পারস্য উপসাগরে যুদ্ধের বিউগল! চক্রব্যূহে ইরানকে ঘিরতে একগুচ্ছ রণতরী নিয়ে এগোচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনী। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের দাবি, ভেনেজ়ুয়েলার কায়দায় এ বার সেখানে সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের বর্ষীয়ান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে তেহরানের শিয়া ধর্মগুরু তথা সর্বোচ্চ নেতা (সুপ্রিম লিডার) আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইকে ‘অপহরণ’ এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করছেন তাঁরা। যদিও ‘অপারেশনে’ নেমে শিয়া মুলুকটিতে লেজে-গোবরে হওয়ার ৪৬ বছরের পুরনো কলঙ্ক এখনও মুছতে পারেনি ওয়াশিংটন।
চলতি বছরের ২ জানুয়ারি মধ্যরাতে (স্থানীয় সময় রাত ২টো নাগাদ) লাটিন আমেরিকার দেশ ভেনেজ়ুয়েলায় আক্রমণ শানায় মার্কিন ফৌজ। ওই সময় রাজধানী কারাকাসে ঢুকে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলে নিয়ে যায় আমেরিকার ডেল্টা ফোর্স। এই সামরিক অভিযানের কোড নাম ছিল ‘অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজ়লভ’ বা চরম সংকল্প। তা শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মাথায় পারস্য উপসাগর সংলগ্ন এলাকায় উপস্থিতি বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী। পাশাপাশি, তেহরান নিয়ে সুর চড়াতে থাকেন ট্রাম্প।
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের মূলে আছে সম্ভাব্য পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি, তেহরানকে যাতে সই করতে ক্রমাগত চাপ দিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। অন্য দিকে, যুক্তরাষ্ট্রের যাবতীয় চোখরাঙানি উড়িয়ে আণবিক হাতিয়ার তৈরিতে মরিয়া সাবেক পারস্য দেশের শিয়া ধর্মগুরু তথা সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই। তাঁর চোখে রাষ্ট্রের পয়লা নম্বর দুশমন ওয়াশিংটন হল ‘বড় শয়তান’। এ ছাড়া ইহুদি রাষ্ট্র ইজ়রায়েলকে ‘ছোট শয়তান’ বলে উল্লেখ করে থাকেন তিনি। এ-হেন খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে মাদুরো স্টাইলে অপারেশন চালানো প্রায় অসম্ভব, বলছেন বিশ্লেষকেরা।
ইরানে ‘অ্যাবসোলিউট রিজ়লভ’ ধরনে অভিযান চালানোকে কঠিন বলার নেপথ্যে সাবেক সেনাকর্তাদের একাধিক যুক্তি রয়েছে। এ ব্যাপারে প্রথমেই শিয়া মুলুকটির ভূপ্রকৃতির দিকে নজর দিতে বলেছেন তাঁরা। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের কথায়, পারস্য দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে আছে পাহাড় ও মরুভূমি। এর মধ্যে একাধিক গুপ্ত বাঙ্কার তৈরি করে রেখেছে তেহরান। সংঘাত পরিস্থিতিতে ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে সেখানে আশ্রয় নিয়ে থাকেন খামেনেই। ফলে তাঁর অবস্থান চিহ্নিত করতেই মার্কিন কমান্ডোদের যে কালঘাম ছুটতে পারে, তা বলাই বাহুল্য।
দ্বিতীয়ত, বাসচালক হিসাবে কর্মজীবন শুরু করা মাদুরো ছিলেন শ্রমিক নেতা। নির্বাচনে জিতে ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছোন তিনি। বামপন্থী আন্দোলন করলেও কোনও দিন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ছিল না তাঁর। ফলে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি তিনি। অন্য দিকে, খামেনেইয়ের উত্থান একেবারেই সে ভাবে হয়নি। গত সাড়ে চার দশকে ইরাক ও ইজ়রায়েলের মতো কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্বে দিতে দেখা গিয়েছে তাঁকে, যা শিয়া ফৌজে খামেনেইয়ের গুরুত্ব কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
তৃতীয়ত, ক্যারিবিয়ান উপকূলের দেশ ভেনেজ়ুয়েলার রাজধানী কারাকাসের দূরত্ব সমুদ্রতট থেকে বেশি ছিল না। ফলে সেখানে অভিযান চালাতে মার্কিন ডেল্টা ফোর্সের তেমন সমস্যা হয়নি। ইরানের ক্ষেত্রে সেই সুবিধা নেই। কারণ তেহরানের অবস্থান শিয়া মুলুকটির উত্তর অংশে। ফলে খামেনেইকে বন্দি করতে হলে পারস্যে ঢুকে লম্বা রাস্তা পাড়ি দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের কমান্ডোদের। আর সেখানেই তাঁদের ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা ষোলো আনা। সংশ্লিষ্ট অভিযানে বিপুল সংখ্যায় সৈনিকের মৃত্যু হলে, ট্রাম্প যে দেশবাসীর একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়বেন, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
কৌশলগত দিক থেকে ইরানের আরও একটি সুবিধা রয়েছে। সেটা হল হরমুজ় প্রণালী। সংঘাত পরিস্থিতিতে তা অনায়াসেই বন্ধ করতে পারে শিয়া মুলুকটির নৌবাহিনী। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, পারস্য এবং ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী ১৬৭ কিলোমিটার লম্বা এই সামুদ্রিক রাস্তাটি দিয়েই বিশ্বের অন্যান্য দেশে অপরিশোধিত খনিজ তেল সরবরাহ করে থাকে পশ্চিম এশিয়ার অধিকাংশ আরব দেশ। তেহরান সেটা আটকে দিলে আন্তর্জাতিক বাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে তরল সোনার দাম। এতে ওয়াশিংটনের উপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
ইরানের তুলনায় মাদুরোর নৌবাহিনী ছিল অনেক বেশি দুর্বল। বর্তমানে শিয়া ফৌজের হাতে আছে অন্তত ২০ থেকে ৩০টি ডুবোজাহাজ। এর সাহায্যে হরমুজ় প্রণালীতে ওয়াটার-মাইন বিছোতে পারে তারা। পাশাপাশি, শব্দের পাঁচ গুণের চেয়ে বেশি গতিশীল হাইপারসোনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে থাকে তেহরানের বাহিনী। মার্কিন রণতরী ডোবাতে ওই ব্রহ্মাস্ত্রকে তুরুপের তাস হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন খামেনেই। এ ছাড়া তাঁর হাতে থাকা ড্রোনশক্তিও নেহাত ফেলনা নয়।
তা ছাড়া ভেনেজ়ুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও ইরানি শিয়া ধর্মগুরুর জনপ্রিয়তা একরকম নয়। বাম রাজনীতিকে হাতিয়ার করে উঠে আসা মাদুরোর মতাদর্শকে লাটিন আমেরিকার দেশটির অনেক বাসিন্দাই খোলা মনে গ্রহণ করতে পারেননি। অন্য দিকে, ধর্মকে সামনে রেখে সাবেক পারস্য দেশে নিজের জনসমর্থন বাড়িয়েছেন কট্টরপন্থী খামেনেই। তাঁর হাতেই রয়েছে ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর’ বা আইআরজিসির মতো আধা সেনার ফৌজ, যাঁরা শিয়া ধর্মগুরুর একডাকে জীবন পর্যন্ত বাজি রাখতে প্রস্তুত।
দীর্ঘ দিন ধরেই নিজের নিরাপত্তার দায়িত্ব আইআরজিসির কাঁধে রেখেছেন খামেনেই। ইরানি আধা সেনার এই বাহিনী হাইপারসোনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অধিকারী। পাশাপাশি, পরমাণু অস্ত্রের গবেষণাও আইআরজিসির ঘেরাটোপে তেহরান চালাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। ভেনেজ়ুয়েলায় সামরিক অভিযান শুরুর মুখে মাদুরোকে একরকম একঘরে করে ফেলেন ট্রাম্প। সাবেক পারস্য দেশের শিয়া ধর্মগুরু তথা সর্বোচ্চ নেতাকে একেবারেই ‘বন্ধুহীন’ বলা যাবে না। রাশিয়া ও চিনের পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার একাধিক আরব দেশের সমর্থন রয়েছে তাঁরই দিকে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ‘ছায়াযুদ্ধ’ (প্রক্সি ওয়ার) চালিয়ে যাওয়ার কোনও তাসই ছিল না মাদুরোর হাতে। সেখানে পর্দার আড়ালে থেকে প্যালেস্টাইনপন্থী তিনটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ক্রমাগত মদত দিয়ে যাচ্ছেন খামেনেই। তারা হল গাজা উপত্যকার হামাস, লেবাননের হিজ়বুল্লা এবং ইয়েমেনের হুথি। ভেনেজ়ুয়েলায় সামরিক অভিযানের পর বার বার গ্রিনল্যান্ড কব্জা করার কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এতে যথেষ্টই অসন্তুষ্ট আমেরিকার নেটো-ভুক্ত ইউরোপীয় ‘বন্ধু’রা। সেই তালিকায় আছে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইটালি ও স্পেনের মতো রাষ্ট্র।
২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের সময় পশ্চিম ইউরোপীয় ‘বন্ধু’দের খোলা সমর্থন পায় ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর সঙ্গেই রণাঙ্গনে নামে নেটোর ফৌজ। কিন্তু, তেহরানের ক্ষেত্রে সেটা হওয়ার নয়। তা ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু মার্কিন অস্ত্রের দুর্বলতা চোখে পড়েছে। গত বছরের (২০২৫ সাল) জুনে ইহুদিদের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালীন হাইপারসোনিক ক্ষেপণাস্ত্রে একাধিক ইজ়রায়েলি শহরকে নিশানা করে খামেনেইয়ের আইআরজিসি। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে আমেরিকার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও পারস্যে হাতিয়ার আটকাতে পারেনি তারা।
তবে এগুলির উল্টো যুক্তিও রয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত সেনা অফিসারদের দাবি, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একেবারেই শক্তিশালী নয়। ফলে সংঘাত পরিস্থিতিতে খুব দ্রুত সাবেক পারস্য দেশের আকাশের দখল নিতে পারবে মার্কিন বায়ু ও নৌসেনার যোদ্ধা পাইলটেরা। এর পর নিখুঁত নিশানায় হামলা চালিয়ে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলিকে উড়িয়ে দিলে, লড়াইয়ের গোড়াতেই পঙ্গু হয়ে প়ড়বে তেহরান। তখন খামেনেইয়ের গোপন ডেরায় হানা দেওয়া একেবারেই কঠিন হবে না।
তা ছাড়া ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষে ইজ়রায়েলকে অবশ্যই পাশে পাবে আমেরিকা। গত বছর লড়াই চলাকালীন তেহরানের একের পর এক সেনা কমান্ডারকে নিকেশ করে ইহুদি বায়ুসেনা। সূত্রের খবর, যুদ্ধের সময় তাঁদের সঠিক খবর জোগাড় করার ভার ছিল ইহুদি গুপ্তচরবাহিনী মোসাদের উপর। সেই কাজে ১০০ শতাংশ সাফল্য পায় তাঁরা। ওই সময় খামেনেইকেও হত্যার চেষ্টা করেছিল তেল আভিভ। যদিও কোনও মতে প্রাণে বেঁচে যান তিনি।
ভেনেজ়ুয়েলা অভিযানের কয়েক দিনের মাথাতেই মাদুরো ‘অপহরণ’-এ মার্কিন ফৌজ রহস্যময় হাতিয়ার ব্যবহার করেছে বলে জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্টের কাছে মুখ খোলেন কারাকাসের এক সেনাকর্মী। তাঁর দাবি, ‘‘সামরিক অভিযান চলাকালীন একটা জোরালো আওয়াজ় শোনা গিয়েছিল। সেটা এতটাই জোরালো যে, মনে হচ্ছিল মাথা ফেটে যাবে। তার পরই নাক থেকে রক্ত ঝরতে শুরু করে। কারও কারও রক্তবমি শুরু হয়। ফলে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অনেকেই ধীরে ধীরে লুটিয়ে পড়েন।’’
ভেনেজ়ুয়েলার সেনাকর্মীটির দাবি, ওই রহস্যময় অস্ত্রের কারণেই মাত্র ২০ জন মার্কিন ফৌজির সঙ্গেও লড়াইয়ের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন তাঁরা। ফলে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সস্ত্রীক মাদুরোকে তুলে নিয়ে যেতে মার্কিন ফৌজের তেমন সমস্যা হয়নি। এ-হেন রহস্যময় অস্ত্র ব্যবহারের কথা বকলমে স্বীকার করে নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর কথায়, ‘‘কারাকাসে যে গোপন অস্ত্র প্রয়োগ করা হয়েছে, তার ব্যাপারে কেউ কিছু জানে না।’’
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের দাবি, খামেনেইকে তুলে আনতে ফের ওই হাতিয়ার ব্যবহার করতে পারে আমেরিকা, যাকে আটকানোর কোনও প্রযুক্তি আপাতত হাতে নেই তেহরানের। তা ছাড়া গত কয়েক বছরে বাধ্যতামূলক হিজাব ব্যবহার-সহ একাধিক ইস্যুতে ওই কট্টরপন্থী শিয়া ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে বার বার গণ আন্দোলনের ঢেউ আছড়ে পড়েছে ইরানে। সংঘাত পরিস্থিতিতে যাতে উস্কানি দিয়ে সাবেক পারস্য দেশটিকে ঘরে-বাইরে বিপদে ফেলার ‘ট্রাম্প কার্ড’ও রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচরবাহিনী সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) হাতে।
ট্রাম্প অবশ্য এখনই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে নামবেন না বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তবে সম্ভাব্য পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি নিয়ে তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চান তিনি। গত ২৯ জানুয়ারি একটি তথ্যচিত্রের বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের বিশাল এবং অত্যন্ত শক্তিশালী রণতরী ইরানে যাচ্ছে। তবে আমাদের যদি সেগুলি ব্যবহার না করতে হয়, তা হলেই ভাল!’’ পরে জানা যায় বিমানবাহী যুদ্ধপোত ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনকে সেখানে পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (১৯৩৯-’৪৫) পরবর্তী সময়ে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত মধুর। কিন্তু, ১৯৭৯ সালে সাবেক পারস্য দেশে ইসলামিক বিপ্লবের পর চিড় ধরে সেই সম্পর্কে। এর পরের বছর তেহরানের মার্কিন দূতাবাসে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের হাতে পণবন্দি হন ৫৩ জন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মী। তাঁদের উদ্ধার করতে কমান্ডো অভিযানের সিদ্ধান্ত নেন আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার, যার পোশাকি নাম ছিল ‘অপারেশন গোল্ডেন ক্লজ়’। কিন্তু মরুঝড়ে পড়ে ভেঙে যায় ওয়াশিংটনের কপ্টার। ফলে ব্যর্থ হয় ওই অভিযান।
ওই ঘটনার কয়েক দিনের মাথায় পণবন্দিদের ছেড়ে দেয় তেহরান। তবে ‘অপারেশন গোল্ডেন ক্লজ়’ কার্টারের রাজনৈতিক জীবন শেষ করে দিয়েছিল। পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয় হয় তাঁর। সেই কারণেই কি ইরানের ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করতে চাইছেন না ট্রাম্প? আলোচনায় সমস্যা মেটানোর পক্ষপাতী তিনি? উঠছে সেই প্রশ্নও।
সব ছবি: সংগৃহীত।