Sturn

পৃথিবীর চেয়ে ন’গুণ বড়, তবু জলে পড়লে ডুববে না শনি! সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহের ‘রহস্যটা’ কী?

জলের চেয়ে শনির ঘনত্ব কম বলে তার ওজন হালকা, এটা ভাবলে কিন্তু ঠিক হবে না। সবচেয়ে হালকা গ্যাস দিয়ে তৈরি হলেও নিজের মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে একটি গোলাকার রূপ নিয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ ০৮:৫৪
পৃথিবী থেকে খালি চোখে দেখা যায় শনিকে।

পৃথিবী থেকে খালি চোখে দেখা যায় শনিকে। ছবি: সংগৃহীত।

সূর্যের চারপাশে প্রদক্ষিণ করছে যে আটটি গ্রহ, তাদের যদি কোনও ভাবে জলে ফেলে দেওয়া যায়, তা হলে কী হবে? বিজ্ঞানীরা বলছেন, সাতটিই ডুবে যাবে। ডুববে না শুধু শনি। কারণ, তার গড় ঘনত্ব জলের ঘনত্বের চেয়ে কম। নাসা এই বিষয়টিকে মজা করে বুঝিয়ে বলে, যদি বিশাল এক বাথটাবে শনি গ্রহকে ফেলে দেওয়া যেত, তা হলে দেখা যেত, সে ডুবছে না। আসলে এই সহজ কথাটা দিয়ে পদার্থবিদ্যার জটিল এক তত্ত্বকেই তুলে ধরতে চেয়েছে আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র।

Advertisement

জলের চেয়ে যে বস্তুর ঘনত্ব কম, তা জলে ভাসতে পারে। যার বেশি, তা ডুবে যায়। সৌরজগতে শনি হল দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ। পৃথিবীর চেয়ে ন’গুণ বড়। তার পরেও তা জলে ভেসে থাকে।

কেন হালকা?

কোনও পদার্থের ঘনত্ব নির্ভর করে, যা দিয়ে সেটি তৈরি, তার উপর। নাসা বলছে, শনি হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে গঠিত। এই দু’টি পদার্থই খুব হালকা। সূর্যও এই হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম দিয়েই তৈরি। সেখানে পৃথিবী গঠিত লোহা এবং শিলা দিয়ে।

কোনও পদার্থের ভরকে আয়তন দিয়ে ভাগ করলে মেলে তার ঘনত্ব। শনির আয়তন বিশাল। কিন্তু সেই তুলনায় তার ভর সামান্য। এক লক্ষ ২০ হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত গোলকে ঠাসা রয়েছে হাইড্রোজেন আর হিলিয়াম। আর সে কারণেই শনির ঘনত্ব জলের চেয়েও কম।

মনে রাখতে হবে, শনির গঠন কিন্তু অভিন্ন নয়। নাসার গবেষণায় জানা গিয়েছে, এই গ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে লোহা এবং নিকেল। তাকে ঘিরে রয়েছে শিলা। তাকে ঘিরে রয়েছে তরল ধাতব হাইড্রোজেন। তাকে ঘিরে আবার রয়েছে তরল হাইড্রোজেনের স্তর। বাইরের এই স্তর বায়ুমণ্ডলের খুব কাছে। শনির এই ভিতর এবং বাইরের স্তরের ঘনত্বের গড় তাকে জলের চেয়েও হালকা করেছে।

জলের চেয়ে শনির ঘনত্ব কম বলে তার ওজন হালকা, এটা ভাবলে কিন্তু ঠিক হবে না। সৌরজগতের চারটি গ্রহ লোহা এবং ধাতু দিয়ে গঠিত। তাদের মধ্যে রয়েছে পৃথিবীও। সৌরজগতে সবচেয়ে বেশি ঘনত্ব পৃথিবীরই। জলের চেয়ে তার ঘনত্ব অনেক বেশি। তাকে যদি সমুদ্রে ফেলা হয়, সঙ্গে সঙ্গে ডুবে যাবে।

অন্য দিকে, শনি ছাড়াও হাইড্রোজেন এবং হিলিয়াম দিয়ে তৈরি হয়েছে বৃহস্পতি। কিন্তু তাকে যদি জলে ফেলা হয়, তা হলে ওই গ্রহ কিন্তু ডুবে যাবে। বৃহস্পতির আকার শনির চেয়েও অনেক বড়। শনির মতো একই পদার্থ দিয়ে গঠিত হলেও তার নিজের মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে ঘনত্ব জলের চেয়ে বেশি। ঠিক সেখানেই আলাদা শনি, বলছে নাসা। তাদের মতে, শনির গঠন এবং মাধ্যাকর্ষণ শক্তি, দুইয়ে মিলে তাকে ভাসিয়ে রেখেছে। তার ঘনত্ব জলের তিন ভাগের দু’ভাগ। তবে নাসা যেমনটা বলে যে, জলে ফেললে সেই গ্রহ ডুববে না, তা দেখার সুযোগ কিন্তু কোনও মতেই সম্ভব নয়। কারণ একটি গ্রহকে ধরতে পারে, এমন কোনও জলাশয় বা সমুদ্র নেই বলেই মত বিজ্ঞানীদের।

জলে পড়লে শনি ডুববে না, তবে কী ভাবে ভাসবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বিজ্ঞানীদের। শনির কেন্দ্রে রয়েছে, লোহা এবং নিকেল, যার ঘনত্ব জলের চেয়ে অনেক বেশি। শনির ভর পৃথিবীর চেয়ে প্রায় ৯৫ গুণ। খালি চোখে দেখতে পাওয়া যায় এই গ্রহকে আর তার চারপাশে বলয়কে। সবচেয়ে হালকা গ্যাস দিয়ে তৈরি হলেও নিজের মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে একটি গোলাকার রূপ নিয়েছে। এক কথায় বলতে গেলে, পৃথিবীর চেয়ে ভারী না হলেও শূন্যতা অনেক বেশি।

Advertisement
আরও পড়ুন