Wipro’s Transformation

স্বাধীনতার আগে বাবার সংস্থায় তৈরি হত তেল, সাবান! ভোলবদল করেন ছেলে, বর্তমানে বিশ্ব জুড়ে খ্যাতি ভারতীয় প্রযুক্তি সংস্থার

ভারতীয় এই বহুজাতিক সংস্থার বিশ্ববাজারে উল্লেখযোগ্য হয়ে ওঠার গল্পটা একটু অন্য রকম। স্বাধীনতার পর ভারতের বাজারে স্বল্প মূল্যে ভোজ্যতেল এবং কাপড় কাচার সাবানের মতো পণ্য বিক্রি করাই ছিল এই সংস্থার মূল লক্ষ্য। কিন্তু তা একদিন বদলে গেল প্রযুক্তি সংস্থায়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৭ মে ২০২৬ ০৭:৫৮
০১ ১৯
wipro

ভারতীয় বহুজাতিক প্রযুক্তি সংস্থাগুলির মধ্যে উইপ্রো অন্যতম। কেবল ভারত নয়, ভারতের বাইরেও পৌঁছে গিয়েছে এই সংস্থার উল্লেখযোগ্যতা। বর্তমানে এই সংস্থা বিশ্ব জুড়ে ব্যবসা চালাচ্ছে।

০২ ১৯
কিন্তু ভারতীয় এই বহুজাতিক সংস্থার উইপ্রো হয়ে ওঠার গল্পটা একটু অন্য রকম। বিশ্ব তো দূরের কথা, ভারতের প্রযুক্তির বাজারে যে এত নাম হবে সেটা এই সংস্থার কর্ণধারের কল্পনাতেও ছিল না।

কিন্তু ভারতীয় এই বহুজাতিক সংস্থার উইপ্রো হয়ে ওঠার গল্পটা একটু অন্য রকম। বিশ্ব তো দূরের কথা, ভারতের প্রযুক্তির বাজারে যে এত নাম হবে সেটা এই সংস্থার কর্ণধারের কল্পনাতেও ছিল না।

০৩ ১৯
Azim Premji

সাল ১৯৪৫। ডিসেম্বরের ২৯ তারিখ মহম্মদ হাশিম প্রেমজি নামের এক ব্যক্তি মহারাষ্ট্রের অমলনেরে শুরু করেন বনস্পতি বানানোর একটি সংস্থা। নাম দেন ‘ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া ভেজিটেবল প্রোডাক্টস লিমিটেড’।

Advertisement
০৪ ১৯
oil

ভারত তখনও স্বাধীনতার স্বাদ পায়নি। সেই বাজারে স্বল্প মূল্যে ভোজ্যতেল এবং কাপড় কাচার সাবানের মতো পণ্য তৈরি করে বিক্রি করাই ছিল হাশিম প্রেমজির সংস্থার মূল লক্ষ্য।

০৫ ১৯
muhammad hashim premji

সাল ১৯৬৬। প্রয়াত হন মহম্মদ হাশিম প্রেমজি। তাঁর একমাত্র ছেলে আজ়িম প্রেমজি সেই সময়ে ক্যালিফর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করছেন। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি তড়িঘড়ি দেশে ফিরে আসেন।

Advertisement
০৬ ১৯
Azim Premji

দেশে ফেরার পর স্বাভাবিক ভাবেই বাবার সংস্থার সমস্ত দায়িত্ব এসে পড়ে আজ়িমের কাঁধে। তখন তাঁর বয়স মাত্র ২১ বছর।

০৭ ১৯
Azim Premji

সদ্য তারুণ্যে পা দেওয়া আজ়িম ছিলেন উচ্চাকাঙ্ক্ষী। তাঁর চিন্তাভাবনাও ছিল আধুনিক। সময়ের থেকে এগিয়ে ছিলেন তিনি।

Advertisement
০৮ ১৯
wipro

আজ়িমের হাত ধরে ‘ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া ভেজিটেবল প্রোডাক্টস লিমিটেড’ নামের তেল উৎপাদনকারী সংস্থা পরিণত হয় বহুজাতিক প্রযুক্তি সংস্থায়। কিন্তু সেই যাত্রাপথ সহজ ছিল না। বড় স্বপ্ন দেখার জন্য আজ়িমকে শুনতে হয় বহু মানুষের বাঁকা কথা। কিন্তু তিনি থেমে যাননি।

০৯ ১৯
soap

আজ়িম প্রথমে তাঁর সংস্থায় বিভিন্ন ধরনের জিনিস বানানো শুরু করেন এবং উৎপাদনের পরিমাণও বৃদ্ধি করেন। তাঁর বাবার সময়ে সেই সংস্থা কেবল ভোজ্যতেল এবং কাপড় কাচার সাবান তৈরি করত। কিন্তু ছেলের সুবাদে আরও নানা প্রসাধনসামগ্রী তৈরি হতে থাকে। ব্যবসা বৃদ্ধি পায়।

১০ ১৯
Azim Premji

মহারাষ্ট্রের অমলনের থেকে মুম্বইয়ে সেই সংস্থাকে নিয়ে যাওয়া হয়। হাশিম প্রেমজির স্ত্রী গুলবানু প্রেমজিকে সেই সংস্থার চেয়ারপার্সন বানানো হয়। সব কিছু ঠিকঠাকই চলতে থাকে।

১১ ১৯
Azim Premji

কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করা আজ়িমের তাতেও মন ভরে না। তিনি জানতেন যে পরিবর্তনই জীবনের নিয়ম। তাই ভোজ্যতেলের সংস্থাকে আর কী ভাবে প্রসারিত করা যায় সেই চিন্তা তাঁকে কুরে কুরে খেতে শুরু করে।

১২ ১৯
ibm

সাল ১৯৭৭। বৈদেশিক মুদ্রা আইন মেনে চলতে না পারার কারণে আইবিএমকে ভারতে ব্যবসা বন্ধ করে চলে যেতে হয়। হাতে চাঁদ পান আজ়িম।

১৩ ১৯
computer

সুযোগের সদ্ব্যবহার করে আজ়িম কম্পিউটার হার্ডঅয়্যার প্রস্তুতকারকের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেন। তাঁর এই পদক্ষেপ ভাল চোখে দেখেননি আশপাশের মানুষেরা। সকলে হাসাহাসি করেন এই ভাবনায় যে, তেল প্রস্তুতকারী সংস্থা হঠাৎ কম্পিউটার বানানোর দিকে যাচ্ছে কেন!

১৪ ১৯
building

কিন্তু আজ়িম সে সবে কান দেননি। তিনি লক্ষ্য স্থির রেখে এগিয়ে চলেন। ‘ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া ভেজিটেবল প্রোডাক্টস লিমিটেড’কে পরিণত করেন উইপ্রোয়।

১৫ ১৯
wipro

১৯৮৯ সাল নাগাদ কম্পিউটার সিস্টেম, ভোগ্যপণ্য এবং শিল্পসামগ্রী প্রস্তুতকারক একটি বহুজাতিক সংস্থায় পরিণত হয় উইপ্রো। যে সকল ব্যক্তি তাঁর সংস্থার হয়ে ভোগ্যপণ্য সরবরাহের কাজ করতেন, তাঁদের দিয়েই কম্পিউটার সিস্টেম সরবরাহেরও কাজ করাতেন আজ়িম প্রেমজি।

১৬ ১৯
Azim Premji

১৯৯০ সালে যখন দেশ জুড়ে প্রযুক্তির বাজার প্রসারিত হচ্ছে, সেই সময়ে আজ়িম উইপ্রোকে তথ্যপ্রযুক্তির সংস্থায় পরিণত করার জন্য উঠেপড়ে লাগেন। তিনি বাজার ঘেঁটে দেখতে শুরু করেন।

১৭ ১৯
building

সেই সময়ে বেঙ্গালুরু ধীরে ধীরে হয়ে উঠছিল ভারতের ‘সিলিকন ভ্যালি’। বহু স্টার্টআপ গড়ে উঠছিল সেখানে। আজ়িম তখন উইপ্রোর প্রধান কার্যালয়কে সেখানে স্থানান্তরিত করেন।

১৮ ১৯
dollar

২০০০ সালে উইপ্রো নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে নথিভুক্ত হয়। সেই সময়ে আজ়িম প্রেমজির বহুজাতিক সংস্থার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ১০০ কোটি ডলার।

১৯ ১৯
Azim Premji

২০১৯ সালের ৩১ জুলাই আজ়িম প্রেমজি উইপ্রোর এগ্‌জ়িকিউটিভ চেয়ারম্যান পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। কিন্তু তাঁর হাত ধরেই উইপ্রো এখন দেশের বাইরেও আনুমানিক ১৭টি দেশে নিজেদের ব্যবসা চালাচ্ছে।

সব ছবি: সংগৃহীত।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
আরও গ্যালারি