IPL 2026

বিশেষ একটি ম্যাচ খেলার জন্যই ক্রিকেটকে পেশা করেছেন অভিষেক! ফর্ম ফিরে পাওয়ায় যুবরাজ ছাড়াও কৃতিত্ব দিয়েছেন আরও এক জনকে

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় রান পাচ্ছিলেন না অভিষেক শর্মা। আইপিএলে আবার ফর্ম ফিরে পেয়েছেন। প্রতিযোগিতা শুরুর আগে এক সতীর্থের পরামর্শ মেনে অনুশীলন করার সুফল পাচ্ছেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০২ মে ২০২৬ ১৫:৩৯
picture of cricket

অভিষেক শর্মা। —ফাইল চিত্র।

অভিষেক শর্মার বড় হওয়া ক্রিকেটীয় পরিবেশের মধ্যে। তাঁর বাবা পঞ্জাবের হয়ে রঞ্জি ট্রফি খেলেছেন। অবসরের পর কোচিং করান। ছোট থেকেই ক্রিকেটার বাবার উৎসাহ পেয়েছেন। তবু একটি বিশেষ ম্যাচ খেলার জন্য ক্রিকেটকে পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছেন ওপেনিং ব্যাটার।

Advertisement

আইপিএলের মাঝে এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্রিকেট-প্রেম নিয়ে কথা বলেছেন অভিষেক। ২৫ বছরের ব্যাটার বলেছেন, ‘‘আমার বাড়িতে ক্রিকেটের একটা পরিবেশ ছিলই। বাবা পঞ্জাবের হয়ে খেলেছেন। এখন কোচিং করান। বাবাকে দেখেই ক্রিকেট নিয়ে প্রথম আগ্রহ তৈরি হয়। টেলিভিশনে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বা বিশ্বকাপের খেলা দেখে খুব উৎসাহ পেতাম। বিশেষ করে ভারত-পাক ম্যাচগুলো অনুপ্রাণিত করত। মনে হতো, আমাকেও ওরকম খেলতে হবে। ওই ম্যাচগুলো খেলতে চাইতাম।’’

ক্রিকেটকে পেশা হিসাবে নেওয়ার কথা কবে ভাবলেন? জিয়োস্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিষেক বলেছেন, ‘‘তখন আমি বেশ ছোট। ব্যাট, বল দুটোই করতে ভাল লাগত। সে সময় একটা অনূর্ধ্ব-১২ প্রতিযোগিতায় খেলেছিলাম। বেশ ভাল পারফর্ম করেছিলাম। অনেক রান করেছিলাম। কিছু উইকেটও পেয়েছিলাম। ওই প্রতিযোগিতার পর মনে হয়েছিল, আমার মধ্যে ক্রিকেট নিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ার মতো প্রতিভা রয়েছে।’’

এখনকার অভিষেক হয়ে ওঠার নেপথ্যে যুবরাজ সিংহের অবদানের কথা জানেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। আরও একজনকে দেখে শেখেন ভারতীয় দলের ওপেনার। তিনি অস্ট্রেলিয়ার ট্রেভিস হেড। এ নিয়ে অভিষেক বলেছেন, ‘‘যুবি পাজির কাছে অনুশীলনের সুযোগ আমায় বদলে দিয়েছে। আমার ক্রিকেটজীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ এটা। ছোট থেকে যুবি পাজির ভক্ত ছিলাম। উনিই আমার আদর্শ। আগেও যুবি পাজির কাছে নানা পরামর্শ পেয়েছি। তবে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল না। কোভিড লকডাউনের সময় আসল সুযোগটা এল। যুবি পাজির মনে হয়েছিল, ওই সময় কয়েক জনকে ভাল করে শেখাতে পারবেন। সময় এবং সুযোগ কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন। আমি ভাগ্যবান, ওই কয়েক জনের মধ্যে সুযোগ পেয়েছিলাম।’’

অভিষেক আরও বলেছেন, ‘‘শিবির শুরুর সময় যুবি পাজি আমাদের কয়েকটা কথা বলেছিলেন। বিশ্বাস করি, তাঁর ওই কথাগুলোই আমাকে বদলে দিয়েছে। উনি বলেছিলেন, ‘ক্রিকেট ছাড়াও মানসিকতা তৈরির যে প্রশিক্ষণ দেব, সেটা ঘরোয়া ক্রিকেট বা আইপিএল খেলার জন্য নয়। দেশের জন্য কয়েকটা ম্যাচ খেলার জন্যও কিছু শেখাতে চাই না। দেশকে বড় বড় ম্যাচ জেতাতে হবে তোমাদের। সে ভাবেই তোমাদের তৈরি করতে চাই। বড় ম্যাচে তোমাদের প্রভাব তৈরি করতে হবে। কার্যকর পারফরম্যান্স করতে হবে। ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলতে হবে। সবচেয়ে প্রয়োজনের সময় সেরা বলটা করতে হবে।’’’

কোনও সমস্যা হলে যুবরাজকে প্রথম ফোন করেন অভিষেক। সুযোগ থাকলে তাঁর কাছে গিয়ে ভুল শুধরে নেন। শেষ পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতা অনেকটা তৈরি হয়েছে হেডকে দেখে। অভিষেক বলেছেন, ‘‘হেডকে আমি অনেক দিন ধরে অনুসরণ করি। ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদে যোগ দেওয়ার অন্তত দেড় বছর আগে থেকে। সতীর্থ হিসাবে হেডকে পেয়ে খুব খুশি হয়েছিলাম। প্রথম সুযোগেই জানতে চেয়েছিলাম, কেমন মানসিকতা নিয়ে ব্যাট করতে নামে। ও যে ভাবে তিন ধরনের ক্রিকেট খেলে এবং বোলারদের ঘাড়ে চেপে বসে, সেটা দারুণ। হেড আমাকে বলেছে, খুব সাধারণ পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাট করতে নামে। ও বলেছে, ‘বলের উপর চোখ রাখবে। যদি মনে হয় মারতে পারবে, তা হলে অন্য কিছু আর ভাববে না। প্রথম বল হলেও ব্যাট চালাবে।’ হেডের পরামর্শ মতো আইপিএলের আগে অনুশীলন করেছি। এখন পছন্দের জায়গায় বল পেলেই মারি। প্রথম বল হলেও ছাড়ি না।’’

হেডের পরামর্শ তাঁর ব্যাটিংয়ের ধার আরও বাড়িয়েছে বলে মনে করেন অভিষেক। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় রান পাচ্ছিলেন না। আইপিএলে আবার চেনা মেজাজে। অস্ট্রেলীয় সতীর্থের পরামর্শ ব্যাটে রান ফেরাতে সাহায্য করেছে বলে জানিয়েছেন অভিষেক।

Advertisement
আরও পড়ুন