চলতি বছরের ফিফা আয়োজিত ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। চার বছর অন্তর আসা ফুটবলের এই উৎসবে ইতিমধ্যেই মেতে উঠেছে প্রায় গোটা বিশ্ব।
ভারতবাসীরা এই সময় প্রিয় ফুটবলারের দেশের পতাকায় সাজিয়ে ফেলেন ঘর-বাড়ি। কলকাতার অলি-গলিতে চোখে পড়ে ফুলবলপ্রেমীদের উন্মাদনা। আর্জেন্টিনা, ব্রাজ়িল, পর্তুগাল প্রভৃতি দেশের পতাকার রঙে সেজে ওঠে ক্লাবের দেওয়াল।
চলতি বছর ১১ জুন থেকে শুরু হবে ফুটবল বিশ্বকাপ। এই প্রথম বার ৪৮টি দেশকে নিয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে ফিফা। সেই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে কেপ ভার্দে, উজ়বেকিস্তানের মতো নানা নতুন দেশ।
২০২৬ ফিফা আয়োজিত ফুটবল বিশ্বকাপ খেলা হবে তিনটি দেশে। বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকো। তিনটি দেশে আলাদা আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা করেছে ফিফা। যদিও বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ হবে মেক্সিকোর অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে। ১১ জুন সেই ম্যাচে মেক্সিকোর বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকাকে খেলতে দেখা যাবে।
ফুটবল বিশ্বকাপ কে জিতবে তা নিয়ে আগ্রহের শেষ থাকে না। সকল ফুটবলপ্রেমীই চান যেন তাঁর পছন্দের দল বিশ্বকাপ জেতে। কিন্তু বাকি সমস্ত প্রতিযোগিতার মতো এতেও সেরার শিরোপা পায় একটি দলই। বাকিদের পিছনে পড়ে থাকতে হয়।
২০২২ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা। মেসি-রোনাল্ডোকে নিয়ে থাকা ‘গোট’ বিতর্কে মেসির হাতে থাকা বিশ্বকাপ তাঁকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। একটি বিশ্বকাপ বাদে এই দুই কিংবদন্তি ফুটবলারের মধ্যে পার্থক্য টানার আর বিশেষ কিছু নেই বললেই চলে। দু’জনেরই ঝুলিতে রয়েছে অসংখ্য ট্রফি এবং গোল। চলতি বছর পর্তুগাল বিশ্বকাপ জিতলে সেই বিতর্কে জমি শক্ত হবে রোনাল্ডোপ্রেমীদের। তাই অনেকেই চাইছেন পর্তুগাল যেন এ বার বিশ্বকাপ জেতে।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে অনেকেই তা নিয়ে নানা ভবিষ্যদ্বাণী করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে বেশির ভাগ মানুষই গ্রহ-নক্ষত্রের উপর আস্থা রাখেন। পশুদের দ্বারাও বিশ্বকাপ কে জিততে পারে তা ভবিষ্যদ্বাণী করার চল রয়েছে। এ বার মাঠে নেমেছেন এক গণিতবিদ।
জার্মানির গণিত বিশেষজ্ঞ জোয়াকিম ক্লেমেন্টের ২০২৬-এর ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে করা ভবিষ্যদ্বাণী শোরগোল ফেলেছে সমাজমাধ্যমে। কারণ কোনও চেনা দেশের নামকে তিনি বিজয়ী হিসাবে ঘোষণা করেননি। বরং এমন এক দেশের নাম ঘোষণা করেছেন যে দেশ কখনও ফুটবল বিশ্বকাপ ছুঁয়েই দেখেনি। যদিও তিন বার সেই খেতাব জেতার সুযোগ পেয়েছিল সেই দেশ। তবে প্রতি বারই ব্যর্থ হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে ভাবা যেতেই পারে যে ক্লেমেন্টের ভবিষ্যদ্বাণী মোটেই পাতে দেওয়ার যোগ্য নয় এবং তা নিয়ে এত মাতামাতি করার মতো কিছু নেই। কিন্তু ক্লেমেন্টকে নিয়ে হইচই ফেলার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এটিই তাঁর ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে করা প্রথম ভবিষ্যদ্বাণী নয়।
গণিতবিদ ক্লেমেন্ট শেষ তিন বারের (২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২) বিশ্বকাপেরও ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। প্রতি বারই তা মিলে যায়। তাঁর বলা দেশগুলিই শেষে গিয়ে বিশ্বকাপ তোলে।
ক্লেমেন্টের মতে, ২০২৬-এ ফিফা আয়োজিত ফুটবল বিশ্বকাপ জিতবে নেদারল্যান্ডস। লিভারপুলের তারকা ফুটবলার ভার্জিল ভ্যান ডাইকের নেতৃত্বাধীন এই দেশই নাকি এ বার সেরার শিরোপা পাবে।
রোনাল্ডোপ্রেমীদের মন ভেঙে দ্বিতীয় স্থানে ক্লেমেন্ট রেখেছেন পর্তুগালকে। তাঁর মতে, সেমিফাইনালে স্পেনকে হারিয়ে নেদারল্যান্ডস ফাইনালে পৌঁছোবে। অন্য দিকে পর্তুগাল হারাবে ইংল্যান্ডকে।
পর্তুগাল এবং নেদারল্যান্ডসের মধ্যে হবে সেরা হওয়ার শেষ লড়াই, যাতে রোনাল্ডোর দেশকে হারিয়ে জিতে যাবে ডাইকের দেশ। তবে কত ব্যবধানে জিতবে, খেলা এক্সট্রা টাইমে গড়াবে কি না সে সব নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি ক্লেমেন্ট।
ক্লেমেন্টের করা ভবিষ্যদ্বাণীতে থাকে না কোনও গ্রহ-নক্ষত্রের ভূমিকা। উল্টে দেশের জিডিপি, ক্রীড়ার পরিকাঠামো, দেশের জনসংখ্যা, দেশবাসীদের ফুটবলের প্রতি ভালবাসা ও মর্যাদা এবং বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে সেই দেশের জাতীয় ফুটবল দল কত নম্বরে রয়েছে প্রভৃতি সে সমস্ত বিষয়ের উপর ভিত্তি করে ক্লেমেন্ট ভবিষ্যদ্বাণী করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে মনে করা হয়, কোনও গোপন সূত্রের ব্যবহার করেন জার্মান গণিতবিদ।
কিন্তু ক্লেমেন্ট তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীকে গুরুত্ব না দেওয়ারও আবেদন জানান। তাঁর মতে, এই ভবিষ্যদ্বাণীর পুরোটাই অযৌক্তিক। ২০১৪ সালে ক্লেমেন্টের ভবিষ্যদ্বাণী সঠিক হওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি মনে করতেন যে বিশ্বকাপ বিজয়ীর নাম কখনও সে ভাবে আগে থাকতে প্রকাশ করা যায় না। এই ভাবনাতেই ক্লেমেন্ট নিজের মডেলে একটা ভবিষ্যদ্বাণী করে প্রকাশ করেছিলেন।
সেই ভবিষ্যদ্বাণী সঠিক প্রমাণিত হওয়ার পর ক্লেমেন্ট নিজেই অবাক হয়ে যান। কারণ, তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী দেখে বেশির ভাগ ফুটবল বিশেষজ্ঞ জানিয়েছিলেন যে দক্ষিণ আমেরিকার মাটিতে এর আগে কোনও ইউরোপীয় দল বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। কিন্তু ক্লেমেন্টের করা ভবিষ্যদ্বাণীই সত্যি প্রমাণিত হয়। চতুর্থ বারের জন্য বিশ্বকাপ জেতে ক্লেমেন্টের নিজের দেশ জার্মানি।
এর পর ২০১৮ এবং ২০২২, এই দুই বারও ক্লেমেন্টের ভবিষ্যদ্বাণী মিলে যায়। ফ্রান্স এবং আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জেতে। ২০২৬-এও সেই ধারা বজায় থাকবে, না কি ক্লেমেন্টের বিশ্বকাপ নিয়ে সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী করার ক্ষমতা ‘হ্যাটট্রিক’ করেই ম্লান হয়ে যাবে তা সময়ই বলতে পারবে।
সব ছবি: সংগৃহীত এবং এআই সহায়তায় প্রণীত।