই নতুন রূপ নিয়েছে। বিশ্বের রাজনীতি থেকে কবিতা, সব বিষয়েই আলোচনা হয় সেখানে। অর্থাৎ শহর বদলাচ্ছে, অথচ তাতে যেন পাল্টে যাওয়ার ধাক্কা তুলনায় কম।
ঢাকাই জামদানি, হাতের সূক্ষ্ম কাজ, প্যাচওয়ার্কের নজির। ছবি: দেবর্ষি সরকার
শহরের সেই বৌদ্ধিক চরিত্রকেই ধরতে চেয়েছেন কণিকা ও নীলাঞ্জন। তাই তাঁদের মতে, ‘ক্যালকাটা’ থেকে কলকাতা, নামের বদল হলেও শহরের আত্মায় পরিবর্তন নেই। আর এই বদল আচমকা হয়নি, বরং ধীরে ধীরে কেবল এগিয়েছে এ শহর। বড় হয়েছে কলকাতা। কিন্তু তার পুরনো স্মৃতি আর সংস্কৃতি এখনও টিকে রয়েছে।
বাংলার চরিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে নানা কাপড় মিশিয়ে পোশাক তৈরি হয়েছে। ছবি: দেবর্ষি সরকার
টিস্যু, অর্গ্যানজ়া, সিল্ক চন্দেরি আর ডেনিমের মতো কাপড়ের মিশ্রণে তৈরি করা হয়েছে মডেলদের পোশাক। সোনালি, আইভরি, নীল, নীলচে সবুজ, বারগান্ডি আর কোরাল রঙের ব্যবহারেও রয়েছে বৈচিত্র। শহরের চরিত্র মেলে ধরার জন্য এই রংগুলির ব্যবহার করেছেন পোশাকশিল্পীরা। আর সেই সাজের অংশ ছিলেন বলিউড তারকা নিমরত কৌরও। শো-স্টপারের পরনে ছিল, সোনালি জামদানি ধাঁচের করসেট, তার সঙ্গে এক হাতাযুক্ত কাটওয়ার্কের জ্যাকেট এবং ড্রেপড স্কার্ট। হাতেবোনা কাপড় পরে ঐতিহ্য আর সাম্প্রতিককে এক সুতোয় মিলিয়ে র্যাম্পে হাঁটলেন বলিউড অভিনেত্রী। পিছনে চলতে থাকল এই শহরের অলিগলির ঝলক।