ICC U19 World Cup 2026

টানা ছ’বার! বিশ্বকাপের ফাইনালে বৈভবেরা, বড়রা ট্রফি রক্ষার লড়াইয়ে নামার এক দিন আগেই বিশ্বজয়ের লক্ষ্যে ছোটরা

ছোটদের ক্রিকেটে ভারত প্রায় অপ্রতিরোধ্য। টানা ছ’বার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে প্রমাণ করে দিল আয়ুষ মাত্রের দল। সবচেয়ে বেশি পাঁচ বার ছোটদের বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:১৫
picture of cricket

অর্ধশতরানের পর বৈভব সূর্যবংশী। ছবি: আইসিসি।

টানা ছ’বার ছোটদের বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারত। ক্রিকেটে এমন নজির আর কোনও দলের নেই। বুধবার সেমিফাইনালে আফগানিস্তানকে ৭ উইকেটে হারালেন আয়ুষ মাত্রেরা। হারারের ২২ গজে প্রথমে ব্যাট করে আফগানিস্তান করে ৪ উইকেটে ৩১০ রান। জবাবে ৪১.১ ওভারে ৩ উইকেটে ৩১১ রান ভারতের। ১১৫ রানের ইনিংস খেলে ভারতের জয়কে সহজ করে দিলেন অ্যারন জর্জ। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে রেকর্ড রান তাড়া করে ৫৩ বল বাকি থাকতেই জয় ছিনিয়ে নিল হৃষিকেশ কানিতকারের দল। আগামী শুক্রবার ফাইনালে পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়ন ভারতের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।

Advertisement

কাজে এল না দুই আফগান ব্যাটারের শতরান। ফয়জল শিনোজ়াদার ১১০ এবং উজ়াইরুল্লা নিয়াজ়াইয়ের ১০১ রানের অপরাজিত ইনিংসও আফগানদের স্বপ্নপূরণ করতে পারল না। ৩১১ রান তাড়া করতে নেমে ভারতীয় ইনিংসকে প্রয়োজনীয় গতি দেয় বৈভব সূর্যবংশী। ৯টি চার এবং ৪টি ছয়ের সাহায্যে ৩৩ বলে ৬৮ রানের ইনিংস খেলে ১৪ বছরের ব্যাটার। নুরিস্তানি ওমরজ়াইয়ের বলে বৈভব আউট হওয়ার পর ভারতের রান তোলার গতি বজায় রাখেন অন্য ওপেনার অ্যারন জর্জ এবং তিন নম্বরে নামা অধিনায়ক মাত্রে। আগের ম্যাচে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দু’জনেই ব্যর্থ হয়েছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনাল কারও ইনিংসেই সেই ব্যর্থতার ছাপ ছিল না। যদিও জর্জ এক বার সহজ ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান। শেষ পর্যন্ত শতরান এল তাঁর ব্যাট থেকে।

বৈভব আউট হওয়ার সময় ৯.৩ ওভারে ভারতের রান ছিল ৯০। ওভার প্রতি ৬ রানের কিছু বেশি তোলার লক্ষ্য ছিল ভারতের। পাওয়ার প্লের ১৫ ওভারে ১ উইকেটে ১২৮ রান তোলে ভারত। ছোটদের বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের সাফল্যের নেপথ্যে ছিল শক্তিশালী ব্যাটিং এবং দলের স্পিনারেরা। বুধবার সেমিফাইনালে ব্যাটারেরা রান পেলেও আফগান স্পিনারের প্রত্যাশিত সাফল্য পেলেন না। সুযোগ কাজে লাগান ভারতীয় ব্যাটারেরা। ফলে ভারতের ইনিংসে রান তোলার গতি বজায় ছিল ধারাবাহিক ভাবে। প্রায় প্রতি ওভারে বাউন্ডারি পেয়েছে ভারত। তাতে ওভার প্রতি রান তোলার লক্ষ্য আয়ত্তের বাইরে চলে যায়নি।

দ্বিতীয় উইকেটের জুটিতে জর্জ-মাত্রে তোলেন ১১৪ রান। তাঁদের জুটিই ভারতকে ফাইনালের দিকে এগিয়ে দেয়। মাত্রে ৫৯ বলে ৬২ রান করেন ৫টি চার এবং চারটি ছক্কার সাহায্যে। তাঁকেও আউট করেন ওমরজ়াই। জর্জ সহজ ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যাওয়ার পর ঝুঁকিহীন থাকার চেষ্টা করেছেন। শেষ পর্যন্ত ১০৪ বলে ১১৫ রান করেন জর্জ। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ১৫টি চার এবং ২টি ছক্কা। জর্জ আউট হওয়ার সময় ভারত জয় থেকে ১১ রান দূরে ছিল। চার নম্বরে নেমে দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করলেন বিহান মলহোত্রও। তিনি অপরাজিত থাকলেন ৪৮ বলে ৩৯ রান করে। ৩টি চার মারেন তিনি। শেষে তাঁর সঙ্গে ২২ গজে ছিলেন বেদান্ত ত্রিবেদী (অপরাজিত ৫)। আফগানিস্তানের সফলতম বোলার ওমরজ়াই ৬৪ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন। ৬৭ রানে ১ উইকেট ওয়াহিদুল্লা জ়াদরানের।

টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন আফগানিস্তানের অধিনায়ক আফগান অধিনায়ক মাহবুব খান। প্রথমে ব্যাট করার সুযোগ পেয়েও পাওয়ার প্লের সুবিধা কাজে লাগাতে পারেনি দুই আফগান ওপেনার। ওসমান সাদাত ৭০ বলে ৩৯ রান করেন। খালিদ আহমেদজ়াই ৩১ রান করেন ৩৯ বলে। প্রথম উইকেটের জুটিতে তাঁরা ১২.২ ওভারে ৫৩ রান করেন। আফগান ইনিংস গতি পায় শিনোজ়াদা এবং নিয়াজ়াই ২২ গজে আসার পর। শিনোজ়াদা ৯৩ বলে ১১০ রানের ইনিংস খেলেন ১৫টি চারের সাহায্যে। নিয়াজ়াইয়ে অপরাজিত ১০১ রানের ইনিংস এসেছে ৮৬ বলে। ১২টি চার এবং ২টি ছক্কা মেরেছেন তিনি। তৃতীয় উইকেটের জুটিকে তাঁরা যোগ করেন ১৪৮ রান। তাঁরা ব্যাট করার সময় ভারতীয় বোলাররা কিছুটা চাপে পড়ে যান। আফগানিস্তানের রান তোলার গতি আটকাতে পারছিলেন না দীপেশ দেবেন্দ্রন, কণিষ্ক চৌহানেরা। ভারতের ফিল্ডিংও এ দিন প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি।

শিনোজ়াদা আউট হওয়ার পর ভারত আবার লড়াইয়ে ফেরে। আফগানিস্তানের পরের ব্যাটারেরা বেশি রান তুলতে পারেননি। আজ়িজ়ুল্লা মিয়াখিল ৯ বলে ১২ রান করে আউট হয়ে যান। আব্দুল আজ়ি‌জ ৩ বলে ৭ রান করে অপরাজিত থাকেন। ভারতের সফলতম বোলার কণিষ্ক ৫৫ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন। ৬৪ রানে ২ উইকেট দীপেশের।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নিয়ম অনুযায়ী, এক জন ক্রিকেটার দু’বার ছোটদের বিশ্বকাপ খেলতে পারে না। অর্থাৎ প্রতিবার ভারতের ছোটদের নতুন দল ফাইনালে উঠছে। সবচেয়ে বেশি পাঁচ বার ছোটদের বিশ্বকাপ জিতেছে ভারতই। আগামী শনিবার সূর্যকুমার যাদবেরা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ রক্ষার লক্ষ্য মাঠে নামবেন। তার আগের দিন ষষ্ঠ বার বিশ্বজয়ের জন্য খেলবেন মাত্রেরা।

Advertisement
আরও পড়ুন