Collagen Boosting Food

কোলাজেন পিল নেওয়ার খুব চল এখন, আদৌ কি স্বাস্থ্যকর? বদলে কিছু খাবার থেকেও পাওয়া যাবে প্রোটিনটি

কোলাজেন পিল বা সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার খুব চল হয়েছে এখন। তারকাদের দেখাদেখি এমন সাপ্লিমেন্ট নিচ্ছেন অনেকে। পিল নিয়ে ত্বক ও চুল ভাল থাকবে, বার্ধক্যের ছাপ মুছে ফেলা যাবে, এই হল উদ্দেশ্য। তবে আদৌ কি এমন পিল নিয়মিত খাওয়া স্বাস্থ্যকর?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৫০
These are some veg foods to boost collagen naturally

পিল থেকে নয়, কোলাজেন পাওয়া যাবে কিছু খাবার থেকেই। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক।

চুলে পাক ধরবে না। ত্বক থাকবে টানটান। বার্ধক্যে পৌঁছেও যৌবনের জেল্লা ধরে রাখার বাসনায় নানা রকম অ্যান্টি-এজিং চিকিৎসা নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা চলছে। বিভিন্ন রকম থেরাপিও এসে গিয়েছে। বয়স কম দেখাতে অ্যান্টি-এজিং ক্রিম বা পিল খাওয়ার চলও হয়েছে এখন। এর মধ্যেই উঠে এসেছে আরও একটি নাম কোলাজেন পিল বা কোলাজেন সাপ্লিমেন্ট। বছর কয়েক আগেও কোলাজেন বস্তুটি কী, তা জানা ছিল না। কিন্তু এখন অনেকেই জানেন।

Advertisement

কোলাজেন হল এক রকম প্রোটিন যা শুধু ত্বকে নয়, হাড়, নখ, রক্তনালি, পেশিতেও থাকে। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এর পরিমাণ কমতে থাকে। কোলাজেন যতদিন ঠিকঠাক মাত্রায় থাকে, ততদিনই ত্বকের জেল্লা বজায় থাকে। ত্বক টানটান থাকে, বলিরেখা পড়ে না। আর এর মাত্রা কমতে শুরু করলেই তখন চামড়া কুঁচকে যেতে থাকে, মুখে-চোখে ক্লান্তির ছাপ পড়ে। তাই এই প্রোটিনটির মাত্রা যাতে না কমে সে জন্যই এত প্রচেষ্টা। বয়সকালেও যাতে কোলাজেন প্রোটিনের উৎপাদন যৌবনের মতোই হয়, সে জন্য পিল বা সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার এই উন্মাদনা। কোলাজেন পিল এমনিতে নিরাপদ। কিন্তু নিয়মিত তা খেতে শুরু করলে এর প্রভাব ভাল না-ও হতে পারে। যে কোনও সাপ্লিমেন্ট নেওয়ারই নিয়ম থাকে। তার নির্ধারিত ডোজ়ও থাকে। সাপ্লিমেন্ট কাদের জন্য ভাল ও কাদের জন্য নয়, তা একমাত্র চিকিৎসকই বলতে পারেন। কাজেই নিজে থেকে যে কোনও সাপ্লিমেন্ট নিতে শুরু করলে তার ফল বিপজ্জনকও হতে পারে।

চিকিৎসকেরা বলেন, নিয়ম মেনে চললে শরীরে কোলাজেন উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। এর জন্য অন্যতম উপায় হল খাদ্যাভ্যাসে প্রয়োজনীয় বদল আনা। সুষম খাবার অর্থাৎ পর্যাপ্ত পরিমাণে এবং নির্দিষ্ট গুণমানের খাবার পাতে থাকা অত্যন্ত জরুরি। আর সেটা হলে কোলাজেন উৎপাদন বাড়াতে কৃত্রিম কোনও উপায়ের দরকার পড়ে না।

কী কী খেলে কোলাজেন তৈরি হবে প্রাকৃতিক উপায়েই?

ভিটামিন সি আছে এমন খাবার

কোলাজেনের আর একটি উপাদান হল হাইড্রক্সিপ্রোলিন। আর তা বৃদ্ধির চাবিকাঠি রয়েছে ভিটামিন সি জাতীয় খাবারে। আমলকি, পেঁপে, পেয়ারা, লেবু, আঙুর, ক্যাপসিকাম, আলু, করলার মতো ফল ও আনাজে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। বেদানার মতো বেরি জাতীয় ফলও ভিটামিন সি-তে ভরপুর।

উদ্ভিজ্জ প্রোটিন

কোলাজেনের জন্য জরুরি গ্লাইসিন ও প্রোলিন জাতীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড। প্রাণিজ প্রোটিন থেকে কোলাজেন বেশি পাওয়া যায়, তবে উদ্ভিজ্জ প্রোটিনও জরুরি। ডাল, সয়াবিন, বাদাম বা তিল খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার

কোলাজেনের সংশ্লেষণে জিঙ্ক সহায়ক। কাজু বাদাম, ডাল, চিয়াবীজ, সূর্যমুখীর বীজ, কুমড়োর বীজ, তিসির বীজে প্রচুর পরিমাণে কোলাজেন থাকে। মাশরুম জিঙ্কের ভাল উৎস। তা ছাড়া পনির, ছানা, দই ও দুধেও প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক থাকে।

টম্যাটো

রোজের খাবারে টম্যাটো রাখলে কোলাজেন প্রাকৃতিক ভাবেই তৈরি হবে। টম্যাটোতে থাকে লাইকোপিন নামক যৌগ যা কোলাজেন তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা নেয়।

Advertisement
আরও পড়ুন