ভূমধ্যসাগরীয় এলাকায় জন্ম নিচ্ছে নতুন ‘কোয়াড’? ইজ়রায়েল, গ্রিস ও সাইপ্রাসের ত্রিশক্তি জোটে এ বার যোগ দেবে ভারত? তিন ‘বন্ধু’র থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে নয়াদিল্লি সেই আমন্ত্রণ পাওয়ায় এই নিয়ে তুঙ্গে উঠেছে জল্পনা। গত বছর (পড়ুন ২০২৫ সাল) থেকেই ‘ইসলামীয় নেটো’ তৈরির মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে চিরশত্রু পাকিস্তান। এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদকে চাপে রাখতে ওই চতুঃশক্তিজোটের অংশ হওয়া কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হতে পারে, বলছেন সাবেক সেনাকর্তা থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা।
গত বছরের ডিসেম্বরে একটি ত্রিপাক্ষিক সামরিক সহযোগিতামূলক সমঝোতায় সই করে ইজ়রায়েল, গ্রিস ও সাইপ্রাস। তাতে বিমান ও নৌবাহিনীর যৌথ মহড়া, বৈদ্যুতিন যুদ্ধকৌশল (ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার), ড্রোনের লড়াই, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) যৌথ অনুশীলন এবং গোয়েন্দা তথ্যের আদান-প্রদানের ব্যাপারে সম্মত হয় ওই তিন দেশ। সংশ্লিষ্ট জোটে ভারতকে শামিল করতে চাইছে তারা। সম্প্রতি এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পায় নয়াদিল্লি। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, তিনটি দেশের সঙ্গেই ‘যথেষ্ট ভাল’ সম্পর্ক রয়েছে মোদী সরকারের।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সাইপ্রাসের নিকোসিয়ায় ওই সামরিক সমঝোতায় সই করার পরই বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতি দেয় ইহুদিদের স্থলবাহিনী আইডিএফ (ইজ়রায়েল ডিফেন্স ফোর্স)। তাঁদের এক সেনাকর্তা বলেন, ‘‘এই জোটে ভারতকে পাশে পাওয়া অত্যন্ত জরুরি। নয়াদিল্লির পাশে থাকলে আমাদের ‘কৌশলগত গোষ্ঠী’ তৈরি করা অনেক বেশি সহজ হবে। গোয়েন্দা তথ্যের পাশাপাশি আমরা অবাধে হাতিয়ার এবং গোলা-বারুদ লেনদেন করতে পারব। জাতীয় নিরাপত্তায় যা আপৎকালীন পরিস্থিতিতে খেলা ঘুরিয়ে দিতে পারে।’’
কেন হঠাৎ ‘ভুমধ্যসাগরীয় কোয়াড’ তৈরি করতে চাইছে ইজ়রায়েল, গ্রিস ও সাইপ্রাস? প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের দাবি, এর নেপথ্যে রয়েছে একাধিক কারণ। গত বছরের (পড়ুন ২০২৫ সাল) সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের সঙ্গে ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’ করে পাকিস্তান। এতে বলা হয়েছে, এই দু’য়ের মধ্যে কোনও একটি দেশ তৃতীয় কোনও শক্তি দ্বারা আক্রান্ত বা আগ্রাসনের শিকার হলে, তাকে উভয় দেশের উপর আঘাত বা যুদ্ধ হিসাবে বিবেচনা করা হবে। সংশ্লিষ্ট সমঝোতার জেরে পশ্চিম এশিয়া ও ভূমধ্যসাগরীয় এলাকার ভূ-রাজনীতিতে যে আমূল বদল এসেছে, তা বলাই বাহুল্য।
এ বছরের জানুয়ারিতে পাক-সৌদি ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে মেগা এন্ট্রি নিতে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিচেপ তায়িপ এর্ডোয়ান চিন্তাভাবনা করছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট সমঝোতার অংশ হতে পারে এককালের সোভিয়েত ইউনিয়নের (বর্তমান রাশিয়া) অংশ থাকা আজ়ারবাইজান। কারণ, কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তিতে পরমাণু হাতিয়ারের নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছে ইসলামাবাদ। আর তাই আঙ্কারা ও রিয়াধকে সঙ্গে নিয়ে ‘ইসলামীয় নেটো’ তৈরির স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন রাওয়ালপিন্ডির ফৌজি জেনারেলরা।
গত শতাব্দীতে ‘ঠান্ডা লড়াই’ (কোল্ড ওয়ার) চলাকালীন সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নকে ঘিরতে পশ্চিম ইউরোপীয় দেশগুলিকে নিয়ে একটি সামরিক জোট গড়ে তোলে আমেরিকা। তারই পোশাকি নাম ‘নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজ়েশন’ বা নেটো। বর্তমানে এর সদস্যসংখ্যা ৩২। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ব্রিটেন ও ফ্রান্সের কাছে আছে পরমাণু শক্তি। নেটোর সংবিধান অনুযায়ী, এই গোষ্ঠীর কোনও দেশ অন্য কোনও রাষ্ট্র বা জোট দ্বারা আক্রান্ত হলে বাকিরা সকলে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবে। এ-হেন নেটোর জন্মের সালটা ছিল ১৯৪৯।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, প্রায় নেটোর ধাঁচেই সৌদির সঙ্গে ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’ গড়ে তুলেছে পাকিস্তান। মুসলিম দেশগুলির মধ্যে একমাত্র ইসলামাবাদের কাছে আছে পরমাণু শক্তি। সেই কারণেই রাওয়ালপিন্ডির ফৌজি জেনারেলরা ‘ইসলামীয় নেটো’ তৈরির ব্যাপারে এতটা উৎসাহ দেখাচ্ছেন বলে মনে করেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা। তবে এর অংশ হতে চাওয়া তুরস্ক বা আজ়ারবাইজ়ানের আছে অন্য হিসাব। পাকিস্তানকে সামনে রেখে আঙ্কারা ও বাকু যে নিজেদের স্বার্থ পূরণ করতে চাইছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের (১৯১৪-’১৮) আগে পর্যন্ত তুরস্ককে কেন্দ্র করে ইউরোপ ও এশিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা ছিল অটোমান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। লড়াই থামার পর সেই জমির প্রায় অধিকাংশই হাতছাড়া হয় আঙ্কারার। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, ২১ শতকে নতুন করে ‘অটোমান’ গড়ে তুলতে চাইছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট এর্ডোয়ান। আর তাই ঘন ঘন ‘ইসলামীয় ভ্রাতৃত্ববোধের’ (ইসলামিক ব্রাদারহুড) কথা বলতে শোনা যাচ্ছে তাঁকে। তা ছাড়া ইজ়রায়েল, গ্রিস ও সাইপ্রাস— তিনটি দেশের সঙ্গেই ‘ইউরোপের রুগ্ন মানুষ’টির সম্পর্ক সাপে নেউলে বললে অত্যুক্তি হবে না।
বিশ্বযুদ্ধোত্তর অটোমান ভেঙে যাওয়ার আগে পর্যন্ত তুরস্কের দখলে ছিল গ্রিস। দেশের মানচিত্রকে সেই পুরনো জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে এজ়িয়ান সাগরে আথেন্সের অধিকারে থাকা দ্বীপগুলির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আঙ্কারা। শুধু তা-ই নয়, সেখানে ‘আগ্রাসী’ মনোভাব দেখাতেও কসুর করছে না তুর্কি নৌবাহিনী। ফলে কিছুটা বাধ্য হয়েই সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি করেছে গ্রিক সরকার। বাহিনীকে শক্তিশালী করতে সৈনিকদের হাতে ইজ়রায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র এবং রকেট আর্টিলারি সিস্টেম (বিশেষ ধরনের কামান) তুলে দিয়েছে তারা।
সাইপ্রাস ও তুরস্কের মধ্যে শত্রুতা আরও গভীর। ভূমধ্যসাগরীয় এই দ্বীপরাষ্ট্রটির কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। এর উত্তরে তুরস্ক ও পূর্ব দিকে গ্রিস। আর তাই সাইপ্রাস থেকে গোটা দক্ষিণ-পূর্ব ভূমধ্যসাগরকে নিয়ন্ত্রণ করার সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি, এখান থেকে পশ্চিম এশিয়ার ইজ়রায়েল, লেবানন এবং সিরিয়ার উপর নজরদারিও সম্ভব। সেই কারণে সম্পূর্ণ সাইপ্রাসকেই গিলে নেওয়ার সুপ্ত ইচ্ছা রয়েছে আঙ্কারার। অন্য দিকে, সেখানে পা জমাতে চায় আথেন্সও।
একসময় গ্রিস ও রোমান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল সাইপ্রাস। কিন্তু ষোড়শ শতকে ভূমধ্যসাগরীয় এই দ্বীপরাষ্ট্র চলে যায় অটোমান সাম্রাজ্যের দখলে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে সাইপ্রাস কব্জা করে ব্রিটেন। ১৯৩৯-’৪৫ সাল পর্যন্ত চলা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তার কোনও বদল হয়নি। ওই লড়াই থামার পর এক এক করে স্বাধীনতা পায় ইংরেজ উপনিবেশ। ফলে ১৯৬০ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে সাইপ্রাস। এর পরই তুরস্কের সঙ্গে তীব্র হয় তাদের সংঘাত।
ভূমধ্যসাগরের দ্বীপরাষ্ট্রটি স্বাধীনতা পেতেই সেটিকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে ফেলে গ্রিস। ১৯৭৪ সালে স্থানীয় চরমপন্থীদের অভ্যুত্থানে রাতারাতি সাইপ্রাসে ঘটে ক্ষমতাবদল। এই অভ্যুত্থানে পূর্ণ সমর্থন ছিল আথেন্সের তৎকালীন জান্তা সরকারের। গ্রিকদের এই আগ্রাসী মনোভাবে প্রমাদ গোনে তুরস্ক। কারণ তত দিনে আঙ্কারা ও আথেন্সের মধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে সীমান্ত বিবাদ। কালবিলম্ব না করে ওই বছরের ২০ জুলাই দ্বীপরাষ্ট্রটিকে আক্রমণ করে বসে তুর্কি সেনা।
সদ্যস্বাধীন সাইপ্রাসের পক্ষে এই আক্রমণের চাপ সহ্য করা সম্ভব ছিল না। ফলে অনায়াসেই দ্বীপরাষ্ট্রটির এক তৃতীয়াংশ জমি দখল করে নেয় তুরস্ক। শেষে যুদ্ধ বন্ধ করতে উদ্যোগী হয় রাষ্ট্রপুঞ্জ। আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও দখল করা এলাকা থেকে বাহিনী সরায়নি আঙ্কারা। ওই এলাকার পোশাকি নাম ‘টার্কিস রিপাবলিক অফ নর্দার্ন সাইপ্রাস’ বা টিআরএনসি। সরকারি ভাবে অবশ্য একে স্বশাসিত এলাকা হিসাবে উল্লেখ করে থাকে এর্ডোয়ান প্রশাসন।
সাইপ্রাস সরকার অবশ্য কোনও দিনই তাদের দ্বীপের একাংশের উপর তুরস্কের অধিকার মেনে নেয়নি। ফলে আঙ্কারাকে সেখান থেকে উৎখাত করতে গ্রিসের সঙ্গে হাত মেলাতে দেরি করেনি তারা। ‘ইউরোপের রুগ্ন মানুষ’টির সঙ্গে ইজ়রায়েলের আবার রয়েছে দীর্ঘ দিনের শত্রুতা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তাদের পরাজয়ের নেপথ্যে বড় ভূমিকা ছিল ইহুদিদের। আর তাই ইজ়রায়েলকে কখনওই রাষ্ট্রের মান্যতা দেয়নি তুরস্ক।
স্বাধীনতার পর থেকে কাশ্মীর ইস্যুতে ‘ইসলামীয় ভাই’ হিসাবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বরাবর আঙ্কারাকে পাশে পেয়েছে ইসলামাবাদ। গত বছরের (২০২৫ সালের) মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় পাক ফৌজকে ড্রোন পাঠিয়ে সাহায্য করে তুরস্ক। তার পর থেকে নয়াদিল্লির সঙ্গে এর্ডোয়ান প্রশাসনের সম্পর্ক একরকম তলানিতে গিয়ে পৌঁছোয়। ‘ইউরোপের রুগ্ন মানুষ’টির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক হ্রাস করে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার।
তুরস্কের মতো কাশ্মীর প্রশ্নে আজ়ারবাইজানের সমর্থন রয়েছে পাকিস্তানের দিকে। বিতর্কিত নাগোর্নো-কারাবাখকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী আর্মেনিয়ার সঙ্গে বিগত কয়েক বছরে একাধিক বার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়েছে বাকু। ইয়েরভানের অন্যতম বড় অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ হল ভারত। পিনাকা মাল্টি ব্যারেল রকেট লঞ্চার, আকাশ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, ১৫৫ মিলিমিটারের আর্টিলারি গান (কামান), ট্যাঙ্ক ধ্বংসকারী ক্ষেপণাস্ত্র, রেডার ও ড্রোন নয়াদিল্লির থেকে কিনেছে আর্মেনিয়া। আগামী দিনে এই তালিকায় শামিল হতে পারে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রও।
২০০৭ সালে ‘কোয়াড্রিল্যাটারাল সিকিউরিটি ডায়ালগ’ বা কোয়াড নামের একটি চতুঃশক্তিজোট গড়ে তোলে ভারত, আমেরিকা, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া। মাত্র এক বছরের মাথায় যাতে স্থবিরতা দেখা গিয়েছিল। ২০১৭ সালে ফের কোয়াডকে পুনর্জীবিত করে এই চার দেশ। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় চিনের প্রভাব হ্রাস করাই এর মূল উদ্দেশ্য। সেই লক্ষ্যে প্রায়ই যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নিয়ে থাকে কোয়াড-ভুক্ত দেশগুলির ফৌজ। সামরিক কৌশলের আদান-প্রদানও চলে তাদের মধ্যে।
ভূমধ্যসাগরীয় এলাকায় ঠিক এই কায়দাতেই ভারতের সঙ্গে একটি চতুঃশক্তি জোট গড়ে তুলতে চাইছে ইজ়রায়েল। আইডিএফের সেনাকর্তাদের দাবি, এতে ‘ইসলামীয় নেটো’র উপর চাপ তৈরি করা অনেক সহজ হবে। নয়াদিল্লির পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ওই ‘কোয়াড’-এ আসুক, চাইছেন তাঁরা। কারণ, পাক-সৌদি চুক্তির পর রিয়াধের দিক থেকে আক্রমণের আশঙ্কায় ভুগছে আবু ধাবি। এই পরিস্থিতিতে তাদের ‘অটোমেটিক চয়েস’-এ সামনে এসেছে ওই ইহুদি রাষ্ট্র।
বর্তমানে ‘আইটুইউটু’ নামের একটি গোষ্ঠীর সদস্যপদ রয়েছে আমিরশাহির। ওই সংগঠনের অন্য তিনটি দেশ হল ভারত, আমেরিকা ও ইজ়রায়েল। অর্থাৎ, ইহুদিদের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কে যেতে কোনও সমস্যা নেই আবু ধাবির। চলতি বছরের জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে নয়াদিল্লি সফরে আসেন আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট মহম্মদ বিন জ়ায়েদ আল নাহিয়ান। মোদী সরকারের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করার কথা রয়েছে তাঁর।
সাবেক সেনাকর্তাদের দাবি, ‘ভূমধ্যসাগরীয় কোয়াড’-এ অন্তর্ভুক্ত হলে আখেরে লাভ হবে ভারতের। কারণ, সে ক্ষেত্রে গ্রিস, তুরস্ক ও সাইপ্রাসের থেকে হাতিয়ার সরবরাহের বিপুল বরাত পেতে পারে নয়াদিল্লি। দ্বিতীয়ত, এর মাধ্যমে ইজ়রায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করতে পারবে কেন্দ্র। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যা দারুণ ভাবে কাজে আসতে পারে। যদিও এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি মোদী সরকার।
সব ছবি: সংগৃহীত।