অন্দরসাজে কোনও জায়গাই কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। বাড়ির প্রত্যেকটা কোণ সুপরিকল্পিত ভাবে সাজালে তা যেমন দেখতে ভাল লাগে, তেমন সব জায়গার সদ্ব্যবহারও হয়। ঘরের কর্নারগুলো অনেক সময়েই গৃহসজ্জার পরিকল্পনায় ব্রাত্য হয়ে থেকে যায়। অথচ প্রত্যেকটা ঘরের এই কোণগুলোই কিন্তু আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে। আগে দেখে নিন, কোন ঘরের কোন কর্নারটা ফাঁকা রয়েছে। সেই মতো পরিকল্পনা শুরু করুন।
বৈঠকখানায়
- আগেকার দিনের বাড়িতে কাঠের কর্নার টেবিল রাখাই হত গৃহকোণের সাজ সম্পূর্ণ করতে। তার উপরে রাখা থাকত বড় বড় ফুলদানি। তেমন ভাবেই সাজিয়ে তুলতে পারেন ঘরের একটা কোণ। এখন নানা রকম সুন্দর কর্নার টেবিলও পাওয়া যায়। কাঠের, স্টিলের বা সেরামিকের সুদৃশ্য কর্নার টেবিল কিনে সাজিয়ে ফেলতে পারেন।
- টেবিল রাখতে না চাইলে বড় স্ট্যান্ডিং মিরর দিয়েও কোণটা সাজিয়ে ফেলতে পারেন। কাঠের কাজ করা বা সরু ফ্রেমের আয়না দাঁড় করিয়ে সামনে ছোট রাগ বা কার্পেট দিয়ে সাজিয়ে ফেলুন। আয়নার প্রতিবিম্বে ঘরের আয়তনও একটু বড় দেখাবে। অন্দরসাজেও অভিনবত্ব আসবে।
- সোফার পাশাপাশি কোণ সাজাতে একটা স্ট্যান্ডিং ল্যাম্পশেড রাখতে পারেন। এখন ঘরের সৌন্দর্য ধরে রাখতে অ্যাম্বিয়েন্স লাইটের চল। তাই এই ধরনের আলো ঘরের সৌন্দর্যে নতুন দিক সংযোজন করতে পারে।
- আবার ছোট টেবিল-চেয়ার দিয়ে সাজিয়ে একটা স্টাডি তৈরি করে নিতে পারেন এক কোণে। একই ভাবে ডেস্কটপ রেখে অফিস কর্নার করে ফেলতে পারেন।
খানাপিনার সঙ্গী
- অনেক সময়ে ডাইনিং রুমের কোণেও জায়গা থাকে। সেখানটা ফাঁকা রেখে বা বাসনকোসন, বাজারে ঠেসে না রেখে সাজিয়ে ফেলা যায় শেল্ফ দিয়ে। কর্নার করে সুন্দর ক্রকারি শেল্ফ তৈরি করে নিতে পারেন, দেখতে ভাল লাগবে। কাচের বাসন কাচের পাল্লার ভিতরে রাখলে তা সুদৃশ্যও লাগে।
- বাসন রাখার আলাদা জায়গা থাকলে বড় একটা গাছ নিয়ে এসে একটা কোণে বসিয়ে দিতে পারেন। গাছ অবশ্য বৈঠকখানা, ডাইনিং রুম... সব জায়গাতেই রাখা যায়। ছোট রঙিন মই রেখে তার তাকের উপরে ছোট ছোট প্লান্টার দিয়েও সাজানো যায়।
- ডাইনিংয়ের একটা দেওয়ালের কোণ বেছে নিতে পারেন বেসিনের জন্য। জায়গা অনুযায়ী সুদৃশ্য বেসিন রাখলে দেখতে সুন্দর লাগবে।
শয়নকক্ষে
- শোয়ার ঘরে অনেক সময়ে খাট আর আলমারি দিয়েই ঘরে ভরে যায়। বেশি আসবাবের ভিড় না বাড়িয়েও ঘরের কোণটা সুন্দর করে সাজানো যায়। বেডরুমে যদি কোনও কর্নার ফাঁকা থাকে, সেখানে একটা ত্রিকোণ মাপের বুক র্যাক বসিয়ে নিতে পারেন। পছন্দের বই থাকুক তাকে।
- তবে কোনও জিনিস দিয়ে সেই কোণ ভরাতে না চাইলে পারিবারিক বা বেড়াতে যাওয়ার ছবি ফ্রেম করেও সাজিয়ে তুলতে পারেন।
- অনেক সময়ে বাড়িতে ব্যাগ, টুপি রাখার জায়গা পাওয়া যায় না। বেডরুমের একটা কোণ ধরে সরু করে শেল্ফ বানিয়ে নিলে এগুলো রাখতে সুবিধে হবে। জায়গাটাও কাজে লাগবে।
- ঘরের কোণ অনুযায়ী দু’পাশের দেওয়ালে সম্ভব হলে জানালা করে নেওয়া যায়। মাঝের অংশে বড় পর্দা ঝোলালে কর্নারটা সুন্দর লাগবে দেখতে।
ঘরের কোণে নীচের দিকে যদি জায়গা না থাকে, তা হলেও অসুবিধে নেই। সে ক্ষেত্রে সিলিং বা দেওয়ালের উপর দিক ব্যবহার করতে হবে সাজানোর জন্য। ধরুন, ডাইনিং রুমের এক কোণে ফ্রিজ আছে, তার উপরে কর্নার করে সুন্দর তাক বানিয়ে নেওয়া যায়। তার উপরে সুদৃশ্য বয়ামে বিস্কিট, স্ন্যাকস ভরে রাখতে পারেন। আবার সিলিং থেকে সুন্দর আলো বা প্লান্টার ঝুলিয়ে দিতে পারেন।
তবে ঘরের কোণ সাজাতে গিয়ে দেখবেন, বেশি জিনিসে যেন সেটা ভারাক্রান্ত হয়ে না পড়ে। অন্দরসাজে পরিমিতি বোধও খুব জরুরি।
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)