Asteroid Hit from Earth

মহাকাশে ভাসতে থাকা গ্রহাণুতে রকেট দিয়ে ধাক্কা, বদলে গেল কক্ষপথটাই! বিজ্ঞানের ইতিহাসে এই প্রথম বার

ডিডিমস এবং ডিমরফস নামের দু’টি গ্রহাণু সৌরজগতের মধ্যেই ঘুরে বেড়ায়। ২০২২ সালে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে এসেছিল তারা। সেই সময় পৃথিবী থেকে মহাকাশযান পাঠিয়ে তাদের ধাক্কা মারা হয়েছিল। বদলে গিয়েছে তাদের কক্ষপথ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৯ মার্চ ২০২৬ ০৯:০০

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

মহাকাশের একটি গ্রহাণুকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিলেন বিজ্ঞানীরা! আঘাতের জেরে বদলে গেল তার কক্ষপথ! মহাকাশ বিজ্ঞানচর্চার ইতিহাসে এমন সাফল্য আগে কখনও আসেনি। ইচ্ছাকৃত ভাবেই গ্রহাণুটিকে ধাক্কা মারা হয়েছিল। ২০২২ সালের সেই ঘটনায় যে গ্রহাণুর কক্ষপথও বদলে গিয়েছে, এত দিনে সে সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হলেন। এই সাফল্যকে মহাকাশ বিজ্ঞানে বড়সড় মাইলফলক হিসাবে দেখা হচ্ছে।

Advertisement

ডিডিমস এবং ডিমরফস নামের দু’টি গ্রহাণু সৌরজগতের মধ্যেই ঘুরে বেড়ায়। ২০২২ সালে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে এসেছিল তারা। সেই সময় পৃথিবী থেকে এই গ্রহাণুদ্বয়ের দূরত্ব ছিল প্রায় ৬৮ লক্ষ মাইল (১.১ কোটি কিলোমিটার)। আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা সেই সময় একটি মহাকাশযান পাঠিয়েছিল। উদ্দেশ্য: ইচ্ছাকৃত ভাবে ডিমরফসকে আঘাত করা। বাইরে থেকে আঘাত করে গ্রহাণুর অবস্থান বদল করা যায় কি না, তা-ই দেখতে চেয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। নাসার সেই ডার্ট অভিযান (ডবল অ্যাসটেরয়েড রিডিরেক্‌শন টেস্ট) সফল হয়। নির্দিষ্ট সময় নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে আঘাত করে পৃথিবীর মহাকাশযান। ডিমরফসের সঙ্গে সংঘর্ষে তা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। এমনকি, ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়েছিল মহাশূন্যেও।

বিজ্ঞানীরা একটি বিষয়ে নিশ্চিত ছিলেন, কক্ষপথ পরিবর্তন না হলেও দুই গ্রহাণুর কাক্ষিক সময়কাল কিছুটা বদলাবে। ডিডিমস এবং ডিমরফস মহাকর্ষীয় আকর্ষণে একে অপরের সঙ্গে আবদ্ধ। তুলনামূলক বড় ডিডিমস (প্রায় ৭৮০ মিটার চওড়া)। তার চারপাশে একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘোরে ডিমরফস, যা চওড়ায় ১৬০ মিটার মাত্র। এই দুই গ্রহাণু আবার নির্দিষ্ট কক্ষপথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। পরীক্ষামূলক আঘাতের জন্য ছোট গ্রহাণুটিকেই বেছে নিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। সূর্যের চারপাশে ঘুরে তারা ফের পৃথিবীর কাছাকাছি আসবে ২০৬২ সালে।

ডার্ট অভিযানের জন্য ডিডিমস এবং ডিমরফসকে বেছে নেওয়ার আরও কারণ ছিল। এই গ্রহাণুদ্বয়ের কাক্ষিক সময়কাল খুব ভাল ভাবে চিহ্নিত করতে পেরেছিলেন বিজ্ঞানীরা। ফলে তার যে কোনও পরিবর্তন পরিমাপ করাও সহজ ছিল। প্রথমে মনে করা হয়েছিল, ডিডিমসকে প্রদক্ষিণ করতে ডিমরফস যে সময় নেয়, তাতে হয়তো সাত মিনিটের তারতম্য ঘটবে সংঘর্ষের পর। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, কাজ হয়েছে তার চেয়েও বেশি। কাক্ষিক সময়কাল ৩৩ মিনিট বদলেছে। এতেই উচ্ছ্বসিত ছিলেন বিজ্ঞানীরা। সাফল্য এসেছিল আশাতীত। তবে মূল অভিযানের চার বছর পরে আরও সাফল্য চোখে পড়ল। বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হলেন, শুধু কাক্ষিক সময়কালই বদলায়নি, বদলে গিয়েছে ডিমরফসের কক্ষপথও!

নাসার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছিলেন, ডার্ট অভিযান পৃথিবীর রক্ষণাত্মক পদক্ষেপ। ভবিষ্যতের কোনও মহাজাগতিক আঘাতের মোকাবিলা পৃথিবী কী ভাবে করবে, তা-ই পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে ডিমরফস গ্রহাণুকে ধাক্কা মেরে। আসলে এই ব্রহ্মাণ্ড অসংখ্য গ্রহ-উপগ্রহ, নক্ষত্র, ধূমকেতু গ্রহাণুতে ঠাসা। সৌরজগতের ভিতরে এবং বাইরে নাম না-জানা মহাজাগতিক বস্তুরাও ছড়িয়েছিটিয়ে রয়েছে। ভাসতে ভাসতে তাদের কোনও একটি যদি আচমকা চলে আসে পৃথিবীর কাছে, তবে পৃথিবীর অস্তিত্ব সঙ্কট তৈরি হতে পারে। হতে পারে বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতি, বিপর্যয়। এই সম্ভাবনা প্রথম থেকেই বিজ্ঞানীদের ভাবিয়েছে। তার প্রতিকারের উপায়ও খুঁজতে গিয়েই ডার্ট অভিযানের পরিকল্পনা। প্রযুক্তি দিয়ে পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা কোনও মহাজাগতিক বস্তুর মোকাবিলা যে করা যাবে, ডার্ট তার ইঙ্গিত দিল মাত্র। বিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, এটা সবে শুরু। আগামী দিনে প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করা দরকার। প্রকাণ্ড শক্তিশালী কোনও গ্রহাণুর মোকাবিলা করতে হবে পৃথিবীর প্রযুক্তি কতটা কাজে লাগবে, তা নিয়ে এখনও সন্দিহান অনেকে। তাঁরা মানছেন, এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

ডার্ট অভিযানের আর কী কী প্রভাব ডিমরফস গ্রহাণুর উপর পড়েছে, তা খুঁটিয়ে দেখতে আগ্রহী বিজ্ঞানীরা। চলতি দশকের শেষে ইউরোপীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা তাদের হেরা মহাকাশযানকে পাঠাবে ডিডিমস-ডিমরফস গ্রহাণুদ্বয়ের কাছে। ধাক্কার ফলে ডিমরফসে কী ধরনের গর্ত তৈরি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। আরও তথ্য মিলতে পারে সেই পর্যবেক্ষণ থেকে।

Advertisement
আরও পড়ুন