ছবি: সংগৃহীত।
কষা মাংস বা চিকেন বাটার মশালার সঙ্গে নরম তুলতুলে বাটার গার্লিক নান! এর মধ্যে প্রথমটি রেস্তরাঁর মতো বাড়িতেই বানিয়ে নেওয়া যায়। কিন্তু দ্বিতীয়টি অর্থাৎ বাটার গার্লিক নান বাড়িতে বানালেও তাতে রেস্তরাঁর মতো স্বাদ আসে না। নরমও হয় না তেমন। তবে বিশেষ পদ্ধতি জানা থাকলে বাড়িতে তন্দুর ছাড়াই রেস্তরাঁর মতো মতো গার্লিক নান বানানো যাবে সহজে। সাধারণ লোহার চাটুতেই।
উপকরণ:
২ কাপ ময়দা
১ চা চামচ চিনি
১/২ চা চামচ নুন
১/২ চা চামচ বেকিং পাউডার
১/৪ চা চামচ বেকিং সোডা
১/৪ কাপ টক দই (ঘরের তাপমাত্রায় থাকা)
২ টেবিল চামচ সাদা তেল
পরিমাণমতো ঈষদুষ্ণ জল
৩ টেবিল চামচ গলানো মাখন
২ টেবিল চামচ রসুনকুচি
২ টেবিল চামচ ধনেপাতাকুচি
১ টেবিল চামচ কালোজিরে
প্রণালী:
১। একটি বড় পাত্রে ২ কাপ ময়দা নিন। এবার তাতে ১ চা চামচ চিনি, ১/২ চা চামচ নুন, ১/২ চা চামচ বেকিং পাউডার এবং ১/৪ চা চামচ বেকিং সোডা দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন।
২। শুকনো উপকরণের মধ্যে ১/৪ কাপ টক দই এবং ২ টেবিল চামচ সাদা তেল দিয়ে হাত দিয়ে ভালো করে ময়ান দিন।
৩। এবার অল্প অল্প করে ঈষদুষ্ণ জল দিয়ে একটি নরম ও মসৃণ মণ্ড তৈরি করুন। মণ্ড যেন খুব শক্ত বা খুব বেশি পাতলা না হয়। মাখা হয়ে গেলে সামান্য তেল মণ্ডের গায়ে মাখিয়ে একটি ভেজা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখুন ১ থেকে ২ ঘণ্টা। তাপমাত্রা বেশি, এমন কোনও জায়গায় রাখলে আরও ভাল। এতে ময়দা ফুলে উঠবে এবং নরম হবে।
৪। এ বার গার্লিক বাটার তৈরি করতে হবে। একটি ছোট পাত্রে ৩ টেবিল চামচ গলানো মাখনের সঙ্গে ১ টেবিল চামচ মিহি করে কাটা রসুন মিশিয়ে একপাশে রেখে দিন। এটি পরে কাজে লাগবে।
৫। ১-২ ঘণ্টা পর ময়দার মণ্ডটি আর এক বার মেখে নিন। তা থেকে মাঝারি আকারের লেচি কেটে নিন। সাধারণ রুটির চেয়ে সামান্য বড় হবে লেচিগুলি। অল্প শুকনো ময়দা ছড়িয়ে লেচিগুলোকে ডিম্বাকৃতি বা গোল করে বেলে নিন। খুব বেশি পাতলা বেলবেন না, নান সামান্য মোটা হবে।
৬। বেলে নেওয়া নানের এক পিঠে সামান্য রসুনকুচি, ধনেপাতাকুচি এবং কালোজিরে ছড়িয়ে দিন। এবার বেলন দিয়ে হালকা চাপে এগুলি নানের সঙ্গে চেপে দিন যাতে আলগা হয়ে পড়ে না যায়।
৭। এবার নানটি উল্টে নিন। যে পিঠে ধনেপাতা-রসুন নেই, সেই দিকে হাত দিয়ে বা ব্রাশ দিয়ে জল লাগিয়ে নিন।
৮। লোহার তাওয়া বা চাটু মাঝারি কিংবা চড়া আঁচে ভাল করে গরম করে নিন। নন-স্টিক তাওয়া একেবারেই ব্যবহার করবেন না। কারণ ওই তাওয়া বেশি তাপ সহ্য করতে পারে না। খাবার বিষাক্ত করে তুলতে পারে।
৯। এবার নানের জল লাগানো দিকটি তাওয়ার উপর দিন। কিছু ক্ষণের মধ্যেই দেখবেন নানের উপরের অংশটি ছোট ছোট বুদবুদের মতো ফুলে উঠছে। ১ মিনিট ওই অবস্থায় রেখে সাঁড়াশি দিয়ে তাওয়াটিকে সরাসরি আগুনের উপর উপুড় করে ধরুন এবং নানের উপরের পিঠটি সেঁকে নিন, যত ক্ষণ না রেস্তরাঁর মতো বাদামি বা কালো পোড়া দাগ আসছে।
১০। নানটি তাওয়া থেকে নামিয়ে গরম থাকা অবস্থাতেই গার্লিক বাটার উপর থেকে ব্রাশ করে দিন। তার পরে গরম গরম পরিবেশন করুন। এর সঙ্গে চিকেন কষা, পনির বাটার মশালা বা ডাল মাখানি জমে যাবে।