ICC T20 World Cup 2026

জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে নামার ঠিক আগে স্বস্তি ভারতের, ওয়েস্ট ইন্ডিজ়কে উড়িয়ে দিয়ে সূর্যদের সুবিধা করে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা

চেন্নাইয়ে নামার আগে ভারতের চোখ ছিল অহমদাবাদে। সূর্যকুমার যাদবেরা মনেপ্রাণে চাইছিলেন যাতে দক্ষিণ আফ্রিকা জেতে। সেটাই হল। জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে নামার আগে কিছুটা স্বস্তি পেল ভারতীয় দল।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:১৫
cricket

সূর্যকুমার যাদব। ছবি: পিটিআই।

চেন্নাইয়ে নামার আগে ভারতের চোখ ছিল ১৪০৪ কিলোমিটার দূরের অহমদাবাদে। সেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের মুখোমুখি হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সূর্যকুমার যাদবেরা মনেপ্রাণে চাইছিলেন যাতে দক্ষিণ আফ্রিকা জেতে। সেটাই হল। ব্যাটারদের দাপটে বিশেষ কষ্ট না করেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ়কে ৯ উইকেটে হারিয়ে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা। বড় ব্যবধানে জেতায় ভারতের সুবিধা হল। বাকি দু’টি ম্যাচে জিতলে তাদের আর নেট রান রেটের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে না।

Advertisement

অপরাজিত অর্ধশতরান করে দলকে জেতালেন এডেন মার্করাম, যিনি ভারতকে হারাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। প্রথমে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ় তুলেছিল ১৭৬/৮। জবাবে ১ উইকেট হারিয়েই জয়ের রান তুলে ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের নেট রান রেটও (১.৭৯১) খানিকটা ধাক্কা খেল। অন্য দিকে, দক্ষিণ আফ্রিকার সেমিফাইনাল কার্যত নিশ্চিত। তাদের রান রেট ২.৮৯০।

টসে জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়কে আগে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। কেশব মহারাজ বোলিং শুরু করেন। শুরুতেই তাঁকে দু’টি ছয় এবং একটি চার মেরে শুরুটা ভাল করেন শাই হোপ। উল্টো দিকে, ব্রেন্ডন কিংও খারাপ খেলছিলেন না। তিনি মার্কো জানসেনকে আক্রমণ করেন। দু’ওভারেই ২৯ তুলে দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ়।

দক্ষিণ আফ্রিকাকে ম্যাচে ফেরান কাগিসো রাবাডা। তিনি হোপকে আউট করেন। করবিন বশ যদি শিমরন হেটমায়ারের ক্যাচ না ফেলতেন, তা হলে দু’বলে দু’উইকেট নিতে পারতেন তিনি। তবে তিন বল পরেই হেটমায়ারকে (২) ফেরান রাবাডা।

চতুর্থ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়কে জোড়া ধাক্কা দেন লুনগি এনগিডি। কিং দু’টি চার মেরেছিলেন। তার পরেই ক্যারিবিয়ান ওপেনারকে ফেরান এনগিডি। দু’বল পরে রস্টন চেজ়ের (২) স্টাম্প নড়িয়ে দেন। ১০ বলের ব্যবধানে চারটি উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। চার ওভারের শেষে তাদের স্কোর দাঁড়ায় ৪৪ রানে ৪ উইকেট।

কিছু ক্ষণ পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করেছিলেন শেরফানে রাদারফোর্ড। বশকে মিডউইকেটের উপর দিয়ে একটি দর্শনীয় ছয় মারেন। পরের বলেই ফিরে যান। রভমান পাওয়েলকে (৯) ফিরিয়ে তৃতীয় উইকেট নেন এনগিডি। ৮৩ রানে ৭ উইকেট হারানো ওয়েস্ট ইন্ডিজ়কে দেখে মনে হচ্ছিল, তাদের গুটিয়ে যাওয়া সময়ের অপেক্ষা।

অন্য রকম ভেবেছিলেন জেসন হোল্ডার এবং রোমারিয়ো শেফার্ড। অষ্টম উইকেটে ৭৯ রানের জুটি গড়েন তাঁরা। দক্ষিণ আফ্রিকার যে বোলারেরা এত ক্ষণ চাপে রেখেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ়কে, তাঁদের বিরুদ্ধেই পাল্টা আক্রমণ করেন হোল্ডার এবং শেফার্ড। ফলে এনগিডি, মহারাজ, জানসেন কেউ ছাড় পাননি। জানসেনের একটি ওভারে দু’টি ছয় এবং দু’টি চার মেরে ২৩ রান নেন হোল্ডার।

তবে দক্ষিণ আফ্রিকা যে এত সহজে রান তাড়া করে ফেলবে তা অনেকেই ভাবতে পারেননি। প্রথম ওভারে ম্যাথু ফোর্ডকে দু’টি চার মেরে শুরু করেন কুইন্টন ডি কক এবং মার্করাম। সময় যত এগোতে থাকে তত প্রোটিয়াদের দাপট বাড়তে থাকে। পাঁচ ওভারে পঞ্চাশের গণ্ডি পেরিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। শামার জোসেফ প্রথম ওভারেই দেন ১৬ রান।

অর্ধশতরানের দিকে এগোতে থাকা ডি কক অষ্টম ওভারে আউট হন চে‌জ়ের বলে। ২৪ বলে ৪৭ রানের ইনিংসে তিনি চারটি চার এবং চারটি ছয় মেরেছেন। পরের ওভারেই অর্ধশতরান পূরণ করেন মার্করাম। ১৪তম ওভারে চেজ়কে তিনটি ছয় মারেন তিনি। তত ক্ষণে অবশ্য বোঝা যাচ্ছিল ম্যাচ কে জিততে চলেছে। আর কোনও উইকেট হারায়নি দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৭তম ওভারের প্রথম বলে হোল্ডারকে চার মেরে দক্ষিণ আফ্রিকাকে জিতিয়ে দেন মার্করাম। সাতটি চার এবং চারটি ছয়ের সাহায্যে তিনি ৪৬ বলে ৮২ রানে অপরাজিত থাকেন। উল্টো দিকে রায়ান রিকেলটন চারটি চার এবং দু’টি ছয়ের সাহায্যে ২৮ বলে ৪৫ রানে অপরাজিত থাকেন।

Advertisement
আরও পড়ুন