Sourav Ganguly

ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে চিঠি সৌরভের, প্রশ্ন তুললেন সিএবির প্রাক্তন সভাপতি অভিষেকের খোলা চিঠি নিয়ে

সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁকে একটি চিঠি দেন। সেখানে সমালোচনা করা হয়েছে গত ১৩ জুন প্রাক্তন সভাপতি অভিষেক ডালমিয়ার খোলা চিঠির।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬ ১৮:২৮
cricket

ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ-এর সঙ্গে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ছবি: সমাজমাধ্যম।

বুধবার পশ্চিমবঙ্গের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁর সঙ্গে দেখা করলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সিএবি-র সভাপতি হিসেবে সৌরভ ক্রীড়ামন্ত্রীকে একটি চিঠি দেন। সেখানে সিএবি কী ভাবে এই রাজ্যের ক্রিকেট পরিচালনা করে, তার যেমন উল্লেখ রয়েছে, তেমনি সমালোচনা করা হয়েছে গত ১৩ জুন প্রাক্তন সভাপতি অভিষেক ডালমিয়ার খোলার চিঠির।

Advertisement

সৌরভের সঙ্গে ছিলেন সিএবি-র কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাসও। সৌরভ, সঞ্জয় ছাড়াও সিএবি-র সহ সভাপতি নীতীশ রঞ্জন দত্ত, সচিব বাবলু কোলে এবং প্রাক্তন যুগ্ম সচিব মদন মোহন ঘোষ যৌথ ভাবে ওই তিন পাতার চিঠি দিয়েছেন।

গত ১৩ জুন ইন্দ্রনীল খাঁকে একটি খোলা চিঠি দিয়েছিলেন অভিষেক। সেই চিঠি প্রসঙ্গে সৌরভ তাঁর চিঠিতে লিখেছেন, ‘‘প্রাক্তন সভাপতি তাঁর ফেসবুক পেজের মাধ্যমে জনসমক্ষে একটি খোলা চিঠি প্রচার করেছেন। ওই চিঠিতে দুর্নীতি, অবক্ষয় এবং দল নির্বাচনের সততা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ফুটবল, হকি-সহ ময়দানের বৃহত্তর বিষয়গুলি আমাদের এক্তিয়ারের বাইরে। কিন্তু আমরা লোধা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্ধারিত সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাগুলি আপনার নজরে আনতে চাই।’’

চিঠিতে আরও লেখা হয়েছে, ‘‘ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এবং প্রতিটি রাজ্যের ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন এই বাধ্যবাধকতা মেনেই চলে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিটি রাজ্য সংস্থা ওমবাডসম্যান এবং এথিক্স অফিসারের একটি স্বাধীন দফতরের অধীনে কাজ করে। হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বা সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। সিএবি-ও এই ভাবেই পরিচালিত হচ্ছে। গত দু’বছর ধরে ক্যালকাটা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য দু’টি দায়িত্বেই রয়েছেন। এই ফোরামে যে অভিযোগই আসে, তা আইন মেনে নিরপেক্ষতা এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। এখানে পদাধিকারীদের কোনও রকম হস্তক্ষেপ থাকে না। যে কোনও ক্রিকেটার, কোচ, অভিভাবক বা প্রশাসক ওমবাডসম্যানের কাছে সরাসরি অভিযোগ জানানোর এবং সেই সংক্রান্ত তথ্য পেশ করার সুযোগ পান।’’

সিএবি-র প্রাক্তন পদাধিকারীদের কথা তুলে ধরে সৌরভ চিঠিতে লেখেন, ‘‘গত ৩০ বছরে বিশ্বনাথ দত্ত, জগমোহন ডালমিয়া, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, অভিষেক ডালমিয়া এবং স্নেহাশীষ গঙ্গোপাধ্যায়রা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাবলু কোলে, বিশ্বরূপ দে ও বাবলু গঙ্গোপাধ্যায়েরা সচিব হয়েছেন। এত দিন পর্যন্ত সিএবি-র বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ ওঠেনি। কিন্তু সাম্প্রতিক চিঠিটির মাধ্যমে এমন একটি ছবি তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে যেন তাঁর নিজের মেয়াদকাল ছাড়া বাকি সকল প্রশাসকের সময়েই নানা অসঙ্গতি ছিল। সিএবি-তে এমন অনেক প্রশাসক রয়েছেন, যাঁরা নিঃস্বার্থ ভাবে কাজ করছেন, এমনকি নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থও নিয়োগ করেছেন। তাঁদের অধিকাংশের ওপর ঢালাও অনিয়মের অভিযোগ আনা বাস্তব সত্যের বিকৃতি। এটি আশ্চর্যজনক। এটি তাঁদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সদিচ্ছাকে অবমাননা করা। সিএবি-র কোনও প্রাক্তন সভাপতি বা সচিব এর আগে কখনও এই ধরনের খোলা চিঠি প্রকাশ করেননি। সিএবি-র প্রত্যেকে এতে বিস্মিত।’’

ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সৌরভ ও সিএবি-র কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস ।

ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সৌরভ ও সিএবি-র কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস । ছবি: সংগৃহীত।

অভিষেক যে পৃথক হেল্পলাইনের দাবি তুলেছেন, তার সঙ্গে সহমত সৌরভেরা। ক্রীড়ামন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘‘এই ধরনের অভিযোগ এমন এক জন প্রাক্তন প্রশাসকের কাছ থেকে এসেছে, যিনি ২০২২ সাল পর্যন্ত সচিব এবং সভাপতি হিসেবে ছিলেন এবং যাবতীয় প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে পরিচিত ছিলেন। উনি ২০২২ সাল থেকে আজ পর্যন্ত সিএবি-র কোনও অনিয়ম নিয়ে কোনও অভিযোগ করেননি। ফলে একটি পৃথক দুর্নীতিদমন হেল্পলাইনের দাবি সিএবি-র ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে ওমবাডসম্যান ইতিমধ্যেই সাংবিধানিক ভাবে এই বিষয়গুলি পরিচালনা করছেন। আমরা আপনার কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, যত দ্রুত সম্ভব এই ধরনের হটলাইন চালুর বিষয়টি বিবেচনা করুন।’’

প্রাক্তন সভাপতি কেন এই সময়ে খোলা চিঠি লিখতে গেলেন, সেই প্রশ্ন তুলে সৌরভ লিখেছেন, ‘‘গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা উচিত যে, কেন প্রাক্তন প্রশাসক শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ ফোরামগুলিকে এড়িয়ে গিয়ে ঠিক এই সময়ে একটি জনমত তৈরি করতে চাইছেন।’’

চিঠির শুরুতে লেখা হয়, ‘‘সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ক্রিকেটের সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে আমাদের যে প্রতিশ্রুতি, তা নিশ্চিত করতে এই চিঠি। আপনার ক্রীড়া দফতরকে আশ্বস্ত করতে চাই, এই রাজ্যের যুবকদের স্বপ্ন একটি শক্তিশালী, স্বাধীন এবং আইনি প্রশাসনিক কাঠামোর দ্বারা সুরক্ষিত।’’

ক্রীড়ামন্ত্রীকে সিএবি পরিদর্শন করার জন্য এবং ১৪০ জন সদস্যের সঙ্গে কথা বলার জন্য অনুরোধ জানানো হয় ওই চিঠিতে।

Advertisement
আরও পড়ুন