ছবি: সংগৃহীত।
সকালের সময়টা যে কতটা ব্যস্ততার যাঁরা হেঁশেল সামলান তাঁরা বোঝেন। বাড়িতে ছোট সদস্য থাকলে তাকে প্রস্তুত করে স্কুলে পাঠানো, অফিসে বেরোনার জন্য রান্না। আবার নিয়ে যাওয়ার জন্য টিফিন। গৃহিণী হোন বা কর্মরতা মহিলা—এই সময় কারও দম ফেলার ফুরসত থাকে না। তার উপর নতুন ভাবনা, টিফিনে কী দেওয়া যায়। বিস্কুট, চিপ্স, কেক স্বাস্থ্যকর খাবার নয়। তা ছাড়া, সে সব ছোটদের দেওয়া গেলেও, বড়রা কী খাবেন!
তার চেয়ে বানিয়ে নিন এমন খাবার যা স্বাস্থ্যকর হবে, স্বাদ বদলাবে কিন্তু রান্নার বিশেষ ঝক্কি থাকবে না। চিরপরিচিত খিচুড়িতেই আনুন ‘ট্যুইস্ট’।
পালং খিচুড়ি
পালং শাক শুধু ফাইবার নয়, ভিটামিন এবং খনিজেও ভরপুর। কিন্তু সব্জিটি ছোটদের খাওয়ানো কঠিন। তাই পুষ্টির খেয়াল রাখতে হলে বানিয়ে ফেলুন পালং খিচুড়ি। একমুঠো করে ছোলার ডাল, মুগ ডাল নিন। দু’মুঠো চাল মিশিয়ে ভাল করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে নিন। প্রেশার কুকারে ২ কাপ জল দিয়ে ধুয়ে রাখা চাল-ডাল নুন, হলুদ দিয়ে সেদ্ধ করে নিন। কড়াইয়ে তেল গরম হতে দিন। জিরে, হিং ফোড়ন দিন। পেঁয়াজ কুচি, রসুন কুচি এবং আদা কুচি দিয়ে হালকা নাড়াচাড়া করে যোগ করুন টম্যাটো কুচি। স্বাদমতো নুন, হলুদ, ধনে এবং জিরে গুঁড়ো দিয়ে সব উপকরণ কষিয়ে নিন। যোগ করুন ধুয়ে কুচিয়ে নেওয়া এক আঁটি পালং শাক। ঢাকা দিয়ে সেদ্ধ হতে দিন। এতে মিশিয়ে দিন সেদ্ধ করা চাল-ডাল। সমস্ত উপকরণ ভাল করে মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে পালংয়ের খিচুড়ি। উপর থেকে একটু ঘি মিশিয়ে নিন।
মাশরুম রিসোটো স্টাইল খিচুড়ি
মাশরুম রিসোটো। ছবি: সংগৃহীত।
একটু নতুন স্বাদের কিছু খেতে চাইলে অবশ্যই বানিয়ে ফেলুন মাশরুম রিসোটোর কায়দায় খিচুড়ি। রিসোটো ভারতীয় না হলেও, ভারতীয়করণ করে খিচুড়ি বানানোই যেতে পারে। এই রান্নার জন্য অরবোরিও রাইস ব্যবহার হয়। তা দিয়েও রান্নাটি করতে পারেন। তবে চাইলে স্টার্চ বেশি এমন যে কোনও চাল নিতে পারেন, এমনকী গোবিন্দভোগ চালও ব্যবহার করতে পারেন। রান্নার জন্য প্রথমে সাদা তেলে মাশরুম নুন এবং রসুন কুচি দিয়ে ভেজে তুলে রাখুন। একটি পাত্রে মাখন দিয়ে মিহি করে কুচনো পেঁয়াজ এবং রসুন, টম্যাটো হালকা নাড়াচাড়া করে নিন। যোগ করুন সব্জি সেদ্ধ করা জল বা গরম জল। তার মধ্যে দিয়ে দিন ধুয়ে রাখা চাল। আঁচ কমিয়ে সেদ্ধ হতে দিন। চাল গলে গেলে তার মধ্যে চিজ়, স্বাদমতো নুন যোগ করুন। উপর থেকে মাশরুম ভাজা মিশিয়ে নিন। রিসোটো হবে খিচুড়ির মতোই গলা, তবে সাদা।
ডিমের খিচুড়ি
ডিমে উচ্চ মাত্রায় প্রোটিন মেলে। তা স্বাস্থ্যের জন্যও ভাল। বানিয়ে ফেলতে পারেন ডিম খিচুড়িও। কড়াইয়ে তেল গরম হতে দিন। শুকনো লঙ্কা, তেজপাতা, জিরে ফোড়ন দিন। পেঁয়াজ কুচি, আদা-রসুন বাটা দিয়ে হালকা ভেজে নিন। যোগ করুন নুন, হলুদ, কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো, ধনে এবং জিরে গুঁড়ো। সমস্ত মশলা কষিয়ে ধুয়ে রাখা চাল-ডাল দিয়ে যোগ করুন। সেদ্ধ করা ডিমের গা-টা ছুরি দিয়ে চিরে এর মধ্যে দিয়ে দিন। একসঙ্গে সবটা মিনিট পাঁচেক কষিয়ে পরিমাণমতো গরম জল দিন। এটি পোলাও নয়, খিচুড়ি। তাই এটি গলা গলা হবে, ঝরঝরে নয়। সমস্ত উপকরণ দিয়ে প্রেশার কুকারে রান্না করে নিতে পারেন যতক্ষণ না চাল-ডাল সুসিদ্ধ হয়।