পাওয়ার ব্যাঙ্ক নিয়ে সতর্ক থাকুন ছবি: সংগৃহীত।
সুসজ্জিত ঘর এখন ছাইয়ের স্তূপ। চার্জে রাখা পাওয়ার ব্যাঙ্ক ফেটে গিয়ে ভয়ানক দুর্ঘটনার শিকার হন সুরাটের কন্টেন্ট ক্রিয়েটর শিবাণী কপিলা। পরে ভ্লগে নিজের ঘরের ঝলক দেখিয়ে অনুগামীদের সঙ্গে কষ্টের কথা ভাগ করে নিয়েছেন। বিষয়-স্রষ্টা বলেছেন, এই দুর্ঘটনা থেকে শিখতে হবে, পাওয়ার ব্যাঙ্ক যেমন খুশি তেমন ভাবে ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ, বিপদ বলে কয়ে আসে না।
পাওয়ার ব্যাঙ্ক বা পোর্টেবল চার্জার চলে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিতে। খুব উপযোগী হলেও কিছু বড় ঝুঁকি থেকে যায়। কোনও আঘাতের কারণে উপরের স্তর নষ্ট হলে বা কারখানায় তৈরির সময়ে কোনও ভুল থেকে গেলে অথবা অতিরিক্ত গরমের কারণে এই ব্যাটারিগুলি সহজেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ব্যাটারি ক্ষতিগ্রস্ত হলে পাওয়ার ব্যাঙ্ক খুব দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে শুরু করে। এই অবস্থাকে ‘থার্মাল রানআওয়ে’ বলা হয়। তখনই বিস্ফোরণের আশঙ্কা থাকতে পারে। সেই সব ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন। তার জন্য কিছু কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত।
কী করবেন, কী করবেন না?
অনেক সময়ে ব্যবহারকারীর কিছু ভুল অভ্যাসও বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেমন,
· সারারাত চার্জে লাগিয়ে রাখা
· চার্জে ফেলে রেখে চলে যাওয়া
· অত্যধিক গরম জায়গায় রেখে দেওয়া
· রোদে ফেলে রাখা
· নিম্নমানের চার্জার ব্যবহার করা
· ছেঁড়া তার দিয়ে চার্জ দেওয়া
· ভেজা পরিবেশে ব্যবহার করা
এই অভ্যাসগুলি ব্যাটারির উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে।
কী কী দেখে বিপদের ঝুঁকি টের পাবেন?
১. ব্যাটারি ফুলে গেলে পাওয়ার ব্যাঙ্কও ফুলে ওঠে। এর অর্থ, ব্যাটারি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ব্যাটারির ভিতরে রাসায়নিক বিক্রিয়ার সমস্যার কারণে এমন হতে পারে। এই অবস্থায় চার্জ দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।
২. চার্জ দেওয়ার সময়ে পাওয়ার ব্যাঙ্ক সামান্য গরম হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু যদি এতটাই গরম হয়ে যায় যে হাতে ধরে রাখা যাচ্ছে না, তা হলে চিন্তার। অতিরিক্ত তাপ ব্যাটারির ক্ষতি বা শর্ট সার্কিটের ইঙ্গিত হতে পারে।
৩. হঠাৎ যদি প্লাস্টিক পোড়া বা রাসায়নিকের মতো অস্বাভাবিক গন্ধ বার হয়, তা হলে সঙ্গে সঙ্গে যন্ত্রটি বন্ধ করে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে রাখা উচিত। তার মানে ভিতরে শর্ট সার্কিটের সমস্যা হচ্ছে।
৪. পাওয়ার ব্যাঙ্ক হাত থেকে পড়ে গেলে বা ধাক্কা খেলে বাইরের অংশে ফাটল ধরতে পারে। তখন আর সেটি ব্যবহার করা নিরাপদ নয়।