Total Lunar Eclipse

কুসংস্কার ছেড়ে দোল পূর্ণিমায় নির্ভয়ে গ্রহণ দেখুন! ‘কেঁচো চাঁদ’ ঢাকা পড়বে, বেরিয়ে আসবে, চোখ রাখুন আকাশে

মহাবিশ্বে মহাজাগতিক বস্তুরা নিজের কক্ষপথে ঘোরে। তবু এক জন অন্য জনের পথে এসে আটকে দিচ্ছে আলো। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই দৃশ্য উপভোগ করা উচিত।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০২ মার্চ ২০২৬ ১৭:৩৪

— ফাইল চিত্র।

দোল পূর্ণিমায় মঙ্গলবার আকাশে দেখা যাবে এক মহাজাগতিক দৃশ্য, যা বিরলও বটে— পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সাক্ষী থাকবে পৃথিবী। তবে পূর্ণগ্রাস ভারতের সব জায়গা থেকে দেখা যাবে না। পূর্ব দিকের কিছু জায়গা থেকেই তা দেখা যাবে। যদিও দেশের মানুষ একেবারে বঞ্চিত হবেন না। মন ভরে দেখতে পাবেন মার্চের ‘কেঁচো চাঁদ’। সব শেষে সন্ধ্যা ৭টা ৫৩ মিনিটের পর থেকে আবার দেখতে পাবেন ঝলমলে চাঁদও।

Advertisement

কেন ‘কেঁচো চাঁদ’?

মার্চের প্রথম পূর্ণিমার চাঁদকে বলে ‘কেঁচো চাঁদ’ (ইংরেজিতে ওয়র্ম মুন)। কানাডা, উত্তর আমেরিকায় মার্চ থেকে বরফ গলতে শুরু করে। মাটি খুঁড়ে গর্ত থেকে বেরিয়ে আসে কেঁচো। পাখিরা সেগুলি ছোঁ মেরে তুলে নিয়ে খায়। আসলে মার্চে পাখিদের প্রজননের সময় শুরু হয়। তার আগে মনে ভরে কেঁচো খেয়ে পেট ভরায়। সে কারণে মার্চের প্রথম পূর্ণিমার চাঁদের এই নাম।

কলকাতা থেকে কি দেখা যাবে পূর্ণগ্রাস?

ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর স্পেস ফিজিক্সের অধিকর্তা সন্দীপকুমার চক্রবর্তী জানান, কলকাতা থেকে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে না। মঙ্গলবার শহরে চাঁদ উঠবে বিকেল ৫টা ৩৮ মিনিট থেকে ৫টা ৪০ মিনিটের মধ্যে। অন্য দিকে, ভারতীয় সময়ে পূর্ণগ্রাস শেষ হয়ে যাচ্ছে বিকেল ৫টা ৩৩ মিনিটে। তাই কলকাতাবাসী যখন দিগন্তরেখা থেকে চাঁদকে উঠতে দেখবেন, তখন পূর্ণগ্রাস থাকবে না। তবে চাঁদের ৯১ শতাংশ থাকবে লাল বা ব্লাডমুন। বাকি ৯ শতাংশ থাকবে আবছা হলুদ।

রাজ্যের কোথা থেকে কখন দেখা যাবে?

দার্জিলিঙে বিকেল ৫টা ৩৭ মিনিটে চন্দ্রোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই দেখা যাবে গ্রহণ। তা চলবে এক ঘণ্টা ১১ মিনিট ধরে। কোচবিহারে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ৩৩ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা ১৫ মিনিট ধরে দেখা যাবে গ্রহণ। মেদিনীপুরে বিকেল ৫টা ৪৪ মিনিটে চন্দ্রোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে দেখা যাবে গ্রহণ। চলবে এক ঘণ্টা ৪ মিনিট ধরে। মুর্শিদাবাদে ৫টা ৩৮ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা ১০ মিনিট ধরে আকাশে দেখা যাবে গ্রহণ।

পূর্ব ভারতে কোথা থেকে দেখা যাবে পূ্র্ণগ্রাস?

পূর্ব ভারতে তিনসুকিয়া, ডিগবয়ে চাঁদ উঠবে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ১৩ মিনিটে। পুরো চাঁদ উঠতে দেড় মিনিট লাগবে। তাই সেখানকার মানুষজনের পূর্ণগ্রাস দেখার সুযোগ বেশি থাকবে। তবে রাজস্থান, গুজরাতের মতো পশ্চিমের রাজ্যগুলিতে পূর্ণগ্রাস দেখার সম্ভাবনা নেই।

কখন দেখা যাবে উজ্জ্বল চাঁদ?

মঙ্গলবার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলবে গ্রহণ। সবচেয়ে নাটকীয় পর্যায় চলবে ৫৮ মিনিট ১৫ সেকেন্ড ধরে। সেই সময় পৃথিবীর যেখানে অন্ধকার থাকবে, সেখানে আকাশে খালি চোখে তাকালেই দেখা যাবে চন্দ্রগ্রহণ। সন্দীপ জানাচ্ছেন, ওই দিন ঘণ্টাখানেক চলবে প্রচ্ছায়া। ভারতীয় সময় অনুসারে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ পর্যন্ত চলবে প্রচ্ছায়া। তখন মলিন দেখাবে চাঁদকে। ৬টা ৪৭ নাগাদ প্রচ্ছায়া থেকে বেরিয়ে যাবে চাঁদ। তার পরে ধীরে ধীরে চাঁদের একটা দিক উজ্জ্বল হতে থাকবে। এর পরে উপছায়া থেকে চাঁদ বেরিয়ে যাবে সন্ধ্যা ৭টা ৫৩ মিনিটে। তখন ঝলমলে দেখাবে পূর্ণিমার চাঁদকে।

চন্দ্রগ্রহণ কখন হয়?

চাঁদের নিজস্ব আলো নেই। তার উপর সূর্যের আলো পড়ে। তার পরেই তাকে দেখা যায়। পৃথিবী চাঁদ এবং সূর্যের মাঝে চলে এলে সূর্যের আলো আর চাঁদে পড়ে না। বদলে পৃথিবীর ছায়া পড়ে চাঁদের উপরে। তখনই হয় চন্দ্রগ্রহণ। পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের রং হয় লাল। সে কারণে তাকে ‘রক্ত চাঁদ’ (ব্লাড মুন)-ও বলা হয়ে থাকে।

কেন পূর্ণগ্রাসের সময় চাঁদের রং লাল হয়?

পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ পুরোপুরি কালো কিন্তু হয় না। বদলে লাল হয়ে ওঠে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল যখন সূর্যের আলো গ্রহণ করে (তার মধ্যে দিয়ে যখন সেই রশ্মি প্রতিসরিত হয়), তখন সূর্যরশ্মির লাল অংশ কম পরিমাণে প্রতিসরিত হয় এবং তা চাঁদের উপরে গিয়ে পড়ে। অন্য দিকে, সূর্যরশ্মির নীল অংশটি চার দিকে ছড়িয়েছিটিয়ে পড়ে। তাই চাঁদকে গ্রহণের সময়ে গাঢ় কালচে লাল দেখা যায়। কিন্তু কখনও কালো দেখায় না।

কেন দেখব?

মহাবিশ্বে মহাজাগতিক বস্তুরা নিজের কক্ষপথে ঘোরে। তবু এক জন অন্য জনের পথে এসে আটকে দিচ্ছে আলো। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই দৃশ্য উপভোগ করা উচিত। এই বিরল ঘটনা বড় পাওনা। যেন আমরা মহাকাশযানে বসে আছি, যা আমাদের সূর্যের চারপাশে নিয়ে ঘোরাচ্ছে। পুরনো সিডির যে দিকে দাগ রয়েছে, সে দিকে চাঁদের প্রতিফলন দেখলে তার রঙের বদল আরও স্পষ্ট ধরা পড়বে। পাঁচ মিনিট অন্তর সেই সিডির ছবি তুললেই দেখা যাবে পরিবর্তন।

কবে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখবে ভারত?

২০২৮ সালের জুলাইয়ের আগে আর কোনও পূর্ণগ্রাস দেখা যাবে না ভারতে।

Advertisement
আরও পড়ুন