নোরা ফতেহি। ছবি: সংগৃহীত।
কখনও দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে যোগ, কখনও বা ছবির গান নিয়ে ধুন্ধুমার কাণ্ড— বিতর্ক যেন নোরা ফতেহির পিছু ছাড়ে না। তাঁর প্রেমজীবন নিয়েও মাঝেমধ্যেই জোর আলোচনা চলে। অভিনেত্রী অবশ্য কখনওই সে বিষয়ে তেমন মুখ খোলেননি। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে নোরা তাঁর মনের কথা খুলে বলেছেন। কী ভাবে তাঁর মা তাঁকে একা হাতে বড় করেছেন, আর কেনই বা কোনও পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর আগে তাঁকে বার বার ভাবতে হয়, সে বিষয়ে অকপটে বলেছেন নোরা।
নোরার বাবা-মায়ের যখন বিবাহবিচ্ছেদ হয়, তখন তিনি বেশ ছোট। নোরা বলেন, ‘‘বিবাহবিচ্ছেদের পর বাবা যেন কোথাও উধাও হয়ে গেলেন। দীর্ঘ কয়েক বছর তাঁর কোনও খোঁজই ছিল না। যে কোনও সম্পর্কে যাওয়ার আগে আমার মাথায় বাবার কথাগুলোই এসে পড়ে। বহু ভাল ছেলের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে, কিন্তু সম্পর্কে জড়ানোর আগেই বাবার কথা ভেবে বারে বারে পিছিয়ে এসেছি।’’
সম্পর্কে জড়ানোর অভিজ্ঞতা নোরার ভাল নয়। বিচ্ছেদের যন্ত্রণা নোরা মেনে নিতে পারেন না। মানুষটি আদৌ তাঁর যোগ্য নয় তা জেনেও বিচ্ছেদ সহজে মেনে নিতে পারেন না। এই সমস্যা অবশ্য নোরার একার নয়। বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ অনেক শিশুর জীবনেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিবাহবিচ্ছেদ একটি পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে যখন সেখানে শিশুরা জড়িত থাকে। তাদের মনে প্রশ্ন, অনিশ্চয়তা, রাগ ও দুঃখ জন্মায়। এই কঠিন সময়ে, বাবা-মায়ের পক্ষ থেকে সন্তানকে মানসিক ভাবে প্রস্তুত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কী ভাবে এই রকম সমস্যা এড়াতে পারেন অভিভাবকেরা?
যখন বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে যায়, তখনই সন্তানকে জানিয়ে দেওয়া জরুরি। তাদের দোলাচলে ফেলবেন না। তাদের বয়স ও বোঝার মাত্রা অনুযায়ী বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে হবে। জটিল আইনি বিষয় এড়িয়ে চলুন। সন্তানদের বোঝানোর সময় কখনওই তাদের মনে তাদের বাবা-মায়ের প্রতি নেতিবাচক ধারণা তৈরি করবেন না। তাদের ভয়, রাগ, দুঃখ প্রকাশ করতে সাহায্য করুন। তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। তাদের নিশ্চিত করুন যে তারা একা নয়, আপনারা উভয়েই তাদের পাশে আছেন এবং তাদের ভালোবাসেন। শিশুর মানসিক পরিস্থিতি বুঝে প্রয়োজনে শিশু-মনোবিদ বা থেরাপিস্টের সাহায্য নিতে দ্বিধা করবেন না।
আধুনিক সমাজে বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা আরও বাড়বে। এই সত্যকে মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। কিন্তু বাবা-মাকে সন্তানের দিকটা খেয়াল রাখতে হবে। যেন নিজেদের মধ্যে তিক্ততার প্রভাব সন্তানের উপর না পড়ে। এ ক্ষেত্রে তাদের সামনে ঝগড়া করবেন না বা একে অপরকে অপমান করবেন না। দরকারে, পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে সাহায্য নিন।
বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ এক জন সন্তানের কাছে একটি কঠিন অভিজ্ঞতা হলেও, সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে আপনি আপনার সন্তানকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে পারেন এবং তাদের এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করতে পারেন। মনে রাখবেন, আপনার সন্তানের মানসিক সুস্থতা এই সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।