Summer Skin Care for Child

গরমে সারা গায়ে ঘামাচি হচ্ছে শিশুর? বাজারচলতি ক্রিম-পাউডার নয়, কী কী মাখালে ত্বক ভাল থাকবে?

প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের ত্বক অনেক বেশি স্পর্শকাতর। তাই তা শুষ্ক হয়ে গেলে নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষত গরমকালে প্রখর রোদ এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি শিশুর কোমল ত্বকের খুব বেশি ক্ষতি করে। তাই এই সময়ে শিশুদের ত্বকের জন্য বাড়তি যত্ন প্রয়োজন।

Advertisement
শেষ আপডেট: ০১ মে ২০২৬ ১৭:৩৮
Natural home remedies for kids Prickly Heat

গরমে ঘামাচির সমস্যা দূর হবে, জেনে নিন ঘরোয়া টোটকা। ছবি: ফ্রিপিক।

ছোটদের ত্বক বেশি কোমল, নমনীয়। অনেকেই বড়দের ব্যবহারের ক্রিম, পাউডার, সাবান শিশুর জন্যও ব্যবহার করেন। কিন্তু তা একেবারেই ঠিক নয়। শিশুদের ত্বক সংবেদনশীল হওয়ায় খুব তাড়াতাড়ি র‌্যাশ বেরিয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে গরমের দিনে। রোদে পুড়ে শিশুর ত্বকে কালচে দাগ পড়তে পারে আবার গরমে ঘামাচি বা র‌্যাশের সমস্যাও দেখা দেয়। গরম পড়তেই যদি শিশুর মুখে, হাতে, গলায় ঘামাচি বেরোতে থাকে, তা হলে বাজারচলতি ক্রিম বা পাউডার না মাখিয়ে বরং ঘরোয়া কিছু প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। এতে ঘামাচি বা হিট র‌্যাশের সমস্যা কমবে, ত্বকের জ্বালা ভাব দূর হবে।

Advertisement

বছরের অন্যান্য সময়ের থেকে গরম কালে শিশুর যত্ন নেওয়া বেশি কঠিন। গ্রীষ্মকালে শিশুর ঘাম বেশি হয়। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, তাকে একাধিক বার স্নান করাতে হবে। আবার গরম বলেই খুব ঠান্ডা জলে স্নান করাতে হবে, তা-ও নয়। র‌্যাশ হলে বাজারচলতি কড়া রাসায়নিকযুক্ত পাউডার বা ক্রিম অনেক সময় ঘাম নিঃসরণের পথ বন্ধ করে সমস্যা আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই ঘরোয়া উপায়ে ভরসা রাখাই শ্রেয়।

ঘামাচি সারাতে কী কী মাখাবেন শিশুকে?

মুলতানি মাটির প্রলেপ

মুলতানি মাটি ত্বককে ঠান্ডা রাখতে এবং ঘামাচি বা র‌্যাশের জ্বালা কমাতে সাহায্য করে। মুলতানি মাটির সঙ্গে সামান্য গোলাপ জল মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে নিন। শিশুর ঘামাচি হওয়া জায়গায় লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট রাখুন। শুকিয়ে যাওয়ার আগেই হালকা ভিজে কাপড় দিয়ে মুছে দিন।

চন্দন ও মধুর প্যাক

ত্বকের অতিরিক্ত শুষ্ক ভাব দূর হবে, ঘামাচি ও র‌্যাশের সমস্যাও কমবে চন্দনের প্রলেপে। এর সঙ্গে মিশিয়ে নিতে হবে খানিকটা মধু। চন্দন বাটা বা চন্দন গুঁড়োর সঙ্গে জল মিশিয়ে একটু পাতলা মিশ্রণ তৈরি করে নিন। এর সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে ঘামাচির উপর লাগিয়ে রাখুন। এটি অ্যান্টিসেপটিক হিসাবেও কাজ করবে।

নিম-তুলসির পাতার রস

জলে নিম পাতা ও তুলসি পাতা ফুটিয়ে নিতে হবে। সেই জল ঠান্ডা করে শিশুর স্নানের জলের সঙ্গে মিশিয়ে নিন। অথবা পাতা বাটা রস ঘামাচি বা র‌্যাশের জায়গায় লাগিয়ে মিনিট পনেরো রেখে ধুয়ে ফেলুন।

বেসন-হলুদের প্যাক

এক চা চামচ বেসনের সঙ্গে কিছুটা হলুদগুঁড়ো এবং এক চামচ টম্যাটোর রস মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে নিন। খুদের মুখে, দুই হাতে ভাল করে মালিশ করে ১৫-২০ মিনিট রেখে দিন। তার পর উষ্ণ জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। বেসন খুব তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়, তাই বেশি ক্ষণ রেখে দিলে চামড়া কুঁচকে যাবে।

তরমুজ ও চালের গুঁড়োর কুলিং প্যাক

তরমুজে প্রচুর পরিমাণে জল থাকে যা ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে। চালের গুঁড়ো অতিরিক্ত ঘাম নিয়ন্ত্রণ করে। বীজ বার করে নিয়ে ২ টুকরো তরমুজের লাল অংশের সঙ্গে এক চামচ চালের গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। যেখানে ঘামাচি বেশি সেখানে প্রলেপ দিন। মিনিট দশেক রেখে ধুয়ে ফেলুন।

Advertisement
আরও পড়ুন