শিশুর শরীরের খেয়াল রাখুন, কী কী নিয়ম মানবেন বাবা-মায়েরা? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
গরম কমেনি। বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রাও বেশি। আবহাওয়ার এমন পরিস্থিতিতে একাধিক ভাইরাস-ব্যাক্টেরিয়ার উৎপাত বেড়েছে। তীব্র গরমে যে অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তাতে বহু শিশু জ্বর-সর্দি-কাশি এবং পেটখারাপের সমস্যায় ভুগছে। অ্যাডিনোভাইরাস বা নোরোভাইরাসের সংক্রমণ ঘটছে। তাতেই পেটের সমস্যা, ডায়েরিয়ায় ভুগছে অনেকে। তাই এই সময়ে খুব সাবধানে রাখতে হবে ছোটদের।
শিশুরোগ চিকিৎসক প্রিয়ঙ্কর পাল বলেন, ‘‘পোশাক, খাওয়াদাওয়া ও জল খাওয়ানোর দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। গরমে বার বার স্নান করলে ঠান্ডা লেগে যাবে, এই ধারণা দূর করতে হবে। এখন যা পরিস্থিতি, তাতে স্কুল থেকে ফেরার পরেই ছোটদের স্নান করিয়ে দিতে হবে। তাতে শরীরে বসে থাকা ঘাম ধুয়ে যাবে। পর্যাপ্ত জল ও তরল খাবার খাওয়াতে হবে। ছোটরা যখন স্কুলে যাবে, ওই সময়ে তাদের ব্যাগে জলের বোতল ও ফলের রস দিয়ে দেবেন। সম্ভব হলে বাড়িতে ডিটক্স পানীয় বানিয়ে তা বোতলে ভরে দেবেন। যেটুকু সময় স্কুলে থাকবে শিশু সেই জল অল্প অল্প করে পান করবে। এতে জলশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি কমবে। বাইরের খাবার এই সময়ে একেবারেই খাওয়ানো যাবে না।’’
অ্যাডিনোভাইরাস নতুন নয়। সর্দি-কাশির জন্য দায়ী এই ভাইরাস বর্তমানে তার রূপ বদলাতে শুরু করেছে। অ্যাডিনোভাইরাস-এফ তারই এক উপরূপ। আইসিএমআর জানাচ্ছে, অ্যাডিনোভাইরাসের অসংখ্য উপরূপ তৈরি হয়েছে যার মধ্যে অ্যডিনোভাইরাস-এফ উপরূপটি সবচেয়ে বেশি সংক্রামক। এটি শরীরে ঢুকলে অগ্ন্যাশয়ে সংক্রমণের কারণও হতে পারে। কেবল বমি, পেট খারাপ নয়, প্যানক্রিয়াটাইটিসের কারণ হয়ে উঠতে পারে এই ভাইরাস।
বাবা-মায়েরা কী কী খেয়াল রাখবেন?
বেলা ১২টা থেকে ৩টের মধ্যে শিশু যাতে বাইরে না থাকে, তা দেখতে হবে। ওই সময়ে তাপমাত্রা এতটাই বেশি থাকে যে অতিরিক্ত তাপের জেরে শরীরে জলশূন্যতা তৈরি হয়, তা থেকে হিট স্ট্রোক পর্যন্ত হতে পারে। শিশু বা বয়স্কদের ক্ষেত্রে সমস্যাটা আরও বেশি।
রোদ থেকে এসেই বা গায়ে ঘাম থাকা অবস্থায় জল খাওয়ানো যাবে না। একটু জিরিয়ে নিয়ে শরীর ঠান্ডা হলে তার পরেই জল খাওয়ান। খেলতে গিয়ে বেশি ঘেমে গেলে গা মুছিয়ে জামা পাল্টে দিতে হবে।
শিশুকে সবসময় ফোটানো জল ঠান্ডা করে খাওয়ান। বাইরে বেরোলে জলের বোতল সঙ্গে দিয়ে দিন।
রাস্তার কাটা ফল, লেবুর শরবত, আখের রস বা জাঙ্ক ফুড খাওয়া এই সময়ে সম্পূর্ণ বন্ধ রাখুন। এগুলি থেকেই সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ঘটে।
শিশুকে সবসময় টাটকা ও গরম খাবার খাওয়ান। ফ্রিজে রাখা বাসি খাবার খাওয়াবেন না।
ডাবের জল, শসা, তরমুজ জাতীয় ফল খাওয়াতে পারেন। গরমে হজমশক্তি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই এই সময়ে শিশুদের হালকা, সহজপাচ্য এবং পুষ্টিকর খাবার হওয়া উচিত। প্রতি দিনের খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন লাউ, ঝিঙে, পটল, পেঁপের মতো সব্জি। মাছের হালকা ঝোল বা পাতলা ডাল এই সময়ে পেটের জন্য খুব ভাল।
গরমে পেটের জন্য খুব ভাল টক দই। বাটিতে সামান্য চিনি ও নুন দিয়ে দই ফেটিয়ে খাওয়াতে পারেন।
পর্যাপ্ত জল খাওয়ানোর পাশাপাশি ইলেকট্রোলাইট পানীয়ও খাওয়াতে হবে শিশুকে। তা বানিয়ে দিন বাড়িতেই। ১ গ্লাস ডাবের জলে আধখানা পাতিলেবুর রস, ৫-৬টি টাটকা পুদিনাপাতা, এক চিমটে সৈন্ধব লবণ মিশিয়ে ভাল করে নেড়ে নিন। পুদিনাপাতাগুলি হাত দিয়ে সামান্য ঘষে জলে ফেলে দিন। থেঁতো করেও দিতে পারেন। মিনিট দশেক রেখে ছোটদের বার বার খাওয়ান এই পানীয়।
এমন কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখলে এই গরমেও সুস্থ থাকবে শিশু। তবে শিশুর যদি ঘন ঘন জ্বর আসে এবং তিন দিন পরেও তা না কমে, তা হলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধ খাওয়ালে হিতে বিপরীত হতে পারে।