‘ইক্কিস’ ছবির হাত ধরে বড়পর্দায় পদার্পণ করেছেন অমিতাভ বচ্চনের নাতি অগস্ত্য নন্দ। কিন্তু ছবিনির্মাতাদের প্রথম পছন্দ ছিলেন না অগস্ত্য। বরং বলিপাড়ার অন্য তারকা-সন্তানকে পছন্দ করেছিলেন ছবিনির্মাতারা। তবে কি স্বজনপোষণের প্রভাব খাটিয়ে বড়পর্দায় হাতেখড়ি করেন অগস্ত্য?
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘ইক্কিস’। জীবনীনির্ভর এই ছবিতে মুখ্যচরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায় অগস্ত্যকে। ছবিটি চলতি মাসে মুক্তি পেলেও তাঁর চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছিল ছ’-সাত বছর আগে।
‘ইক্কিস’ ছবির পরিচালক শ্রীরাম রাঘবন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট অরুণ ক্ষেত্রপালের জীবনের উপর ভিত্তি করে ছবি নির্মাণ করবেন। সেইমতো চিত্রনাট্য লিখতে শুরু করেন তিনি।
১৯৭১ সালে ইন্দো-পাক যুদ্ধে ট্যাঙ্কের লড়াইয়ে মারা গিয়েছিলেন অরুণ। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২১ বছর। সেই চরিত্রের জন্য তরুণ অভিনেতার সন্ধানে ছিলেন শ্রীরাম। এক তারকা-পুত্রকে পছন্দও করে ফেলেছিলেন তিনি।
বলিপাড়া সূত্রে খবর, অরুণের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য জনপ্রিয় ছবিনির্মাতা ডেভিড ধওয়ানের পুত্র অভিনেতা বরুণ ধওয়ানকে পছন্দ করেছিলেন ছবিনির্মাতারা। বরুণকে অভিনয়ের প্রস্তাব দিলে তিনি রাজিও হয়ে যান। কিন্তু বাদ সাধে কোভিড।
পরিচালক যখন ‘ইক্কিস’ ছবির শুটিং শুরুর কথা চিন্তাভাবনা করছিলেন, তার কিছু দিন পরেই শুরু হয়ে যায় কোভিড অতিমারি। শুটিং শুরুর আগেই তার কাজ অনির্দিষ্ট কালের জন্য থেমে যায়।
দু’-তিন বছর পর আবার ‘ইক্কিস’ ছবির চিত্রনাট্যে হাত দেন শ্রীরাম। কিন্তু তখন আর বরুণকে মনে ধরছিল না তাঁর। বরুণের চোখেমুখে তখন সেই ছাপ নেই যা দেখে মনে হয়, তিনি সদ্য তারুণ্যে পা দিয়েছেন। কমবয়সি চরিত্রে বরুণকে বড্ড বেমানান লাগবে বলে তাঁকে সেই ছবি থেকে সরিয়ে দেন ছবিনির্মাতারা।
পরিচালকের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করার পর বরুণও আর ‘ইক্কিস’ ছবিতে অভিনয় করতে চাননি। বরং তিনি শ্রীরামকে বলেছিলেন, ‘‘এই ছবিতে যদি অন্য কোনও চরিত্রের জন্য আমায় উপযুক্ত মনে হয়, তা হলে জানাবেন।’’
‘ইক্কিস’ ছবিতে মুখ্যচরিত্রের জন্য নতুন মুখ খোঁজা শুরু করেন শ্রীরাম। তখনই অমিতাভের নাতি অগস্ত্যের কথা মাথায় আসে তাঁর। অগস্ত্যও সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান।
পরিচালকের দাবি, ছবিটি কিশোর থেকে তরুণ হয়ে ওঠার গল্প ফুটে উঠেছে। অভিনেতার চোখেমুখে সারল্য এবং তারুণ্যের ছাপ থাকা প্রয়োজন। দু’-তিন বছর সময়ও দেওয়া প্রয়োজন ছিল সেই অভিনেতার। সব দিক থেকে অগস্ত্যকেই এই চরিত্রের জন্য সেরা মনে করেছিলেন ছবিনির্মাতারা।
‘ইক্কিস’ ছবির হাত ধরে বড়পর্দায় পা রাখেন অগস্ত্য। তার আগে অবশ্য ওটিটির পর্দায় প্রথম অভিনয় দেখা গিয়েছিল তাঁকে। জ়োয়া আখতারের পরিচালনায় ২০২৩ সালে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পায় ‘আর্চিজ়’। সেই ছবিতে মুখ্যচরিত্রে অভিনয় করেন অগস্ত্য। প্রায় তিন বছর পর আবার অভিনয় করতে দেখা যায় অগস্ত্যকে।
বলিপাড়া সূত্রে খবর, ‘ইক্কিস’ ছবিটি মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল ২৫ ডিসেম্বর। তবে, ‘ধুরন্ধর’-এর সাফল্যের আবহে ছবিমুক্তি পিছিয়ে দেওয়া হয়। অবশেষে চলতি মাসে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় সেই ছবি। চলতি বছরের মার্চ মাসে ওটিটির পর্দায় মুক্তি পাওয়ার কথা অমিতাভের নাতির ছবি।
বলিপাড়ার অন্দরমহলে কান পাতলে শোনা যায়, ‘ইক্কিস’ ছবিতে অভিনয় করে ৭০ লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছেন অগস্ত্য। অগস্ত্য ছাড়াও এই ছবির মাধ্যমে অভিনয়জগতে আত্মপ্রকাশ করলেন অক্ষয় কুমারের ভাগ্নি সিমর ভাটিয়া। ধর্মেন্দ্রের কেরিয়ারের শেষ ছবি হয়ে রইল এই ছবিটি।
সব ছবি: সংগৃহীত।