National Boxing Championships

জাতীয় বক্সিংয়ে অব্যবস্থা, ফাইনালের আগের রাতে কনকনে ঠান্ডায় হোটেল থেকে বার করে দেওয়া হল কোচ-খেলোয়াড়দের!

জাতীয় বক্সিংয়ে অব্যবস্থা। ফাইনালের আগের রাতে ঠিক মতো বিশ্রামই নিতে পারলেন না একাধিক দলের খেলোয়াড়। হোটেল থেকে বের করে দেওয়া হয় তাঁদের। কনকনে ঠান্ডায় রাস্তায় কাটাতে হল কয়েক ঘণ্টা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৩২
Picture of Boxing

—প্রতীকী চিত্র।

জাতীয় বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে অব্যবস্থা। প্রতিযোগিতার ফাইনালের আগের রাতে ঘর থেকে বার করে দেওয়া হল বিভিন্ন দলের খেলোয়াড়, কোচ এবং সাপোর্ট স্টাফদের। শুক্রবার খেলা শেষ হওয়ার পর হোটেলে ফিরে বিভিন্ন দলের খেলোয়াড়েরা দেখেন তাঁদের সব ব্যাগ ঘর থেকে বার করে দেওয়া হয়েছে। এমন অব্যবস্থা নিয়ে বক্সিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Advertisement

গ্রেটার নয়ডার গৌতম বুদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে হচ্ছে এ বারের জাতীয় বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপ। সেখানে রাতে তাপমাত্রা নেমে যাচ্ছে ৬-৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। শুক্রবার রাতের কয়েক ঘণ্টা ওই ঠান্ডায় এক রকম খোলা আকাশের নীচে কাটাতে হয়েছে বিভিন্ন রাজ্যের খেলোয়াড় এবং কোচদের। সমস্যায় পড়ে তেলঙ্গানা, কেরল, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, কর্নাটক, গোয়া, পঞ্জাব, তামিলনাড়ু এবং ছত্তীসগড় দল। নয়ডার বিভিন্ন হোটেল এবং লজে খেলোয়াড়দের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সব জায়গা থেকেই তাঁদের বার করে দেওয়া হয়। এমন অব্যবস্থায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে জাতীয় স্তরের বক্সারদের মধ্যে।

এমন ঘটনায় ছোট বিবৃতি দিয়ে দায় সেরেছেন বক্সিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার কর্তারা। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘সমস্যার কথা জানার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গৌতম বুদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়েই বা কাছাকাছি কোনও জায়গায় খেলোয়াড়, কোচদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সকলে যাতে ভাল ভাবে ঘুমোতে পারে, তা নিশ্চিত করা হয়েছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে।’’ এই বিবৃতিকে দায়সারা মনে করেছেন খেলোয়াড়েরা। অব্যবস্থার জন্য দুঃখ প্রকাশের সৌজন্যটুকুও আয়োজকেরা দেখাননি বলে অভিযোগ।

এক বক্সিং কোচ সর্বভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘‘প্রতিযোগিতার জায়গা থেকে ফিরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ আমরা বিষয়টা জানতে পারি। আমাদের দলের সকলকে দ্রুত ঘর খালি করে দিতে বলা হয়। জানানো হয়, শুক্রবার পর্যন্তই ঘরের বুকিং করা ছিল। আমাদের গভীর রাত পর্যন্ত রাস্তাতেই থাকতে হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়।’’ আর একটি দলের কোচ বলেছেন, ‘‘কাল আমাদের একাধিক বক্সার ফাইনাল খেলতে নামবে। শুক্রবার ৪০টা সেমিফাইনাল ছিল। সব দলের খেলোয়াড়েরাই ক্লান্ত। ওদের বিশ্রাম প্রয়োজন। রাতের খাওয়াটাও ঠিক ভাবে খেতে পারেনি ওরা। অথচ কী অব্যবস্থা! জানি না কেন এমন হল। এটাই প্রথম নয়। আমরা বৃহস্পতিবারও ঘর নিয়ে সমস্যায় পড়েছিলাম। সব দেখে মনে হচ্ছে না, এই অব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা।’’

ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন বিভিন্ন রাজ্যের কর্তারাও। এক জন বলেছেন, ‘‘খেলোয়াড়দের থাকা এবং খাওয়ার ব্যবস্থা ঠিকমতো করা আয়োজকদের ন্যূনতম দায়িত্ব। সেটুকু ঠিক ভাবে করতে না পারলে এমন প্রতিযোগিতা আয়োজনের দায়িত্ব কেন নিয়েছে? আমাদের খেলোয়াড়েরা পর্যাপ্ত বিশ্রামই পেল না। কী ভাবে ফাইনালে নামবে ওরা?’’

বক্সিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার এক কর্তা বলেছেন, ‘‘প্রথমে প্রতিযোগিতা হওয়ার কথা ছিল ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৭ জানুয়ারি। সেই মতো সব ব্যবস্থা করা ছিল। পরে প্রতিযোগিতার দিন বদলে হয়েছে ৪ থেকে ১০ জানুয়ারি। সে জন্যই সমস্যা হয়েছে। বিষয়টা জানার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’’ পরিস্থিতি সামাল দিতে রাতে যে সব দল নিজেরা হোটেলের ব্যবস্থা করেছে, তাদের বিল ফেডারেশন মিটিয়ে দেবে বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

Advertisement
আরও পড়ুন