India Japan Defence Ties

‘বন্ধু’দের মারণাস্ত্র বিক্রি করতে সংবিধান পাল্টে ফেলল জাপান! বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস মনে করিয়ে ভারতকে সতর্ক করল ক্রুদ্ধ ড্রাগন

আর ‘শান্তির সংবিধান’ আঁকড়ে বেঁচে থাকা নয়। আগ্রাসী চিনকে শিক্ষা দিতে এ বার ভয়ঙ্কর মারণাস্ত্র ‘বন্ধু’ দেশগুলিকে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে জাপান। সিদ্ধান্তটিকে স্বাগত জানাতে দেরি করেনি ভারত।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০১ মে ২০২৬ ১০:৫৫
০১ ২০
China warns India as New Delhi welcomes military equipment exports rule change of Japan

এক দিকে ‘চিরশত্রু’র শাসানি। অন্য দিকে নিরাপত্তার প্রশ্নে ‘পরজীবী’ হয়ে বেঁচে থাকা। গত ৮১ বছর ধরে এই দুই নীতি আঁকড়ে এগিয়েছে জাপান। কিন্তু, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় চিনা লালফৌজের ‘দৌরাত্ম্য’ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় আর চুপ করে বসে থাকতে নারাজ টোকিয়ো। সূত্রের খবর, অচিরেই ‘বন্ধু’ রাষ্ট্রগুলিকে অত্যাধুনিক ধ্বংসাত্মক হাতিয়ার সরবরাহ শুরু করবে তারা। ‘সামুরাই যোদ্ধা’দের এ-হেন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাতে দেরি করেনি ভারত। বিষয়টি নজরে পড়তেই বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে নয়াদিল্লিকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বেজিং।

০২ ২০
China warns India as New Delhi welcomes military equipment exports rule change of Japan

সম্প্রতি, প্রতিরক্ষার প্রশ্নে সংবিধানে আমূল পরিবর্তন ঘটায় জাপান। নতুন বিধি অনুযায়ী, এ বার থেকে অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র বানিয়ে তা ‘বন্ধু’ রাষ্ট্রগুলিকে বিক্রি করতে পারবে টোকিয়ো। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, সাবেক ফরমোজ়া তথা তাইওয়ানকে (রিপাবলিক অফ চায়না) কেন্দ্র করে চিনের সঙ্গে সংঘাতের সুর চড়তে থাকায় গত কয়েক বছর ধরেই সামরিক খাতে ব্যয়বরাদ্দ বৃদ্ধি করে চলেছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় এই দ্বীপরাষ্ট্র। এক কথায় ‘ঢিল মারলে যে পাটকেল খেতে হবে’, খোলা চ্যালেঞ্জে বেজিংকে সেটা বুঝিয়ে দিতে তৎপর সেখানকার প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।

০৩ ২০
China warns India as New Delhi welcomes military equipment exports rule change of Japan

১৯৪৫ সালের ৬ ও ৯ অগস্ট হিরোসিমা এবং নাগাসাকিতে মার্কিন পরমাণু হামলার পর বিনা শর্তে আমেরিকার কাছে আত্মসমর্পণ করে জাপান। ফলে শেষ হয় টানা ছ’বছর ধরে চলা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। লড়াই থামার পর বিজয়ী ওয়াশিংটনের নির্দেশ মেনে সামরিক শক্তি হ্রাস করে টোকিয়ো। পাশাপাশি, বিধ্বস্ত দ্বীপরাষ্ট্রের পুনর্গঠনে জোর দেয় সেখানকার সরকার। এর জন্য তাদের বিপুল আর্থিক সাহায্য দিতে কার্পণ্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র। শুধু তা-ই নয়, টোকিয়োর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ১৯৫১ সালে জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি সারে আমেরিকা।

Advertisement
০৪ ২০
China warns India as New Delhi welcomes military equipment exports rule change of Japan

যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোয় হওয়া ওই সমঝোতা অনুযায়ী, বাহিনীতে সৈনিকের সংখ্যা কমিয়ে নামমাত্র সংখ্যায় নিয়ে আসে জাপান। এর উপর ভিত্তি করে ১৯৬০ সালের জানুয়ারিতে আমেরিকার সঙ্গে আরও একটি চুক্তিতে আবদ্ধ হয় টোকিয়ো। এর পোশাকি নাম ছিল ‘পারস্পরিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা চুক্তি’ (ট্রিটি অফ মিউচুয়াল কোঅপারেশন অ্যান্ড সিকিউরিটি)। সংশ্লিষ্ট সমঝোতায় শত্রুর আক্রমণ থেকে দ্বীপরাষ্ট্রটিকে রক্ষা করার দায়িত্ব পুরোপুরি নিজের কাঁধে তুলে নেয় ওয়াশিংটন। বিনিময়ে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি না করার আশ্বাস ‘সামুরাই যোদ্ধা’দের থেকে আদায় করে নেয় তারা।

০৫ ২০
China warns India as New Delhi welcomes military equipment exports rule change of Japan

বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ১৯৪৭ সালে নতুন সংবিধান কার্যকর করে জাপান। ফলে বাতিল হয় ১৮৮৯ সালের মেইজ়ি সংবিধান। সেখানে যুদ্ধ ও উপনিবেশবাদকে জাতীয় গর্ব হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। দেশ পরিচালনার নতুন আইনের বইটিকে অবশ্য ‘প্যাসিফিস্ট’ বা শান্তি সংবিধান হিসাবে সারা বিশ্বের সামনে তুলে ধরে টোকিয়ো। সেই নীতি অনুযায়ী বিরোধ নিষ্পত্তির উপায় হিসাবে সামরিক শক্তির ব্যবহারের অধিকার চিরতরে বর্জন করে প্রশান্ত মহাসাগরের এই দ্বীপরাষ্ট্র। কিন্তু, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই নিয়মের বদল ঘটিয়ে এ বার মারণাস্ত্র তৈরিতে মন দিচ্ছে তারা।

Advertisement
০৬ ২০
China warns India as New Delhi welcomes military equipment exports rule change of Japan

সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে ইতিমধ্যেই বিবৃতি দিয়েছে তাকাইচি সরকার। সেখানে বলা হয়েছে, আগামী দিনে পাঁচটি বিভাগে ঘাতক হাতিয়ার ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ‘বন্ধু’ রাষ্ট্রগুলিকে সরবরাহ করবে টোকিয়ো। সেই তালিকায় থাকছে নজরদারি এবং মাইন অপসারণ। পাশাপাশি উদ্ধার, পরিবহণ এবং সতর্কীকরণের অস্ত্রও বিক্রি করবে তারা। এ ছাড়া আগামী দিনে যৌথ উদ্যোগে মারণাস্ত্র নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছে জাপান। আর সেখানে ‘স্বাভাবিক বিকল্প’ হিসাবে ‘সামুরাই যোদ্ধা’দের সামনে যে ভারত উঠে আসতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

০৭ ২০
China warns India as New Delhi welcomes military equipment exports rule change of Japan

বর্তমানে জাপানি হাতিয়ার ভারতীয় সেনায় একেবারে নেই ভাবলে ভুল হবে। গত কয়েক বছর ধরে ‘ইউনিফায়েড কমপ্লেক্স রেডিয়ো অ্যান্টেনা’ বা ইউনিকর্ন নামের একটি ব্যবস্থা বিভিন্ন রণতরীতে ব্যবহার করছে নয়াদিল্লি। এর সাহায্যে নৌযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে থাকেন যুদ্ধজাহাজের ক্যাপ্টেন। পাশাপাশি, রণতরীর ‘স্টেলথ’ সক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয় ইউনিকর্ন। ফলে শত্রুর রেডারে সংশ্লিষ্ট যুদ্ধজাহাজটির ধরা পড়ার আশঙ্কা প্রায় থাকে না বললেই চলে।

Advertisement
০৮ ২০
China warns India as New Delhi welcomes military equipment exports rule change of Japan

২০২৪ সালের নভেম্বরে এ-হেন ইউনিকর্নের যৌথ উৎপাদনের কথা মাথায় রেখে জাপানের সঙ্গে ‘সমঝোতা স্মারক’ বা মউ (মেমোর‌্যান্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং) সই করে কেন্দ্র। সামরিক বিশ্লেষকদের দাবি, আগামী দিনে ভারতের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ঘাতক হাতিয়ার নির্মাণে উদ্যোগী হবে টোকিয়ো। ‘সামুরাই যোদ্ধা’দের প্রযুক্তিগত সহায়তায় এ দেশের মাটিতে লড়াকু জেট, কামিকাজ়ে (আত্মঘাতী) ড্রোন এবং রেলগানের মতো মারণাস্ত্র তৈরিতে নয়াদিল্লি জোর দিতে চলেছে বলেই মনে করেন তাঁরা।

০৯ ২০
China warns India as New Delhi welcomes military equipment exports rule change of Japan

জাপানের তৈরি আধুনিক হাতিয়ারগুলির অন্যতম হল রেলগান। ২০২৩ সাল থেকে পরীক্ষামূলক ভাবে বিভিন্ন রণতরীতে তা ব্যবহার করেছে টোকিয়ো। এটি প্রকৃতপক্ষে একটি অতিশক্তিশালী তড়িচ্চুম্বকীয় অস্ত্র। এর সাহায্যে তড়িচ্চুম্বকীয় শক্তি ব্যবহার করে ‘হাইপারসনিক’ গতিতে ছোড়া যায় গোলা। নিক্ষেপের পর শব্দের চেয়ে ৬.৫ গুণ বেশি গতিতে ছুটতে পারে সেটি। শত্রুর পাঠানো ড্রোনের ঝাঁক বা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্রকে একসঙ্গে আটকে দেওয়ার কথা মাথায় রেখে এটিতে তৈরি করেছেন ‘সূর্যোদয়ের দেশের’ প্রতিরক্ষা বিজ্ঞানীরা।

১০ ২০
China warns India as New Delhi welcomes military equipment exports rule change of Japan

এ দেশের সাবেক সেনাকর্তাদের বড় অংশই মনে করেন, ভারতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে রেলগান তৈরিতে রাজি হবে জাপান। তড়িচ্চুম্বকীয় অস্ত্রটিকে নৌবাহিনীর জন্য ‘সস্তায় পুষ্টিকর’ বলা যেতে পারে। কারণ, নয়াদিল্লির অধিকাংশ রণতরীর আকাশ প্রতিরক্ষা (এয়ার ডিফেন্স) ব্যবস্থার এক একটি ইন্টারসেপ্টরের দাম কয়েক কোটি ডলার। সেখানে মাত্র ৩৫,০০০ ডলারে মাঝ-আকাশে শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের ঝাঁককে ধ্বংস করতে পারে টোকিয়োর রেলগান।

১১ ২০
China warns India as New Delhi welcomes military equipment exports rule change of Japan

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের দাবি, সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভারতকে বেছে নেওয়ার নেপথ্যে জাপানের একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, ঐতিহাসিক ভাবে নয়াদিল্লির সঙ্গে টোকিয়োর সুসম্পর্ক রয়েছে। মেট্রো রেল থেকে বুলেট ট্রেনের মতো মেগা প্রকল্পে বিপুল লগ্নি করে কেন্দ্রকে সাহায্য করেছে তারা। মিলেছে প্রযুক্তিগত সহায়তাও। দ্বিতীয়ত, চিনের সঙ্গে সীমান্ত বিবাদ সামরিক ক্ষেত্রেও এই দুই দেশকে একে অপরের কাছাকাছি আসতে সাহায্য করছে।

১২ ২০
China warns India as New Delhi welcomes military equipment exports rule change of Japan

২০২০ সালে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা এলএসিতে (লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল) আগ্রাসী মনোভাব দেখায় চিনের ‘পিপল্‌স লিবারেশন আর্মি’ বা পিএলএ। পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে কর্নেল বি সন্তোষ বাবু-সহ প্রাণ হারান ২০ জন ভারতীয় সৈনিক। পাল্টা প্রত্যাঘাতে আনুমানিক ৪০ জন সেনাকে হারায় বেজিং। তা ছাড়া অরুণাচল প্রদেশকে প্রায়ই নিজেদের এলাকা বলে দাবি করে ড্রাগন। অন্য দিকে জাপানের দু’টি দ্বীপ কব্জা করার ছক রয়েছে তাদের। সেগুলিরও নতুন নামকরণ করেছে মান্দারিনভাষী সরকার।

১৩ ২০
China warns India as New Delhi welcomes military equipment exports rule change of Japan

তা ছাড়া ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় বেজিঙের ‘দাদাগিরি’ বন্ধ করতে ২০০৭ সালে আমেরিকা, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ‘কোয়াড’ নামের একটি কৌশলগত চতুঃশক্তিজোট গড়ে তোলে টোকিয়ো। এই গোষ্ঠী তৈরিতে বড় ভূমিকা নেন সাবেক জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। পরবর্তী বছরগুলিতে বেশ কয়েক বার ভারতীয় ফৌজের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নিতে দেখা গিয়েছে তাদের। ফলে এ দেশের বাহিনীর কী কী ধরনের অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, ‘সামুরাই যোদ্ধা’দের কাছে তার একটা স্পষ্ট ধারণা রয়েছে।

১৪ ২০
China warns India as New Delhi welcomes military equipment exports rule change of Japan

এ বছরের মার্চে ষষ্ঠ প্রজন্মের লড়াকু জেট নিয়ে কেন্দ্রের মোদী সরকারকে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করে প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। বর্তমানে ওই যুদ্ধবিমান নিয়ে গবেষণার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে দু’টি ইউরোপীয় কনসোর্টিয়াম। একটির নাম ‘গ্লোবাল কমব্যাট এয়ার প্রোগ্রাম’ বা জিক্যাপ। এতে আছে ব্রিটেন, ইটালি এবং জাপান। অন্যটি ‘ফিউচার কমব্যাট এয়ার সিস্টেম’ বা এফসিএএস নামে পরিচিত। সেখানে কাজ করছেন ফ্রান্স, জার্মানি এবং স্পেন।

১৫ ২০
China warns India as New Delhi welcomes military equipment exports rule change of Japan

প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশে বলা হয়েছে, অবিলম্বে এই দুইয়ের মধ্যে যে কোনও একটিতে ঢুকে পড়ুক ভারতীয় বিমানবাহিনী। তা হলে ষষ্ঠ প্রজন্মের লড়াকু জেটের নকশা এবং রণকৌশলের প্রযুক্তি অনায়াসেই হাতে পাবে তারা। ফলে আগামী দিনে চিন বা পাকিস্তানের মতো শত্রুর মোকাবিলায় নয়াদিল্লি যে কয়েক যোজন এগিয়ে থাকবে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। বিশেষজ্ঞদের কথায়, বায়ুসেনার ইঞ্জিনিয়ারেরা শেষ পর্যন্ত জিক্যাপ বেছে নিলে ষষ্ঠ প্রজন্মের লড়াকু জেট তৈরিতে হাতে পাবেন জাপানি প্রযুক্তি।

১৬ ২০
China warns India as New Delhi welcomes military equipment exports rule change of Japan

সামরিক ক্ষেত্রে ভারত-জাপানের ধীরে ধীরে কাছে আসার কারণ হিসাবে সব শেষে অবশ্যই বলতে হবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথা। ক্ষমতায় আসার পর থেকে বার বার টোকিয়োর নিরাপত্তা সংক্রান্ত চুক্তির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। ফলে কোনও কারণে ‘উদীয়মান সূর্যের দেশ’টি চিনা হামলার মুখে পড়লে যুক্তরাষ্ট্রের ফৌজ তাদের সাহায্যে কতটা এগিয়ে আসবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, কিছু দিন আগে আমেরিকা সফররত জাপানি প্রধানমন্ত্রী তাকাইচিকে প্রকাশ্যে ‘অপমান’ও করেন ট্রাম্প।

১৭ ২০
China warns India as New Delhi welcomes military equipment exports rule change of Japan

এ-হেন পরিস্থিতিতে দেশের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে সামরিক খাতে ব্যয়বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে টোকিয়ো। বর্তমানে প্রতিরক্ষা খাতে ৬,৬০০ কোটি ডলার খরচ করছে জাপান। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি বা পিপিপি (পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ) মডেলে অধিকাংশ হাতিয়ার নির্মাণ সংস্থাগুলিকে গড়ে তুলেছে তারা। বিশেষজ্ঞদের দাবি, আগামিদিনে সেখানে ঢোকার সুযোগ পাবে ভারত। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, প্রতিরক্ষা খাতে খরচের নিরিখে বর্তমানে প্রথম ছয়ে উঠে এসেছে নয়াদিল্লি।

১৮ ২০
China warns India as New Delhi welcomes military equipment exports rule change of Japan

সামরিক দিক থেকে ভারত-জাপানের কাছাকাছি আসার সম্ভাবনার ছবি স্পষ্ট হতেই প্রমাদ গুনছে চিন। সম্প্রতি, এই ইস্যুতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে বেজিঙের সরকারি গণমাধ্যম ‘গ্লোবাল টাইমস’। সেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন টোকিয়োর বিমানবাহিনীর কলকাতা আক্রমণের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, এতে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে ড্রাগন।

১৯ ২০
China warns India as New Delhi welcomes military equipment exports rule change of Japan

যদিও মান্দারিনভাষীদের যুক্তিকে একরকম উড়িয়েই দিচ্ছেন এ দেশের ইতিহাসবিদেরা। তাঁদের দাবি, বিশ্বযুদ্ধের চলাকালীন ভারত ছিল ব্রিটিশদের উপনিবেশ। আর তাই এখান থেকে ইংরেজ সৈনিকদের তাড়াতে কলকাতা আক্রমণ করে জাপানি বায়ুসেনা। দখল করে নেয় সাবেক বর্মা (বর্তমান মায়ানমার)। তা ছাড়া ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আজাদ হিন্দ ফৌজকে ওই সময় হাতিয়ার, গোলা-বারুদ এবং সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে সাহায্য করেছিল টোকিয়ো।

২০ ২০
China warns India as New Delhi welcomes military equipment exports rule change of Japan

বিশ্বযুদ্ধের বহু আগে থেকে প্রায় সমগ্র চিন ছিল জাপানের উপনিবেশ। ফলে টোকিয়োর উপর একটা বিদ্বেষ ভাব রয়েছে বেজিঙের। সেই কারণে আজও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রটিকে নানা ভাবে হেনস্থা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ড্রাগন। আর তাতেই সামরিক দিক থেকে নতুন করে উত্থান হচ্ছে ‘সামুরাই যোদ্ধা’দের। এর লাভ কতটা ভারতীয় সেনাবাহিনী তুলতে পারে, সেটাই এখন দেখার।

ছবি: সংগৃহীত, প্রতীকী ও এআই সহায়তায় প্রণীত।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
আরও গ্যালারি