Women’s Safety

বিপদে হাতের স্মার্টফোনই হতে পারে অস্ত্র, প্রযুক্তির কোন কোন সুবিধাগুলি নিতে পারেন মেয়েরা?

পকেটে স্মার্টফোন আছে মানেই আর চিন্তা নেই। কেবল কথা বলা, ছবি তোলা বা হোয়াট্‌সঅ্যাপে চ্যাট করাই কিন্তু স্মার্টফোনের একমাত্র সুবিধা নয়। রাস্তাঘাটে বিপদে পড়লে এই ফোনই হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে বড় সুরক্ষাকবচ। শুধু সঠিক সময়ে সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহারের নিয়ম শিখে রাখা জরুরি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৮ মার্চ ২০২৬ ১৫:০৭
How smartphone and technology supports women Safety

এক ক্লিকেই আসবে সাহায্য,যদি জানা থেকে ফোনের কিছু কারিগরি। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

রাতের বেলা বাড়ি ফেরার সময়ে ক্যাবে উঠেছেন। তার পরেই অস্বস্তি শুরু হয়েছে। মনে মনে ভাবছেন, বিপদে পড়বেন না তো? এই সময়ে যদি হাতে থাকা স্মার্টফোনটি সঠিক ভাবে ব্যবহার করতে পারেন, তা হলে সেটিই হয়ে উঠতে পারে রক্ষাকবচ। স্মার্টফোন শুধু কথা বলা, ছবি তোলা বা চ্যাটের জন্য নয়। এর প্রযুক্তিতে এমন আরও কিছু যোগ করা আছে, যা বিপদের দিনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারে। অথচ নিজেদের স্মার্টফোনের সেই প্রযুক্তিগুলিই অজানা অনেকের কাছে।

Advertisement

ধরা যাক, রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন কোনও মহিলা, কিংবা বাড়িতে একাই রয়েছেন। সেই সময়ে হয়তো হঠাৎ কোনও বিপদে পড়লেন, যা থেকে নিস্তার পেতে পুলিশকে ডাকা দরকার। তখন হাতে ধরা মোবাইল ফোনটি সঠিক ভাবে ব্যবহার করলে, এক ক্লিকেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। বিপদবার্তা পৌঁছে যাবে সঠিক জায়গায়। শুধু জেনে নিতে হবে, ফোনের সেটিংসে কী কী অদলবদল করে নিতে হবে। অথবা কোন কোন অ্যাপ মোবাইলে ইনস্টল করে রাখতে হবে।

‘এমার্জেন্সি এসওএস’ ফিচারটি খুব জরুরি। আইফোন বা অ্যান্ড্রয়েড ফোনে পাওয়ার বাটনটি পর পর ৩ থেকে ৫ বার চাপ দিলে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুলিশের কাছে সাহায্যের বার্তা চলে যায়। সেই সঙ্গে বার্তাপ্রেরকের নাম ও অবস্থানও পৌঁছে যাবে পুলিশের কন্ট্রোলরুমে। এই ফিচারটির সুবিধা পেতে ফোনের সেটিংসে গিয়ে সেফটি অ্যান্ড এমার্জেন্সি অপশনে গিয়ে এমার্জেন্সি এসওএস অন করে রাখুন।

বিপদের সময় ফোন করার সুযোগ না-ও পেতে পারেন। এসওএস সক্রিয় হলে ফোন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি মেসেজ বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠজনদের কাছে চলে যাবে। এ বার কাকে কাকে সেই তালিকায় রাখতে চান তা বেছে নিতে হবে। সে জন্য ‘সেফটি অ্যান্ড এমার্জেন্সি’ অপশনে গিয়ে ‘এমার্জেন্সি কনট্যাক্ট’ হিসেবে কিছু ফোন নম্বর সেভ করে রাখুন। ধরুন, বাবা, মা বা কোনও প্রিয়জনকে আপনার অবস্থান জানাতে চান। তা হলে তাঁদের নম্বর উপরের তালিকায় রাখবেন, যাতে প্রয়োজনের সময়ে দ্রুত খুঁজে পাওয়া যায়।

রাস্তায় একা চলাফেরা করলে বা ক্যাবে যাতায়াতের সময় গুগ্‌ল ম্যাপের ‘লাইভ লোকেশন শেয়ারিং’ ফিচারটি ব্যবহার করা যেতে পারে। ‘গুগ্‌ল ম্যাপ’-এ গিয়ে নিজের প্রোফাইলে ক্লিক করুন। তার পর ‘লোকেশন শেয়ারিং’-এ ক্লিক করে আপনার অবস্থান পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে রাখুন।

‘লক স্ক্রিন ইনফো’ ফিচারটিও জেনে রাখা প্রয়োজন। ফোন লক থাকলেও যাতে জরুরি তথ্য দেখা যায়, সে ব্যবস্থা করে রাখতে হবে। পদ্ধতি সহজ। ফোনের সেটিংসে গিয়ে ডিসপ্লে থেকে লক স্ক্রিনে যান। সেখানে জরুরি ফোন নম্বরগুলি সেভ করে রাখুন। বিপদে পড়লে যদি কেউ আপনার ফোনটি হাতে পায়, তা হলে স্ক্রিনের লক না খুলেই জরুরি নম্বরে ফোন করে খবর দিতে পারবে।

প্রযুক্তিগত ভাবে স্মার্টফোন আরও নানা ভাবে সাহায্য করতে পারে। যেমন, ভয়েস কম্যান্ড। হাত দিয়ে ফোন ছোঁয়ার সুযোগ না পেলে চিৎকার করে গুগ্‌লের কাছে সাহায্য চাইতে পারেন।

নিরাপত্তা দিতে পারে এমন কিছু অ্যাপও ফোনে রেখে দিন। যেমন, ‘১১২ ইন্ডিয়া’ বা ‘কলকাতা পুলিশ বন্ধু’-র মতো কিছু সরকারি অ্যাপ গুগ্‌ল প্লে স্টোরেই পাওয়া যাবে। সমস্যায় পড়লে এই অ্যাপগুলি কাজে লাগাতে পারেন।

Advertisement
আরও পড়ুন