Life in Space

নক্ষত্রের টান ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া গ্রহের চাঁদে প্রাণের উপযোগী পরিবেশ থাকতে পারে! দাবি নতুন গবেষণায়

মহাকাশে এমন অনেক গ্রহ রয়েছে যেগুলি কোনও নির্দিষ্ট নক্ষত্রের টানে তাদের চারপাশের কক্ষপথে আবদ্ধ নয়। তারা স্বাধীন গ্রহ, স্বাধীন ভাবে ঘুরে বেড়ায় সর্বত্র। তাদের কেন্দ্র করে ঘুরে বেড়ায় কিছু উপগ্রহও। সেখানেই উঁকি দিচ্ছে প্রাণের সম্ভাবনা!

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৬ ০৮:৫৬
মহাকাশে বিচ্ছিন্ন গ্রহের সংসারে থাকতে পারে প্রাণের অস্তিত্ব!

মহাকাশে বিচ্ছিন্ন গ্রহের সংসারে থাকতে পারে প্রাণের অস্তিত্ব! —ফাইল চিত্র।

পৃথিবীর বাইরে কি আর কোথাও প্রাণ আছে? মানুষ না থাক, নিদেনপক্ষে শ্যাওলা বা পোকামাকড়? বিজ্ঞানীদের কাছে এই প্রশ্ন চিরন্তন। মহাকাশ নিয়ে চর্চা শুরুর আদি পর্ব থেকেই এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে চলেছেন তাঁরা। একাধিক গবেষণা হয়েছে। নানা দাবি প্রকাশ্যে এসেছে। কিন্তু নিশ্চিত কোনও উত্তর মেলেনি। মহাকাশের অন্যত্র প্রাণ থাকার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দিতে পারেন না বিজ্ঞানীরা। বরং তাঁরা মনে করেন, পৃথিবীর মতো পরিস্থিতি অন্য গ্রহ-উপগ্রহে থাকাটা খুব অস্বাভাবিক নয়। সম্প্রতি জার্মানির এক দল বিজ্ঞানী দাবি করলেন, মহাকাশে প্রাণের খোঁজ মিলতে পারে সম্পূর্ণ নতুন ঠিকানায়! সূর্যের মতো কোনও নক্ষত্রের সংসারে নয়, বরং নক্ষত্র-বিচ্ছিন্ন গ্রহের সংস্পর্শে মিলতে পারে প্রাণের স্পন্দন!

Advertisement

মহাকাশে এমন অনেক গ্রহ রয়েছে যেগুলি কোনও নির্দিষ্ট নক্ষত্রের টানে তাদের চারপাশের কক্ষপথে আবদ্ধ নয়। তারা স্বাধীন গ্রহ, স্বাধীন ভাবে ঘুরে বেড়ায় সর্বত্র। এই সমস্ত গ্রহকে কেন্দ্র করে ঘুরে বেড়ায় কিছু উপগ্রহও। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন, স্বাধীন সেই সমস্ত গ্রহে নয়, বরং তাদের উপগ্রহে প্রাণ থাকার সম্ভাবনা বেশি। প্রাণের অনুকূল পরিস্থিতি সেখানে তৈরি হতে পারে। পৃথিবীর আদি অবস্থার সঙ্গে এই সমস্ত উপগ্রহের অবস্থার মিলও পাওয়া গিয়েছে।

জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ডালবাডিংয়ের নেতৃত্বাধীন একটি দল স্বাধীন গ্রহের চাঁদগুলি নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, মূল গ্রহের সঙ্গে মহাকর্ষীয় মিথষ্ক্রিয়ার ফলে এই সমস্ত উপগ্রহে অভ্যন্তরীণ তাপ তৈরি হয়। সঙ্গে থাকে হাইড্রোজ়েন সমৃদ্ধ পুরু বায়ুমণ্ডল। এর ফলে ওই উপগ্রহগুলিতে দীর্ঘ দিন তরল অবস্থায় জল থাকতে পারে। অন্তত ৪৩০ কোটি বছর জলের অনুকূল এই পরিস্থিতি উপগ্রহগুলিতে থাকা সম্ভব বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন। তা পৃথিবীর বর্তমান বয়সের প্রায় সমান।

গবেষণায় দাবি, এই ৪৩০ কোটি বছরে কোনও গ্রহ বা উপগ্রহে প্রাণের সৃষ্টি, বিকাশ এবং বিবর্তন সম্ভব। মহাকাশে কোটি কোটি স্বাধীন গ্রহ এবং তার সঙ্গে তাদের উপগ্রহ ঘুরে বেড়াচ্ছে। এর মধ্যে কোনও একটিতে অনুকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও এত দিনে প্রাণ সৃষ্টি হয়নি? প্রশ্ন তুলেছে জার্মানির ওই গবেষকদল। ডালবাডিং বলেন, ‘‘আমাদের পৃথিবীর আদি অবস্থার সঙ্গে এই সমস্ত উপগ্রহের স্পষ্ট যোগাযোগ খুঁজে পেয়েছি আমরা। হাইড্রোজ়েনের উচ্চ ঘনত্ব গ্রহাণুর প্রভাবে এখানেও পৃথিবীর মতো প্রাণের সঞ্চার হয়ে থাকতে পারে।’’

সাধারণত নক্ষত্র থেকেই গ্রহের উৎপত্তি হয়। কিন্তু সবসময় সেই গ্রহ তার নক্ষত্রের আকর্ষণে আবদ্ধ থেকে যায় না। কোনও কোনওটি নক্ষত্রের টান কাটিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, মহাকাশে এমন বিচ্ছিন্ন গ্রহ অনেক রয়েছে। তবে তা চিহ্নিত করা বেশ কঠিন। এখনও পর্যন্ত হিসাব বলছে, প্রতিটি নক্ষত্র থেকে গড়ে ১৭ থেকে ২১টি করে গ্রহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে তাদের উপগ্রহের সংখ্যা হবে কয়েক লক্ষ কোটি।

বিচ্ছিন্ন গ্রহগুলিতে প্রাণের অনুকূল পরিস্থিতি থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ। প্রাণের স্পন্দনের জন্য সবচেয়ে জরুরি তরল জল। এখনও পর্যন্ত এমন কোনও প্রাণী বা উদ্ভিদের খোঁজ পাওয়া যায়নি, যারা জল ছাড়া বাঁচতে পারে। বিজ্ঞানীরা তাই মনে করেন, মহাকাশে প্রাণ খুঁজতে গেলে আগে তরল জল খুঁজতে হবে। তা ছাড়াও প্রাণের জন্য তাপ জরুরি। সাধারণ ভাবে গ্রহে তাপের উৎস তার নক্ষত্র। কিন্তু যে গ্রহ নক্ষত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ঘুরে বেড়ায়, তার উপগ্রহে তাপ আসবে কোথা থেকে? সেই প্রশ্নেরও উত্তর দিয়েছেন গবেষকেরা। তাঁদের মতে, তাপের একমাত্র উৎস নক্ষত্র নয়। বিচ্ছিন্ন গ্রহগুলি থেকেও তাদের উপগ্রহেরা তাপ পেতে পারে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গ্রহগুলিকে প্রদক্ষিণের সময়েই এই ধরনের উপগ্রহের অভ্যন্তরে নিজস্ব তাপ তৈরি হতে পারে। যদিও তা প্রাণ বাঁচিয়ে রাখার পক্ষে যথেষ্ট নয়। কারণ ওই তাপ মহাকাশে বিকিরিত হয়ে যাওয়ার কথা। যে সমস্ত উপগ্রহের চারপাশে কার্বন ডাই অক্সাইডের পুরু আবরণ আছে, সেগুলি অভ্যন্তরীণ তাপকে সংরক্ষণে সক্ষম। সেখানেই জন্ম নিতে পারে প্রাণ!

শুধু তাপ আর জল নয়, প্রাণের সঞ্চারের জন্য আরও কিছু শর্ত পূরণ হওয়া দরকার। তা মেনে নিয়েও নতুন গবেষণায় আশা দেখছেন বিজ্ঞানীরা। এ বিষয়ে আগামী দিনে আরও বিশদ গবেষণা প্রয়োজন।

Advertisement
আরও পড়ুন