কোথায় খুলল রোগা হওয়ার জেল? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ তাঁদের ওজন কমানোর প্রক্রিয়া শুরু করেন। কারও উদ্দেশ্য থাকে রোগা হয়ে সুন্দর দেখানো, কেউ কেউ আবার সুস্থ থাকার তাগিদেই ওজন কমান। মেদ ঝরানোর প্রক্রিয়া মোটেই সহজ নয়। যথাযথ ডায়েট, শরীরচর্চা করে যাপনে বদল আনার পরই ওজন কমে। সম্প্রতি নেটমাধ্যমে জনপ্রিয় হচ্ছে ‘ফ্যাট প্রিজ়ন’ ধারণা। এই প্রোগ্রামটি অল্প সময়ে অনেকটা ওজন ঝরিয়ে ফেলানোর উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে। ভাবছেন তো কোথায় খুলেছে এমন জেল? চিনেই পাবেন এর সন্ধান।
সম্প্রতি এক অস্ট্রেলিয়ান নেটপ্রভাবীর ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে। ভিডিয়োয় তিনি বলছেন, ‘‘অস্ট্রেলিয়ার মোটা মাইনের চাকরি ছেড়ে আমি চিনের এই ফ্যাট প্রিজ়নে ভর্তি হয়েছিলাম। আমার একঘেয়ে জীবন থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলাম।’’
ফ্যাট প্রিজ়নে রোগা হতে কী কী করণীয়?
অস্ট্রেলিয়ান নেটপ্রভাবী জানিয়েছেন তাঁর দিন শুরু হত সকাল সাড়ে ৭টায়। সকাল ৮ টায় সবাই ওজন পরীক্ষা করার জন্য জড়ো হতেন। সকালের সময়সূচিতে ৯:২০ থেকে ১০:৩০ মিনিট বরাদ্দ থাকত অ্যারোবিক্স ক্লাসের জন্য।
এর পর ১১.১৫ মিনিটে দিনের প্রথম খাবার। সকালের জলখাবারে থাকত চারটি ডিম, এক টুকরো রুটি, অর্ধেক টম্যাটো আর কিছুটা শসা।
সকালের জলখাবারের পর, অংশগ্রহণকারীরা কার্ডিয়ো ব্যায়াম করতেন। দুপুর ২:৫০ থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে ভারী ওজন তোলার ব্যায়াম করানো হত। দুপুরের খাবারে ছিল ব্রেইজ়ড হাঁস, পদ্মের শিকড়, ভাজা সব্জি, কিছুটা গাজর আর একটি কলা। তার পর, সবাই দুই ঘন্টার হাই ইনটেনসিটি ট্রেনিং এবং স্পিনিং ক্লাসে অংশগ্রহণ করতেন। রাতের খাবারেও থাকত ফল আর সব্জি। দিনের চূড়ান্ত ওজন পরীক্ষা করার পর, অংশগ্রহণকারীরা বিছানায় যেতেন।
নেটপ্রভাবী বলেছেন, ফ্যাট জেলে বন্দি হয়ে তিনি ১ মাসে প্রায় ৬ কেজি ওজন কমিয়ে ফেলেছেন।
ওবেসিটিতে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় চিনে এই ধরনের ফ্যাট প্রিজ়ন ক্যাম্পের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখানে মিলিটারি পদ্ধতি অনুসরণ করে ওজন কমানো হয়। অপরাধ করার সঙ্গে এ জেলের কোনও সম্পর্ক নেই। তবে এখানকার উচ্চ কংক্রিটের দেওয়াল, গ্যাজেট ব্যবহার করতে না দেওয়া এবং কড়া নজরদারি জেলের থেকে কোনও অংশে কম নয়। ২৮ দিন এই জেলে থাকার জন্য খরচ করতে হয় প্রায় ১০০০ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯০ হাজার টাকা।)