গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
রাস্তার ধারের দোকান থেকে খাবার কিনে খান? আপনি একা নন, ফুটপাথের খাবার অনেকেই খান। ফুচকা-চাট-রোল-ঝালমুড়ি-বেগুনি ইত্যাদি চারপাশ ঢাকা দোকানে কতই বা পাওয়া যায়! ফলে খাওয়ার ইচ্ছে হলে রাস্তার ধারের দোকানই ভরসা। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) সম্প্রতি যে পরিসংখ্যান দিয়েছে, তা দেখার পরে ফুটপাথ থেকে খাবার খাওয়ার আগে দু’বার ভাবতে হবে। কারণ, হু বলছে, দূষিত এবং অসুরক্ষিত খাবার খেয়ে প্রতি বছর প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে গোটা দুনিয়ায়। সেখানেই শেষ নয়। হু আরও জানিয়েছে, প্রতি বছর ৮৬ কোটিরও বেশি মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন ওই ধরনের খাবার থেকে। আর এই দূষণের কারণ শুধু ব্যাক্টেরিয়া বা ভাইরাস নয়, রাসায়নিকও।
৭ জুন ‘বিশ্ব খাদ্য সুরক্ষা দিবস’-এ একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করেছে হু। রিপোর্টে বলা হয়েছে, দূষিত এবং অসুরক্ষিত খাবার বড় রকমের স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি করেছে বিশ্বে। তবে এই সমস্যার সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুরা।
গোটা বিশ্বের জনসংখ্যার মাত্র ৯ শতাংশ এই পাঁচ বছর বা তার কম বয়সি শিশুরা। তবে খাবারবাহিত পেটের রোগে সবচেয়ে বেশি ভোগে ওরাই। হু জানাচ্ছে, গোটা বিশ্বে যত রকম খাদ্যবাহিত রোগ হয়, তার মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই হয় ওই পাঁচ-অনূর্ধ্ব শিশুদের। বড়দের তুলনায় তাদের অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিও প্রায় তিন গুণ বেশি।
হু জানিয়েছে, ৪২ রকমের খাবার থেকে হওয়া রোগের বিশ্লেষণ করে তারা দেখেছে, এর নেপথ্যে রয়েছে ব্যাক্টেরিয়া-ভাইরাস জনিত সংক্রমণ, পরজীবী জনিত রোগ। তবে তার বাইরেও খাবারে দূষণ হয়। আর তা হয় রাসায়নিক থেকে।
হু জানাচ্ছে, সিসা ও অজৈব আর্সেনিকের মতো বিষাক্ত রাসায়নিকও খাবার দূষিত করে। বহু খাবারে ওই ধরনের রাসায়নিকও থাকে। যা খেলে শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশ ব্যাহত হয়। যা তাদের আজীবনের স্নায়বিক রোগ ও মানসিক প্রতিবন্ধকতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
অস্বাস্থ্যকর খাবারের পাশাপাশি ওই রাসায়নিক ভাবে দূষিত খাবার সম্পর্কেও অতিরিক্ত সতর্ক হতে বলেছে হু। তারা বলছে, ২০২১ সালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, খাদ্যজনিত মৃত্যুর ঘটনায়, ৭৩ শতাংশ ক্ষেত্রেই কারণ ছিল রাসায়নিক দূষণ। এ ছাড়া ডায়েরিয়া থেকেও মৃত্যু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, খাবারে রাসায়নিক দূষণের মাত্রা নিয়ে প্রতিটি দেশের কাছেই সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়েছে। যাতে সরকার জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় উপযুক্ত পদক্ষেপ করতে পারে।