Alternatives of Baby Food

বাজারচলতি বেবিফুড ক্ষতিকর, কেনা খাবারের বদলে শিশুকে বাড়িতে কী কী বানিয়ে খাওয়াতে পারেন?

কেনা বেবিফুডে চিনির মাত্রা বেশি থাকে। তাই এর বদলে ঘরে তৈরি খাবারই শিশুকে খাওয়াতে বলছেন চিকিৎসকেরা। দোকান থেকে কেনা বেবিফুডের বিকল্প কিছু খাবার বাড়িতেই তৈরি করা যায়। ছ’মাস হয়ে গেলে শিশুকে কী কী তৈরি করে খাওয়াতে পারেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৫৬
Healthy alternatives of Baby food, what parents should prepare for their kids

বেবি ফুডের বদলে শিশুকে কী কী বানিয়ে খাওয়াবেন? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

দোকান থেকে কেনা বেবিফুডে বা প্যাকেটজাত খাবারে অতিরিক্ত চিনি, নানা রকম প্রিজ়ারভেটিভ বা রাসায়নিক থাকে। এই ধরনের খাবার শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য মোটেই ভাল নয়। এর বদলে বাড়িতেই টাটকা সব্জি, ফল বা দানাশস্য দিয়ে শিশুর খাবার তৈরি করা যেতে পারে। বেবিফুডের এত রমরমা যখন ছিল না, তখন শিশুকে বাড়িতে তৈরি খাবারই খাওয়ানো হত। চাল-ডাল-সব্জি দিয়ে হালকা খিচুড়ি, সুজি, পাকা ফল চটকে খাওয়ানো হত। চিকিৎসকেরা এই ধরনের খাবার খাওয়ানোরই পরামর্শ দিচ্ছেন। শিশুর ছ’মাস হয়ে গেলে, ধীরে ধীরে কঠিন খাবার দেওয়া শুরু করা যেতে পারে। সেই সময়ে বেবিফুড না কিনে ঘরে কী কী তৈরি করে খাওয়াতে পারেন, তা জেনে নিন।

Advertisement

কেনা সিরিয়ালের বিকল্প

২ কাপ আতপ চাল, ১ কাপ মুগ ডাল, আধ কাপ ছোলা, ১০-১২টি কাঠবাদাম, ৪টি কাজুবাদাম, অল্প মাখানা নিতে হবে। চাল ও ডাল আলাদা করে ভাল করে ধুয়ে নিন। ধোয়া চাল ও ডাল রোদে বা পাখার তলায় পাতলা কাপড়ে রেখে ভাল করে শুকিয়ে নিন। জল যেন একটুও না থাকে। এ বার শুকনো খোলায় কড়াইতে প্রথমে চাল দিয়ে হালকা আঁচে ভাজুন। এর পর একই ভাবে ডাল, ছোলা, মাখানা এবং বাদামগুলি আলাদা আলাদা করে শুকনো খোলায় ভেজে নিন। খেয়াল রাখবেন, যেন পুড়ে যেন না যায়। গুঁড়ো করা উপকরণগুলি ঠান্ডা হয়ে গেলে মিক্সিতে ভাল করে গুঁড়িয়ে মিহি পাউডার তৈরি করে নিন। পাউডারটি বায়ুরোধী কাচের পাত্রে ঢেলে রাখুন। এগুলি এক মাস অবধি সংরক্ষণ করা যেতে পারে।

ডাল-সব্জি দিয়ে পাতলা খিচুড়ি

চাল ও ডাল ভাল করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে নিন। প্রেসার কুকারে অল্প ঘি দিয়ে জিরে ফোড়ন দিন। তাতে গাজর, বিন, পেঁপে সব সব্জি টুকরো করে কেটে দিয়ে দিন। ভাল করে নেড়ে চাল ও ডাল দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। খুব অল্প নুন ও হলুদগুঁড়ো দিন। পরিমাণমতো জল দিয়ে ৪-৫টি সিটি দিন। নামিয়ে অল্প ঘি ছড়িয়ে দিন।

রাগির সুজি

প্রথমে কড়াইয়ে সামান্য ঘি দিন। ঘি গরম হলে তার মধ্যে একটি ছোট এলাচ থেঁতো করে দিয়ে দিন। এ বার ঘিয়ের মধ্যে রাগির আটা দিয়ে হালকা নাড়াচাড়া করে নিন। ভাজার সুন্দর গন্ধ বেরোতে শুরু করলে তার মধ্যে দুধ ঢেলে দিন। ফুটতে শুরু করলে বাদামকুচি দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। সমস্ত উপকরণ ভাল ভাবে মিশে গেলে ঘনত্ব বুঝে নামিয়ে নিতে হবে। তবে, শিশুর এক বছর বয়স না-হওয়া অবধি চিনি বা গুড় না-খাওয়ানোই ভাল।

ফলের পিউরি

প্যাকেটজাত ফলের রস বা কোনও রকম হেল্‌থ ড্রিঙ্ক শিশুকে না খাওয়ানোই ভাল। বাড়িতেই নানা রকম ফল দিয়ে পিউরি বানিয়ে নিন। আপেল, ন্যাশপাতি সেদ্ধ করে চটকে নিন। এর সঙ্গে কলা চটকে মেখে নিন। শিশুকে এই পিউরি খাওয়ালে প্রয়োজনীয় ফাইবার ও খনিজের ঘাটতি পুষিয়ে যাবে।

কুমড়োর স্যুপ

অনেক সময়েই শিশু সব্জি খেতে চায় না। মিষ্টি কুমড়ো খাওয়ালে তা পছন্দ করতে পারে শিশুরা। এর প্রাকৃতিক মিষ্টি স্বাদ মুখে ভাল লাগে। কুমড়ো দিয়ে স্যুপ বানিয়ে দিতে পারেন। প্রেশার কুকারে অল্প ঘি গরম করে পেঁয়াজকুচি, সামান্য আদাবাটা দিন। এর পর কুমড়ো ছোট ছোট টুকরো করে দিয়ে দিন। সামান্য নুন আর জল দিয়ে ঢাকা দিন। সেদ্ধ হয়ে গেলে জলসমেত একটি পাত্রে ঢালুন। ভাল করে হাতা দিয়ে নেড়ে যতটা সম্ভব কুমড়ো মিশিয়ে নিন। কড়াইয়ে ওই তরল ঢেলে দিন। দুধ দিয়ে ফোটাতে থাকুন। ফুটে ঘন হয়ে এলে এ বার উপর থেকে মাখন ছড়িয়ে নামিয়ে নিন।

Advertisement
আরও পড়ুন