বছরের শুরুতে বিনোদনদুনিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল অভিনেত্রীর বিয়ের খবর। দক্ষিণী চলচ্চিত্রজগতের জনপ্রিয় তারকা ধনুষের সঙ্গে গোপনে প্রেম, তার পর বিয়ে! ধনুষ ছাড়াও নায়িকার ‘প্রেমিকের’ তালিকা দীর্ঘ। অভিনেত্রী মৃণাল ঠাকুরকে নিয়ে জল্পনার শেষ নেই। প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে সব সময় মুখে কুলুপ এঁটে থাকলেও প্রাক্তন প্রেমিককে নিয়ে নিজের অনুভূতির কথা জানালেন তিনি।
২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে দক্ষিণী চলচ্চিত্রজগতের তারকা রজনীকান্তের মেয়ের সঙ্গে ধনুষের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তার পরেই মৃণালের সঙ্গে ধনুষের প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। একসঙ্গে দুই তারকাকে বহু জায়গায় দেখাও যেতে থাকে। ছড়িয়ে পড়ে তাঁদের বিয়ের গুঞ্জনও।
ধনুষ এবং মৃণালের বিয়ে নিয়ে এত মাতামাতি শুরু হয়ে যায় যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি ভুয়ো বিয়ের ভিডিয়োও ছড়িয়ে পড়ে। নায়ক-নায়িকা তবুও চুপ। মৃণাল চান, তাঁর কাজেই তাঁর পরিচয় পাওয়া যাবে। তাই ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা করতে চান না।
তবুও বার বার মুখরোচক আলোচনায় নাম জড়িয়ে পড়ে মৃণালের। শোনা যায়, বিনোদনজগতে কেরিয়ার শুরুর আগেই নাকি এক চিত্রনাট্যকারের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি।
ছোটপর্দার ‘ইয়ে হ্যায় মহব্বতে’, ‘কসৌটি জ়িন্দেগি কে ২’-এর মতো একাধিক ধারাবাহিকের চিত্রনাট্য রচনা করেছেন শরদ কুমার ত্রিপাঠী। শোনা যায়, তাঁর সঙ্গে তিন থেকে চার বছরের সম্পর্ক ছিল মৃণালের। টেলিভিশনের পর্দায় এক রিয়্যালিটি শোয়ে তাঁদের সম্পর্কের কথা জানাজানি হয়।
কানাঘুষো শোনা যায়, মৃণাল অভিনেত্রী হতে চান জেনে আপত্তি জানিয়েছিল শরদের পরিবার। ২০১৭ সালে শরদের সঙ্গে সম্পর্কে ইতি টেনেছিলেন নায়িকা। যদিও বিচ্ছেদ নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ কোনও মন্তব্য করেননি।
টেলিভিশনের এক তারকার প্রেমেও নাকি পড়়েছিলেন মৃণাল। ‘কুমকুম ভাগ্য’ ধারাবাহিকে মৃণালের সহ-অভিনেতা ছিলেন অরজিৎ তানেজা। সেই ধারাবাহিকে জুটি বেঁধে কাজ করেছিলেন দু’জনে।
২০১৬ সালে ‘কুমুকুম ভাগ্য’ ধারাবাহিক থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলে তার কিছু দিন পর অরজিৎও সেই ধারাবাহিক থেকে সরে যান। ২০১৭ সালে ‘নাদিন’ নামের ইন্দোনেশিয়ান এক শোয়ে একসঙ্গে দেখা যায় দু’জনকে।
গুঞ্জন শোনা যায়, অরজিতের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন মৃণাল। শুটিং শেষ হওয়ার পরেও একসঙ্গে সময় কাটাতেন তাঁরা। তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা শুরু হলে তাতে জল ঢেলে দেন দুই তারকা। তাঁদের মধ্যে শুধুমাত্র বন্ধুত্বের সম্পর্ক রয়েছে বলে জানান অরজিৎ এবং মৃণাল।
অরজিৎ ছাড়াও হিন্দি ধারাবাহিকের জনপ্রিয় অভিনেতা কুশল টন্ডনের সঙ্গে নাম জড়িয়ে পড়ে মৃণালের। সমাজমাধ্যমে নায়িকাকে ‘সোলমেট’ সম্বোধন করে একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন কুশল। তার পর থেকেই তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয় অনুরাগীদের।
কানাঘুষো শোনা যেতে থাকে, ২০১৮ সাল থেকে কুশলের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে মৃণালের। ২০২০ সালে নাকি সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। পরে অবশ্য কুশল জানিয়েছিলেন যে, মৃণাল তাঁর খুব ভাল বান্ধবী।
২০২১ সালে একটি মিউজ়িক ভিডিয়োয় জনপ্রিয় র্যাপ সঙ্গীতশিল্পী বাদশার সঙ্গে অভিনয় করতে দেখা যায় মৃণালকে। ২০২৩ সালে বলি অভিনেত্রী শিল্পা শেট্টির বাড়িতে দীপাবলির অনুষ্ঠান ছিল। সেই অনুষ্ঠান শেষে বাদশার হাত ধরে বেরিয়েছিলেন মৃণাল। বাদশার সঙ্গে মৃণালের সম্পর্ক নিয়েও কম জলঘোলা হয়নি।
বলি অভিনেতা সিদ্ধান্ত চতুর্বেদীর সঙ্গেও নাম জড়িয়ে পড়ে মৃণালের। একসঙ্গে বহু অনুষ্ঠানে দেখাও যায় দুই তারকাকে। সিদ্ধান্ত এবং মৃণাল প্রেম করছেন বলে শোনা যেতে থাকে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সঞ্জয় লীলা ভন্সালীর প্রযোজনায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা ‘দো দিওয়ানে শহর মে’। এই ছবিতে জুটি বেঁধে অভিনয় করছেন মৃণাল এবং সিদ্ধান্ত। বলিপাড়ার অধিকাংশের দাবি, ছবির প্রচারের জন্যই একসঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছেন দুই তারকা।
২০২২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘সীতা রামম’ ছবিতে মৃণালের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন তেলুগু অভিনেতা সুমন্ত। তাঁর সঙ্গেও নাম জড়িয়ে পড়ে নায়িকার। ২০২৫ সালে হঠাৎ গুঞ্জন শোনা যায় যে, সুমন্ত এবং মৃণাল সম্পর্কে রয়েছেন। তাঁদের বিয়ের পরিকল্পনাও নাকি শুরু হয়ে গিয়েছে।
মৃণালের সঙ্গে প্রেমের জল্পনা মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে সুমন্ত জানিয়েছিলেন যে, বন্ধুত্ব ছাড়া তাঁদের মধ্যে অন্য কোনও সম্পর্ক নেই। প্রেমের সম্পর্ক এবং বিয়ে নিয়ে যা খবর ছড়িয়েছে, তার সমস্তই রটানো।
এত তারকার সঙ্গে নাম জড়ালেও চুপ করে থাকতেন মৃণাল। সম্প্রতি নামোল্লেখ না করে তাঁর এক প্রাক্তন প্রেমিকের প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, ‘‘আমায় নিয়ে আমার প্রাক্তন প্রেমিকের অনেক সমস্যা ছিল। আমার অভিনেত্রী হওয়া নিয়ে সমস্যা। তাঁর মতে, আমি নাকি আবেগের বশে সব সিদ্ধান্ত নিতাম। তাই আমায় ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল।’’
মৃণাল বলেছিলেন, ‘‘আসলে সমস্যাটা আমায় নিয়ে ছিল না। ওর বড় হয়ে ওঠা ওই ধরনের গোঁড়া পরিবেশেই। আমি তো সে ভাবে মানুষ হইনি। যদি বিয়ে হয়ে যেত তা হলে তো সন্তানদের শিক্ষা দেওয়ার সময় তারাও দ্বন্দ্বে পড়ে যেত। কোন মানসিকতায় বড় হবে তা-ই বুঝতে পারত না। যা হওয়ার ভালর জন্যই হয়।’’
সব ছবি: সংগৃহীত।