১৫ বছরের বেশি সময় ধরে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। কিন্তু অভিনেতা হিসাবে নিজের জায়গা তেমন ভাবে তৈরি করতে পারছিলেন না। তবে, কেরিয়ারে সফল হওয়ার আগেই বলি নায়িকার সঙ্গে চুটিয়ে প্রেম করতে শুরু করে দিয়েছিলেন বলি অভিনেতা দানিশ পন্ডোর।
১৯৮৭ সালের ডিসেম্বর মাসে মহারাষ্ট্রের মুম্বইয়ে জন্ম দানিশের। স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে মুম্বইয়ের এক কলেজে ভর্তি হন তিনি। তখন থেকেই মডেলিংয়ের প্রতি ঝোঁক জন্মায় তাঁর।
২০০৭ সালে কলেজে প়ড়াকালীন জনপ্রিয় পত্রিকা দ্বারা আয়োজিত মডেলদের এক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন দানিশ। সেই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী না হলেও প্রথম পাঁচ প্রতিযোগীর মধ্যে নাম লিখিয়ে ফেলেন তিনি।
পড়াশোনার পাশাপাশি মডেলিং করতে শুরু করেন দানিশ। সেই সময় অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ জন্মায় তাঁর। চার মাসের জন্য মুম্বইয়ের এক প্রতিষ্ঠান থেকে অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নেন তিনি।
বিভিন্ন জায়গায় অডিশন দেওয়ার জন্য ছোটাছুটি করেও বিশেষ লাভ হত না দানিশের। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন যে, ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত তিনি। পদে পদে ‘কাস্টিং কাউচের’ শিকার হতে হয়েছে তাঁকে।
দানিশের দাবি, কেরিয়ার গড়তে গিয়ে ‘কাস্টিং কাউচের’ শিকার হলেও তিনি হাল ছাড়েননি। আঘাত পেতেন ঠিকই, কিন্তু তা সহ্য করে আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়াতেন দানিশ।
‘এজেন্ট রাঘব’, ‘কিতনি মহব্বত হ্যায়’-এর মতো ধারাবাহিকের হাত ধরে ছোটপর্দায় অভিনয় করতে শুরু করেন দানিশ। ছোটখাটো চরিত্রেই অভিনয়ের সুযোগ পেতেন তিনি।
‘ছাবা’র মতো ব্লকবাস্টার ছবির পাশাপাশি ‘সেক্রেড গেমস’-এর মতো জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ়ে অভিনয় করেছেন দানিশ। কিন্তু পর্দায় তাঁর চরিত্রগুলি ছিল স্বল্পদৈর্ঘ্যের।
কেরিয়ার গড়তে গিয়ে প্রেমেও পড়ে যান দানিশ। ২০১৫ সালে ‘এজেন্ট রাঘব’-এর শুটিং চলাকালীন তাঁর সঙ্গে আলাপ হয় বলি অভিনেত্রী অহনা কুমরার। পেশাগত আলাপ পরে প্রেমে গড়িয়ে যায়।
বহু বছর ধরে দানিশের সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন অহনা। অভিনেতার ৩৮তম জন্মদিনে সমাজমাধ্যমে ভালবেসে শুভেচ্ছাও জানান নায়িকা। বর্ষবরণ উদ্যাপন করতে চলতি মাসে জর্জিয়া ঘুরতে গিয়েছিলেন তাঁরা। সেই ছবিও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন নায়িকা।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘ধুরন্ধর’। বক্সঅফিস কাঁপানো এই ছবিতে অক্ষয় খন্নার তুতো ভাই তথা ছায়াসঙ্গীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন দানিশ। তবে ছবিতে তাঁর অধিকাংশ দৃশ্য ছিল রণবীর সিংহের সঙ্গে।
দানিশ এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, চিত্রনাট্যের খসড়া হাতে পাওয়ার পর তার যদি সেই চরিত্র নিয়ে মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ জাগে তা হলে সেই কাজের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন তিনি। বর্তমানে ওটিটির মঞ্চে কাজ করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন দানিশ।
‘ধুরন্ধর’ ছবিতে অভিনয়ের পর রাতারাতি পরিচিতি তৈরি হয়ে গিয়েছে দানিশের। সমাজমাধ্যমে নিজস্ব অনুরাগীমহল তৈরি করে ফেলেছেন তিনি। ইতিমধ্যেই ইনস্টাগ্রামের পাতায় দানিশের অনুগামীর সংখ্যা দু’লক্ষের গণ্ডি পার করে ফেলেছে।
সব ছবি: সংগৃহীত।